শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৩

ভয়ে দিন কাটছে বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের

ভয়ে দিন কাটছে বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের

গোলাম মুজতবা: হামলা ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের পর আতঙ্ক কাটছে না রাজধানীর মিরপুরের কালশীর আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ক্যাম্পে। পুলিশের পাহারা থাকলেও শনিবারের ঘটনায় এই বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে তাদের, যারা সাধারণভাবে বিহারি নামে পরিচিত।

পুলিশের যে ভূমিকা দেখলাম, তাতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আমরা সবাই, হামলার দুই দিন পর সোমবার বলেন স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশনের (এসপিজিআরসি) সভাপতি জব্বার খান। শনিবারের ঘটনার পর রোববার রাতে ক্যাম্পের সামনে প্রচুর পুলিশ ছিল। তারপরও ভয়ে আমাদের ঘুম হয়নি। কবে যে ক্যাম্পে শান্তি আসবে…, বলেন ৬০ বছর বয়সী বেগম। শনিবার কালশীর ওই ক্যাম্পে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং পরে সংঘর্ষে মোট ১০ জন নিহত হওয়ার পর ছয়টি মামলা হয়েছে, তাতে পুলিশি হয়রানির অভিযোগও করেছেন ক্যাম্পবাসীরা।

বেগম বলেন, আমাদের ছেলেপুলে কে তো ঘটনার দুদিন পরও পুলিশ ফেরত দিল না। আমরা কথা রাখলেও তারা কথা রাখেননি, বলেন জব্বার খান। সেদিন অগ্নিদগ্ধ নয়জনের লাশ পুলিশকে দিচ্ছিল না বিক্ষুব্ধ ক্যাম্পবাসী। পরে ঢাকার জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফ হারুন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আটকদের ছেড়ে দেয়ার আশ্বাস দিলে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দিয়েছিলেন তারা।

জব্বার খান বলেন, জেলা প্রশাসক নিজে সব বিহারিদের আশ্বস্ত করে কথা দিয়েছিলেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের ছেড়ে দিতে উদ্যোগ নেবে সরকার। তাছাড়া আগুনে যাদের ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। কারো বিরুদ্ধে মামলা করার মতো টাকা নাই আমাদের নাই, ইচ্ছা আছে শুধু। তাই ক্যাম্পের আগুন দিয়ে বিহারিদের পুড়িয়ে দেয়ার পরও কোনো মামলা করতে পারিনি, বলেন তিনি।

পল্লবী থানার ওসি জিয়াউজ্জামান জানান,কালশীর ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পুলিশ একটি এবং পল্লবীর মিল্লাত বিহারি ক্যাম্পের চারজন চারটি মামলা করেছে। ক্যাম্পে আগুন দিয়ে নয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য দায়ী কাউকে গ্রেপ্তারের কোনো খবর এখনো পুলিশ দিতে পারেনি। তবে ক্যাম্পের সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মনিরা আক্তার বলেন, সাত জন বিহারি এখন গ্রেপ্তার আছে। তারা দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছে।

হামলা-অগ্নিসংযোগের পর বিক্ষুব্ধ ক্যাম্পবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় শনিবার দুপুরে ফরিদ (১৬) নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে জানিয়ে ফরিদের বড় ভাই ওয়াসিম (২০) বলেন, পুলিশ আমাদের সঙ্গে কোনো কথাই বলছে না। শুধু বলছে কোর্ট থেকে তোমার ভাইকে ছাড়িয়ে নিও। আমরা অনেক বিপদে আছি ভাই, দুদিন পরও থমথমে ওই এলাকায় কাতর কণ্ঠে বলেন এই যুবক। সোমবার সকালে কালশীর ওই ক্যাম্পে যান মানবাধিকার আন্দোলনের সংগঠক সুলতানা কামাল।

ক্যাম্পবাসীর সঙ্গে কথা বলে তিনি সংবাদিকদের বলেন, কালশীর এ ঘটনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশ আরো দায়িত্বশীল হলে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটত না। বিকালে কালশীতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতারা। তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাকে দায়ী করে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026