শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫

আটক ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাকে নিয়ে দ্বন্ধে গোয়েন্দারা

আটক ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাকে নিয়ে দ্বন্ধে গোয়েন্দারা

নিউজ ডেস্ক: পুলিশ খুন করে জঙ্গি ছিনতাইয়ে অংশগ্রহণকারী ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাকে নিয়ে দ্বন্ধে পড়েছে র‌্যাব-পুলিশ। ছিনতাই মিশনে সশরীরে অংশগ্রহণের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার কর্মকর্তা ইলিয়াস উদ্দিনকে আটক করেছে র‌্যাব। গত বুধবার দুপুরে র‌্যাব সদর দপ্তরে জঙ্গি ছিনতাইয়ের মিশনে অংশগ্রহণকারী অন্যদের সঙ্গে তাকেও হাজির করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

কিন্তু ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাদের দাবি, জঙ্গি ছিনতাইয়ের দিন অফিস করেছেন ইলিয়াস। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর রয়েছে তার। তাহলে কি স্বাক্ষর দিয়েই মিশনে গিয়েছিলেন ইলিয়াস! নাকি তাকে অপারেশনের সুযোগ করে দিয়ে বিষয়টি অন্যদিকে প্রভাবিত করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষই তাকে আগে বা পরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের সুযোগ করে দিয়েছে?

এসব প্রশ্ন সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি জঙ্গিদের আর্থিক লেনদেনে জামায়াত-শিবিরের সবচেয়ে শক্তিশালী এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহৃত হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবলকে হত্যা করে দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ জঙ্গি সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন, বোমা মিজান ও রাকিবকে ছিনিয়ে নেয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সশস্ত্র ক্যাডাররা।

র‌্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের দেয়া তথ্যমতে, ভালুকা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান কামাল ওরফে যুবরাজের নির্দেশে ছিনতাই হওয়া জঙ্গিদের পালিয়ে যেতে সশরীরে সহায়তা করেন ময়মনসিংহ ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার ইলিয়াস উদ্দিন (৩৪), ময়মনসিংহ হোমিওপ্যাথিক কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইউসুফ আলী সোহাগ (১৮), স্থানীয় গণজাগরণ টিউটিরিয়াল কোচিং সেন্টারের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন সবুজ (৩৫), সহকারী শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক স্বপন (২৮) এবং ভালুকা উপজেলার পানিবান্দা গ্রামের বছির, মোর্শেদ ও সোহেল।

তবে শুক্রবার ভালুকায় স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে আতাউর রহমান কামালের বাবা ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও স্থানীয় উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মজিবর রহমানের দাবি, আমার সন্তানকে নিয়ে যা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার, অসত্য এবং আমার ছেলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা ধ্বংস করার গভীর চক্রান্ত। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সন্তানের সব কাজের দায়িত্ব নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, আমার ছেলে সম্পর্কে অভিযোগের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক সময় ছাত্র শিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলেন ইলিয়াস। তার বাড়ি ভালুকা উপজেলায়। তার নেতৃত্বে ময়মনসিংহে জেএমবি জঙ্গিদের নতুন নেটওয়ার্ক জোরদার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জঙ্গি ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাকে আটকের পর থেকেই জেলাব্যাপী জঙ্গি তৎপরতায় ইসলামী ব্যাংকের সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা কানাষুঘা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে জামায়াত-শিবির। ইসলামী ব্যাংক জামায়াত-শিবিরের অর্থের যোগানদাতা প্রতিষ্ঠান। মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যাওয়া জঙ্গিদের কোমর সোজা করে দাঁড়াতে ইসলামী ব্যাংক তাদের কর্মকর্তা ইলিয়াস উদ্দিন মারফত পেছন থেকে কোন ভূমিকা রেখেছে কীনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সূত্র জানায়, প্রায় দু’বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পেশ করা ৩৩৫ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক বিশ্বজুড়ে জঙ্গি সম্পৃক্ততায় পরোক্ষভাবে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। জঙ্গিপ্রবণ ময়মনসিংহে জঙ্গিদের অর্থায়নে এ ব্যাংকটি ব্যবহৃত হয় বলেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ উঠতে থাকে। বিশেষ করে জেএমবি’র সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে দীর্ঘ সময় ময়মনসিংহে অবস্থান করেন। একাধিকবার তিনি সাংগঠনিক বৈঠক করেন জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমানের সঙ্গেও। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা ও ভালুকায় ছিল তাদের শক্তিশালী জঙ্গি নেটওয়ার্ক।

ওই সময়ে মুক্তাগাছার রামপুর গ্রাম থেকে বাংলা ভাই র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার মাধ্যমেই তারা বিভিন্ন সময় আর্থিক লেনদেন করতেন বলেও মিডিয়ায় বিভিন্ন সময় তথ্য উঠে আসে। দীর্ঘদিন গোপন থাকার পর ত্রিশালে কমান্ডো স্টাইলে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তার সক্রিয় অংশগ্রহণ স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ইসলামী ব্যাংকের জঙ্গি অর্থায়ন নিয়ে সন্দেহ-সংশয়ের মাত্রাকে আরো ঘনীভূত করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে গোয়েন্দারাও এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজেদুর রহমান বলেন, ১৫ দিন পরে আমি ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে তথ্য জানাবো। এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। তবে এ ধরনের কথাবার্তার কোন ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন ইসলামী ব্যাংক ময়মনসিংহ প্রধান শাখার ম্যানেজার বশির আহমেদ। তিনি বলেন, জঙ্গি ছিনতাইয়ের দিন ইলিয়াস ব্যাংকে ছিলেন। হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর রয়েছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026