রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৬

শ্রম বাজার খোলার তাগাদা দিতে সৌদি আরব যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

শ্রম বাজার খোলার তাগাদা দিতে সৌদি আরব যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

শীর্ষবিন্দু নিউজ: দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশিদের জন্য সুবাতাস নেই সৌদির শ্রম বাজারে। নতুন কোন বাংলাদেশি শ্রমিক দেশটিতে প্রবেশই করতে পারছে না। বহুদিনের কূটনৈতিক দেন-দরবারের পরও সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভাগ্য খোলা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে এবার উদ্যোগী হয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশিদের জন্য সৌদির শ্রমবাজার খোলার তাগাদা দিতে এবার সৌদি আরব যাচ্ছেন তিনি।

আগামী মাসেই প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য এই সৌদি সফর বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে এখনও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি। দু’দেশের সুবিধাজনক সময়ে তারিখ নির্ধারণ হবে। এরইমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসও প্রধানমন্ত্রীর সফরের করণীয় তৈরি করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রধানমন্ত্রীর ‍আসন্ন সফরে সৌদি সরকারের সঙ্গে শ্রম ইস্যু ছাড়াও আরো কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা স্বাক্ষর হতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। ১৯৭৬ সালে মাত্র ২১৭ জন শ্রমিক প্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য উন্মুক্ত হয় সৌদির শ্রমবাজার। ধীরে ধীরে এই বাজার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজারে পরিণত হয়। ২০০৭ সাল ছিল বাজারটির সর্বোচ্চ সময়। সে বছর দুই লাখ চার হাজার একশ ১২ জন শ্রমিক যায় দেশটিতে। এর পর সংখ্যা শুধু কমতেই থাকে। ২০০৯ সালের শেষের দিকে এসে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া একেবারে কমিয়ে দেয় সৌদি। এমন কি বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজের জন্য নতুন ভিসা, আকামা নবায়ন ও পরিবর্তনও বন্ধ করা হয়।

তবে ২০১৩ সালে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি অবৈধ শ্রমিকদের জন্য অ্যামনেস্টির সুবিধা দেয় সৌদি সরকার। তখন বলা হয়, অ্যামনেস্টি শেষ হলেই বাজারটিতে আবার প্রবেশ করবে নতুন বাংলাদেশি শ্রমিক। কিন্তু অ্যামনেস্টির সুযোগে বহু অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক বৈধ হওয়ার সুযোগ পেলেও নতুনরা দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আশাবাদী হয়ে উঠছে শ্রম বাজার সংশ্লিষ্টরা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সৌদিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুনাম থাকলেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় তাদের বিষয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে দেশটি। এছাড়া অদক্ষ শ্রমিক নিতেও নারাজ সৌদি সরকার। তাই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বাংলাদেশিরা যাতে সেখানে যেতে না পারে, সে ব্যাপারে ঢাকাস্থ দূতাবাসকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কর্মীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কাজে দক্ষতার শর্ত দেওয়া হবে বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, বাংলাদেশিদের ব্যাপারে সৌদির খারাপ ধারণা তৈরি হয়েছিলো এবং অনেক ক্ষেত্রে এর প্রমাণও পেয়েছে সৌদি সরকার। বহু কুটনৈতিক চেষ্টার ফলে এখন ভিসা দেওয়া বাদে বাংলাদেশিদের সব সুবিধা অন্যান্য দেশের মতই অব্যাহত আছে, যা কিছুদিন আগেও ছিলো না। ভিসা দেওয়ার  বিষয়েও সৌদি প্রশাসনের ইতিবাচক মনোভাব আছে বলেও জানান তিনি।

সৌদিতে শ্রম বাজার উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বেশ আশাবাদী। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, সৌদি সরকার নতুন করে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে। বাজারটি এখন বন্ধ আছে বিষয়টি সত্য নয়। এ মাসেও বেশ কিছু শ্রমিক দেশটিতে গেছে। তবে দেশটিতে বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় তাদের শ্রমিক নেওয়ার ক্ষমতার কথাও ভাবতে হবে।

তবে সরকারের দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার পর বাজারটি আবার খুলতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই সেখোনে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের দেশটির আইন-কানুন মেনে চলা উচিত। কারণ, তাদের অপরাধের জন্যই বিরাট বিরাট বাজার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সৌদির শ্রম বাজার বন্ধের পর থেকে বাজারটি উন্মুক্ত করতে সরকারিভাবে নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি সফরকালে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম বাজার উন্মুক্ত করতে সেদেশের সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এছাড়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনও কয়েকবার সৌদি সফর করে একই অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ২০১১ সালের এপ্রিলে সৌদি আরবে বেসরকারি নিয়োগকর্তাদের সংগঠন ‘সৌদি ন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট কমিটি’ র সভাপতির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশ সফর করেন।
এসবের ধারাবাহিকতায় প্রায় এক বছর ধরে সৌদি সরকার অ্যামনেস্টির সুযোগ দেয়। সে সময়ে সাধারণ ক্ষমা পায় অংসখ্য বাংলাদেশি শ্রমিক। সৌদি আরবস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেদ্দা থেকে প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশিকে কনস্যুলেট সেবা দেয়ার কথা জানায়। তবে এপর্যন্ত কত বাংলাদেশি বৈধ হতে পেরেছেন এবং কতজন একেবারে সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন এ সংক্রান্ত সঠিক কোন তথ্য নেই দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025