শীর্ষবিন্দু নিউজ: বিজিবির এক সদস্য নিখোঁজ হওয়ার পর উত্তেজনার মধ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীদের গুলি বিনিময় হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে পৌনে ৫টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলে বলে বিজিবির বান্দরবান সেক্টরের কর্মকর্তারা জানান। এতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।
বিজিপির আরাকান রাজ্যের সিতুইয়ের পুলিশ কর্নেল তুনও গতকাল শুক্রবার দেশটির দ্য ইরাবতী পত্রিকাকে বলেন, ২৮ মে সংঘর্ষ শুরু হলে অন্য পক্ষের (বাংলাদেশ) একজন আমাদের পুলিশ বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন।
গত বুধবার সকালে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিজিবির সদস্যরা টহল দেওয়ার সময় সীমান্তের ওপার থেকে বিনা উসকানিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা। ওই গোলাগুলির পর থেকে বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমান নিখোঁজ রয়েছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, বিজিবির সদস্য মিজানুর গুলিবিদ্ধ হলে তাঁকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়। মিজানুর কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভেলানগর গ্রামের বাসিন্দা। সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে মিয়ানমারে মিজানুরের মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর লাশটি সেখানকার সীমান্তের ১ নম্বর সেক্টরে নেওয়া হয়। ঘটনার পর বিজিপি প্রচার করে যে গুলিতে আরএসও (রোহিঙ্গা সলিডারেটি অর্গানাইজেশন) বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের এক সদস্য মারা গেছেন। সীমান্তে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদের পাশাপাশি বিজিবির নিখোঁজ সদস্যকে ফেরত দিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশের কাছ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, গোলাগুলি থামার পর বাহিনীর এক সদস্যকে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু বিজিপিও কিছু বলছিল না। নিখোঁজ ওই বিজিবি সদস্যের নাম কর্পোরাল মিজানুর রহমান বলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। এই ঘটনাটি ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়ায়। মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার পর বিজিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের কাছে একটি লাশ রয়েছে। ইয়াংগুনের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশ না করে দূতাবাসের এক মুখপাত্র মিয়ানমার টাইমসকে বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাঁকে (বিজিবি সদস্য) জীবিত বা মৃত অবস্থায় ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি আমরা।
গত দুদিন ধরে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্যদের টানাপড়েনের মধ্যে নতুন করে এই গোলাগুলির পর পরিস্থিতি এখন উত্তেজনাকর। ওপারে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) তৎপরতা থাকায় এ পাড়েও সতর্ক রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ বলেছেন, তারা সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে এই উত্তেজনা সূত্রপাত হয় দুদিন আগে। বৃহস্পতিবার রাতে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিজিবি সদস্যরা টহল দেয়ার সময় ওপার থেকে গুলিবর্ষণ হয়।