এতদিন বাড়ি ভাড়া করে সেখানে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো স্কুল কর্তৃপক্ষ। শুধু জেদ্দাই নয় মক্কা,মদিনা,ইয়ানবু’র বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরাও এখানে এসে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতো। সৌদি আরবের জেদ্দায় ১৯৭৯ সাল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে লাল-সবুজ পতাকাবাহী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।
বর্তমানে স্কুলটিতে ২ হাজার ৫’শ শিক্ষার্থী এবং ১’শর বেশি শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর থেকে সুনামের সঙ্গে চলে আসা স্কুলটি টাকার জন্য বন্ধ হয়ে যাবে এটা মানতে পারছেন না স্কুলের শিক্ষক এবং ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকরা। তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন আইনে কেবল স্কুল কোড অনুযায়ী নির্মিত ভবনেই স্কুল চলতে পারবে। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, জেদ্দা’র (বাংলা শাখা) পক্ষে স্কুল কোড অনুযায়ী নিজস্ব স্কুল ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়।
কারণ,বর্তমানে স্কুলের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কেবলমাত্র অভিভাবকদের অর্থের বিনিময়ে। নো-লস, নো-প্রফিট নীতিতে পরিচালিত স্কুলের বড় কোন ফান্ড নেই। বর্তমানে স্কুলের জন্য জমি কিনে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করতে প্রয়োজন ৪০-৪২ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালের (৮৭কোটি টাকা)। আর এই টাকা এই অল্প সময়ে সংগ্রহ করা প্রবাসীদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে ১০মিলিয়ন রিয়াল (৮কোটি টাকা) দেয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রবাসীরা। বাকি অর্থের জন্যে দরকার বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা। সাম্প্রতিক কয়েক বছরের বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটির এসএসসি,এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার প্রায় শতভাগ।এর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০% ।প্রতি বছর ৩/৪জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়ে আসছে। স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার নোটিশ পেয়ে রীতিমত কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পরেছেন শিক্ষক,পরিচালনা পরিষদ এবং অভিভাবকরা।
এ পরিস্থিতিতে সন্তানদের উজ্জল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী,শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বুধবার স্কুলের পরিচালনা পরিষদ এবং অভিভাবকরা একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। স্কুলবাঁচাও, প্রবাসী প্রজন্ম বাঁচাও শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে স্কুল পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা.আবদুল মান্নান মিয়া,অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম ফারুক,অভিভাবক আবুল বাশার বুলবুল,ইঞ্জি.নুরুলআমিন,দেলোয়ার সরকার, এ.টি.কে লোদী প্রমুখ বিদ্যালয়টির বর্তমান দুরাবস্থার চিত্র তুলে ধরেন।
সম্মেলনে অভিভাবকরা আক্ষেপ করে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা যোগান দিচ্ছে যারা,তাদের ছেলেমেয়ের পড়াশোনার পথ আজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে,বাংলাদেশ সরকারের কাছে সবার আকুল আবেদন, স্কুল বাঁচান, প্রবাসী প্রজন্ম বাঁচান। জাতীয় শিক্ষা বাজেট থেকে অথবা প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে অন্তত ৩০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এ সময় আহ্বান জানান বক্তারা। তারা আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের (সরকার) কাছে কোনদিন কিছু চাইনি। আজকে আপনাদের কাছে আমাদের একটি মাত্র চাওয়া আর তা হলো স্কুল ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করে ২৫০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন নিশ্চিত করুন।