শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওয়াং ইয়াং বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদার হতে চায়। শুক্রবার বিকালে চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সম্মেলন ও প্রদর্শনী কেন্দ্রের সভাকক্ষে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওয়াং ইয়াং।
পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. সহীদুল হক এবিষয়ে সাংবাদিকদের জানান। তিনিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে চীনের উপ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই অঞ্চলের উন্নয়নে আমরা একসাথে কাজ করে যাবো। চীনের প্রতি পজিটিভ অ্যাপ্রোচেরও প্রশংসা করেছেন ওয়াং ইয়াও। আঞ্চলিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থানেরও প্রশংসা করেছেন চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী। চীন ইউনান প্রদেশের জন্য মিয়ানমারের কিছু কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে গ্যাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে যাত্রা করে স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় কুনমিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছেই দ্বিতীয় চীন-সাউথ এশিয়া এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্যে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএম-ইসি) বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দ্বার খুলে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সহীদুল বলেন, চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চট্টগ্রামে চীনের জন্য যে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ অঞ্চল নির্মিত হবে সেখানকার প্রয়োজনে বাংলাদেশ গ্যাস কিনতে চায়। ওয়াং ইয়াং বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারকে জানাবেন। চীন থেকে বাংলাদেশে কিছু শিল্প স্থানান্তরের কথাও বলেছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এক চীন নীতিতে বিশ্বাস করে তার দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতে আরো দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চীনের উন্নয়নের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দেশটির উন্নয়নে আশপাশের দেশগুলো লাভবান হবে। যোগাযোগ যত বাড়বে, তত উন্নয়ন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ৭০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। পাঁচদিনের সফর শেষে ১১ জুন দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা। সফরের চতুর্থ দিন বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। ওই বৈঠকের পরে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে যৌথ ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।