পশ্চিমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে বাংলাদেশে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রতিবেশী দেশে কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে বেশ আলোচনা চলছিল। সফরের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে রূপসী বাংলা হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে বক্তৃতা দিতে আসেন সুষমা। রূপসী বাংলা হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতার শুরুতেই নিজের ঢাকা আসার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন বিজেপি নেত্রী।
আমি এসেছি আমাদের পারস্পরিক বন্ধন ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরো মজবুত করতে। কারণ আমাদের এই সম্পর্ক ব্যাপক সম্ভাবনাময়। দুই দেশকে ইতিহাস ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার একই উল্লেখ করে উভয় দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও স্মরণ করেন সুষমা। ২০ মিনিটের বক্তৃতায় তিন বার বঙ্গবন্ধুর নামও আসে তার কণ্ঠে। আমাদের অংশীদারিত্ব শুধু অতীতেরই নয়, ভবিষ্যতেরও। কারণ এই অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতই আমাদের লক্ষ্য।
সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, আমাদের দেশের উন্নয়ন পরিপূর্ণ ও টেকসই হবে না, যদি না প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে না ওঠে। ভারতে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।


সুষমা জানান, নিরাপত্তা রক্ষা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, সবার উন্নতির জন্য পারস্পরিক বোঝাপড়া আরো মজবুত করার নীতি ধরে এগোচ্ছে মোদি সরকার। অটল বিহারি বাজপাই সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা সুষমা অতীত অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে বলেন, এক দেশের ক্ষতি করতে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিলে তা কিন্তু বুমেরাংই হয়। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, স্থল সীমান্ত চুক্তিসহ বাংলাদেশের সঙ্গে অনিষ্পন্ন সব বিষয়গুলো সমাধানে নতুন সরকারের আন্তরিকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
দুই দেশের জনগণের কল্যাণ হবে, তা বিবেচনা করে সব বিষয়গুলো সমাধানে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশকে ৬০ কোটি রুপি অনুদানের ঘোষণা দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই অনুদানের সমঝোতা স্মারক কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মনমোহন সিং সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টি এগিয়ে নেয়ার ওপর জোর দিয়ে ত্রিপুরার পালটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে দেয়ার ঘোষণা দেন সুষমা।দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি ভারতের পক্ষে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে গৌহাটি-শিলং-ঢাকা সরাসরি বাস চলাচল অচিরেই শুরু করার কথা বলেন সুষমা।
বাংলাদেশ-ভারতের বর্তমান সম্পর্ককে অন্যদের জন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের জন্য উভয়ের মধ্যে আরো নিবিড় আলোচনা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন তিনি। আসছে দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রীরা শিগগিরই মিলিত হবেন।