শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের মতো অন্য যে সব দেশে কানাডার সরকারি সংস্থার পোশাক তৈরি হয়ে থাকে সেসব কারখানা তত্ত্বাবধান করা অটোয়ার দায়িত্ব। কানাডার দ্য স্টার পত্রিকার এক সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের রানা প্লাজা ধসের এক বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও বিদেশী কর্মীদের কর্মপরিবেশ নিয়ে অটোয়া অনাগ্রহী।
কানাডা সরকার প্রতিবছর লাখ লাখ ডলার ব্যয় করে বর্ডার গার্ড, সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা পরিদর্শক ও অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ইউনিফর্ম ও অন্যান্য পোকাশ কিনে থাকে। সরকারি কর্মমন্ত্রী ডায়ান ফিনলে’র দপ্তর ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। কর্মকর্তাদের দাবি এর ৯০ শতাংশ স্থানীয় কারখানা থেকে কেনা হয়েছে। তা হলেও কমপক্ষে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। প্রকৃত সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পোশাক তৈরিতে বাংলাদেশ, চীন, কম্বোডিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, হাইতি, মিয়ানমার সহ অন্যান্য সস্তা মজুরির দেশগুলোর হাজার হাজার শ্রমিকের ভূমিকা রয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যায়।
বিদেশী কারখানাগুলো শিশুশ্রম মুক্ত কিনা ও সেখানকার কর্মপরিবেশ নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি নিরীক্ষণ চালানো হয়নি। বাংলাদেশে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি’র আলোকে নিরাপদ তৈরী পোশাক ক্রয় নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা অগ্রহণযোগ্য। ওই দুর্ঘটনায় এগারো শ’রও বেশি শ্রমিক মারা যায়। আহত হয় আড়াই হাজার। গার্মেন্ট খাতে ইতিহাসের সব থেকে ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন কারখানার কর্মপরিবেশের বিষয়টি সামনে আসে। সেখান থেকে বাংলাদেশের কারখানাগুলোর সংস্কার শুরু হয়। এর মধ্যে দাবি ছিল শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতিপূরণ, অপেক্ষাকৃত উন্নত কর্মপরিবেশ ও কঠোরতর নিরাপত্তা পরিদর্শন। লবলো, কানাডিয়ান টাইয়ার, হাডসন বে, ওয়ালমার্ট ও গ্যাপের মতো খ্যাতিমান সব কানাডিয়ান ব্র্যান্ড কারাখানার নিরাপত্তা প্রচেষ্টা জোরদার করার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। তারপরও ওই ট্র্যাজেডির পূর্ণ এক বছর পর, প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারের সরকার বিদেশী কারখানায় শ্রমিকদের কর্মপরিবেশের বিষয়ে অনাগ্রহী বলে সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়।