রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩২

নূর হোসেন গ্রেফতার কলকাতায়: অত:পর রিমান্ডে

নূর হোসেন গ্রেফতার কলকাতায়: অত:পর রিমান্ডে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ৫জন সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় কলকাতার দমদম নেতাজী সুভাস চন্দ্র বোস বিমান বন্দরের পাশে কৈখালী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াডের (এটিএস) এসিপি অনিমেষ সরকারের নেতৃত্বে একটি টিম এ অভিযান চালায়।

জানা যায়, রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকে নিয়ে বাগুইয়াটি থানা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। এরপর ওই তিনজনকে আদালতের গারদখানায় রাখা হয়।শুনানি শেষে তিনজনের প্রত্যেকের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীর পক্ষে আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়নি।

কলকাতার দমদম পুলিশ স্টেশন স্টেশনের একজন পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, কৈখালী এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে নূর হোসেনসহ সাত খুন মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন আশিক, সুমন, শামীম সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। সেভেন মার্ডারের পর ভারতে পালিয়ে থাকা সময়ে কৈখালী এলাকায় নিজেদের অসুস্থ রোগী পরিচয় দিয়ে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা। তবে বিভিন্ন মিডিয়াতে নূর হোসেনের ছবি প্রকাশ ও তাদের গতিবিধি সন্দেহ হলে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে কলকাতায় নূর হোসেন গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আমরা শুনেছি ভারতের পুলিশ নূর হোসেন ও তার কয়েক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। তবে এ বিষয়ে অফিসিয়ালি কোনো মেসেজ আমরা পাইনি। সেভেন মার্ডারের তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে ইন্টারপোলের ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার করতে পারে ভারতের পুলিশ।

আলোচিত এ খুনের ঘটনায় ইতোমধ্যে ৠাবের চাকরিচ্যুত তিনজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আরিফ হোসেন ও এম এম রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন যে নূর হোসেনের পরিকল্পনায় এ সাত খুনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া কামাল নামের এক ব্যক্তিও রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। এতে তিনি স্বীকার করেন নূর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে পালিয়ে যান। তাছাড়া এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে নূর হোসেনের একটি ফোনালাপের অডিও প্রকাশ পায়।

সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মে রেড ওয়ারেন্ট জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। ফ্রান্সভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি ২৭ মে বিকেলে তাদের ওয়ানটেড পারসনের রেড ওয়ারেন্ট পাতায় নূর হোসেনের নাম সংযুক্ত করে। এর আগে রেড ওয়ারেন্টভুক্ত করতে গত ২২ মে পুলিশ সদর দফতরকে চিঠি দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন। পরে পুলিশ সদর দফতর রেড ওয়ারেন্টের জন্য ইন্টারপোলকে চিঠি দেয়। নূর হোসেন বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছে নিশ্চিত হয়েছিল র‌্যাব।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছে ভারতে আসার কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পাসপোর্ট পাযনি পুলিশ। অনুপ্রবেশ, অস্ত্র আইন ও জুযার আসর বসানোর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বাগুইয়াটি থানার পুলিশ। গত ২৭ এপ্রিল নারাযণগঞ্জ সিটি প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল তাদের লাশ উদ্ধার করা হয় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে। এর আগে ২৮ এপ্রিল নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ফতুলস্না মডেল থানায় মামলা করেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025