দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর যুক্তরাজ্যে এটাই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। এই সফরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, গার্ল সামিটে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আমি নিজে এবং মাননীয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের সেশনে অংশগ্রহণ করব। কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের অবস্থান ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরব।
আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ স্বীকৃতির প্রতীক। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই কন্যাশিশু সম্মেলনে পৃথিবীজুড়ে কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী মূলত সম্মেলনের অন্যতম প্রতিপাদ্য মেয়েশিশুদের বাল্যবিবাহে বাধ্য করার প্রবণতা নিয়ে কথা বলবেন। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের এক হিসাবে দেশের যেসব নারীর বয়স ২০-৪৯ বছরের মধ্যে, তাদের শতকরা ৬৩ ভাগেরই বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে। এদের মধ্যে ১৭ শতাংশের বিয়ে হয়েছে বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগে।
জাতীয় শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে অইনসম্মত নয় এবং তা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হবে। বাল্যবিবাহ রোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আলোচনায় বাল্যবিবাহ নিরোধের বিষয়টিকে বাংলাদেশের অন্যতম অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুকে যোগ্য ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ দিতে সমাজ থেকে দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও কুসংস্কারের পাশাপাশি বাল্যবিবাহের মতো ‘সামাজিক অন্যায়গুলোকে’ যে কোনো মূল্যে দূর করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী গার্ল সামিটে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কিছু সুদূরপ্রসারী ও সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের কথা জানাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে । এর মধ্য দিয়ে তিনি বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিরসনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিতেও সক্ষম হবেন। অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারত, লেবানন, জাম্বিয়া, ইথিওপিয়া, লাইবেরিয়ার উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও এ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতে দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করছি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সে দেশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।