মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৮

সিলেটে ইজিবাইক চালক-মালিকদের মধ্যে সংঘর্ষ-ভাংচুর

সিলেটে ইজিবাইক চালক-মালিকদের মধ্যে সংঘর্ষ-ভাংচুর

নিউজ ডেস্ক: নগরীর রাস্তায় ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে ইজিবাইক চালকরা। বৃহস্পতিবার রাতে তারা ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটো রিক্সাসহ অন্তত শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করেছে।

তারাবীহ’র নামাজের পর সহস্রাধিক ইজিবাইক চালক মেয়র আরিফের কুমারপাড়াস্থ বাসায় গিয়ে দেখা করে পুনরায় ইজিবাইক চালনার দাবী জানায় তারা। জবাবে মেয়র বলেন, সববিছুরই নিয়ম আছে। বিআরটিএসহ প্রশাসনের সাথে আলাপ করে আমি শুক্রবার বিকেলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেব। মেয়রের এ সিদ্ধান্ত কিছুসংখ্যক ইজিবাইক মালিক-চালক মানলেও অধিকাংশই মানেনি। তারা মেয়রের বাসার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর মেয়রের বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে ইজিবাইক চালকরা।

এরপর তারা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ছড়িয়ে পড়ে। মীরবক্সটুলা, চৌহাট্টা, নয়াসড়ক, মানিক পীর রোড, দরগাগেইট ও আম্বরখানাসহ বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক, মাইক্রোবাস, হাইয়েস নোহা, প্রাইভেট কারসহ শতাধিক গাড়ি ভাংচুর কওে তারা। তাদের তান্ডবের হাত থেকে রক্ষা পাননি ওইসব গাড়ির ড্রাইভার ও হেলপাররাও। ইজিবাইক চালকদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নগরীর চৌহাট্টাস্থ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে দাঁড় করে রাখা বেশ কটি প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস ভাংচুর করে তারা। হযরত শাহজালাল (রহঃ) দরগাহ মাজারের সামনে একটি পাথর বোঝাই ট্রাক (চট্ট মেট্রো- ট- ১১-৪৩৬৩) ভাংচুরকারীদের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে ড্রেনে পড়ে যায়। একই রোডে একটি পিকআপ ভ্যান ( নম্বর-ঢাকা মেট্রো-খ- ১১-৫৪৯৪) ও বেশ কটি সিএনজি অটোরিক্সা ভাংচুর করে তারা। তাদের হামলায় সংশ্লিষ্ট চালক ও হেলপাররা আহত হন। নগরীর আম্বরখানায় গাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন পথচারীরা। পুলিশ-জনতা ধাওয়া করলে ইজিবাইক চালকরা পালিয়ে যায়।

এদিকে, ট্রাক ভাংচুর করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সড়ক অবরোধ করে ট্রাক শ্রমিকরা। রাত ১টায় কোতয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান বাবুলের অনুরোধে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন বলে জানান সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার। ভাংচুরের ঘটনায় রাতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৫ জন ইজিবাইক চালককে আটক করেছে পুলিশ।এসএমপি’র এডিসি(মিডিয়া) মো: রহমত উল্যাহ জানিয়েছেন, ইজিবাইক চালকদের ভাংচুরের বিষয়ে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ভাংচুরের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান রহমত উল্যাহ।

নগরীকে যানজট মুক্ত করার উদ্দেশ্যে গত বুধবার থেকে ইজিবাইকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নামে পুলিশ। নগরীর প্রধান সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়া হয়। এমনকি আটক ইজিবাইকগুলো রাখা হয় মিরের ময়দানস্থ পুলিশ লাইনে। ঈদকে সামনে রেখে নগরী যানজটমুক্ত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয় বলে দাবী করা হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনে পক্ষ থেকে। এর অংশ হিসেবে গত বুধবার থেকে অভিযানে নামে পুলিশ। ঐ দিনই অর্ধশতাধিক ইজিবাইক আটক করা হয়। ফলে গতকাল সিলেটের রাজ পথে কোন ইজিবাইক চলেনি। যে কারণে নগরীও ছিল অনেকটা যানজটমুক্ত। এর প্রতিবাদে মিছিল সমাবেশ করে ইজিবাইক চালকরা।

এডিসি রহমত উল্যাহ জানান, যত্রতত্র টমটম (ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা) চলাচলের কারণে সিলেট নগরীতে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। তাই নগরীতে টমটম চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে নগরীর বাইরে টমটম চলাচল করতে পারবে। তবে নগরীতে কোন টমটম প্রবেশ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার নগরীতে মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে- এখন থেকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের প্রবেশমুখ হুমায়ূন রশিদ চত্বর, সিলেট-তামাবিল সড়কের টিলাগড় পয়েন্ট, আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়কের বাদামবাগিচা বাসস্ট্যান্ড ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের মদীনা মার্কেট পর্যন্ত এই সীমানার ভেতরে শহরে টমটম চলাচল করবে না। তিনি বলেছেন, এসএমপি আইনে কমিশনারের ক্ষমতা আছে। আর কোনভাবেই ইজিবাইক চলতে পারবে না।

এদিকে, ট্রাক ভাংচুর, ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপারদের মারধর করার প্রতিবাদে নগরীর উপশহর রোজভিউ হোটেলের সামন থেকে নাইওরপুল এলাকা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে ট্রাক শ্রমিকরা। ট্রাক এলোমেলো করে রাখায় এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ ট্রাক শ্রমিকরা একটি একটি ইজিবাইকও ভাংচুর করে। অবশ্য রাত ১টায় তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026