শীর্ষবিন্দু নিউজ: নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারে অভিযুক্ত নূর হোসেনকে র্যাবই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার দুপুরে অপহরণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার অ্যাডভোকেটের চন্দন সরকারের বাসায় তার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের পর এত সময় পেরিয়ে গেলেও কেন আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। তাদের পেছনে কোন শক্তি আছে। দোষীদের গ্রেফতার করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত নূর হোসেনকে সঙ্গে র্যাবই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু র্যাবের এত ক্ষমতা কোথায়, যে একজনকে তারা দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে পারে? হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে খালেদা বলেন, নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার এই পরিবারগুলোর কিছু হলে দেশে আগুন জ্বলবে। এই অবৈধ সরকার এ বিষয়ে কিছু না করলে সুযোগ পেলে আমরাই বিচার করবো।
র্যাবের জড়িতদের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, র্যাব প্রধানমন্ত্রীর আওতায় নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের আন্ডারে। তাদের এত ক্ষমতা কিভাবে এলো?এর আগে দেড়টার দিকে জলকুড়ি এলাকায় চন্দন সরকারের বাসায় পৌঁছান তিনি। এসময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আবেগ তাড়িত কণ্ঠে নিহত চন্দন সরকারের মেয়ে সুস্মিতা সরকার বলেন, আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এসময় খালেদা জিয়াকে পাশে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনরা। প্রায় আধ ঘণ্টা খালেদা জিয়া চন্দন সরকারের বাসায় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডার এর ঘটনায় র্যাব ও আওয়ামী লীগকে দায়ী করে অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ এ গুম ও খুনের জন্য দায়ী। সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ নিহত ৫ জনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসে তিনি এ দাবি জানান।
খালেদা জিয়া বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা প্রমাণিত হলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছেনা। এতে প্রমাণ হয়, সরকার খুনিদের মদত দিচ্ছে। এ সরকার একটি খুনি সরকার। তারা র্যাবকে দিয়ে হত্যা ও গুমের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। নজরুল ইসলামের বাড়িতে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। এসময় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার কাছে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এরপর খালেদা জিয়া অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এর আগে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া নজরুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছেন।