শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: আজ ১১ই মে রোববার। আজ বিশ্ব মা দিবস। মায়ের মমতা, ত্যাগ ও মর্যাদা স্মরণ করার দিন। মা শব্দটি খুবই ছোট, কিন্তু মধুর। মায়ের চেয়ে মধুর ডাক পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। ছোট এই শব্দটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মায়ের স্নেহ-মমতা আর গভীর ভালোবাসার কথা।
জীবনের গভীর সংকটে প্রথম যাকে স্মরণ করি তিনি হচ্ছেন পরম মমতাময়ী মা। তাই মায়ের চেয়ে বড় কিছু পৃথিবীতে নেই। মা উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ে যে আবেগ ও অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাতে অনাবিল সুখের প্রশান্তি নেমে আসে। মা শিশুর সার্বজনীন ভাষা। আমরা মায়ের কাছেই প্রথম কথা বলা শিখি। মা প্রথম কথা বলা শেখান বলেই মায়ের ভাষা হয় মাতৃভাষা। সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা সহজাত গুণ। এই ভালোবাসার কারণেই সুন্দর সৃষ্টির ধারা প্রবাহমান।
মা হলেন মমতা-নিরাপত্তা-অস্তিত্ব-নিশ্চয়তা ও আশ্রয়। মা সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, ফিলোসফার, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বড় বন্ধু। মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোনো দিন নেই। মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রতি মুহূর্তের। তারপরও বিশ্বের সব মানুষ যেন এক সঙ্গে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন সে জন্য মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আন্তর্জাতিক ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে এ দিবসে তেমন কোনো কর্মসূচি না থাকলেও কিছু কিছু সংস্থা, সংগঠন ও ব্যক্তি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে।
মা দিবসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্যে ১৮৭২ সালে জুলিয়া ওয়ার্ড নামে এক আমেরিকান ব্যাপক লেখালেখি শুরু করেন। ১৮৭২ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার নিজের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে জুলিয়া ওয়ার্ড ‘মা দিবস’ পালন করেন। ১৯১৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উর্ডো উইলসন দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এরপর পৃথিবীর দেশে দেশে মা দিবসটি পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে।
ইতিহাস থেকে জানা যায় মা দিবসের প্রচলন শুরু হয় প্রাচীন গ্রীসে। সেখানে প্রতি বসন্তকালের একটি দিন দেবতাদের মা রিয়া, যিনি ক্রোনাসের সহধর্মিনী তার উদ্দেশ্য উদযাপন করা হতো। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় ‘মা দিবস’ পালিত হতো বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। রোমানরা পালন করতেন ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে। তারা দিনটিকে উৎসর্গ করেছিলেন জুনো’র প্রতি। ষোড়শ শতাব্দী থেকে এই দিনটি যুক্তরাজ্যেও উদযাপন করা হতো ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে। ইস্টার সানডের ঠিক তিন সপ্তাহ আগের রোববার এটি পালন করেন তারা।
নরওয়েতে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববার, সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর, লেবাননে বসন্তের প্রথম দিন অর্থ্যাৎ ২১শে মার্চ এ দিনটি উদযাপিত হয়। বিশ্বজুড়ে এই যে বণার্ঢ্য মা দিবস’র উদযাপন, এটি আসে মূলত আমেরিকানদের হাত ধরে। ১৮৭০ সালে সমাজসেবী জুলিয়া ওয়ার্ড হো আমেরিকার নারীদের যুদ্ধের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। সে সঙ্গে দিবসটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রচুর লেখালেখি করেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।