সাজেদা সুইটি: ঈদের পরে আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপিকে ভয় পাচ্ছেন না, কিছুটা ভয় বা সতর্ক থাকতে হয় জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাকে ঈদের পরে আন্দোলনকে সামনে রেখে এমনই স্বীকারোক্তি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের।
বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারা বলছেন, চট্টগ্রামে বিএনপির সবচে প্রভাবশালী নেতারা একে অন্যের সঙ্গে ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। এতে আন্দোলনে প্রভাব পড়ে। এক পক্ষের নেতা-কর্মী আরেক নেতাকে মানতে চান না। এভাবে খণ্ড খণ্ড দল নিয়ে আন্দোলন সফল করতে পারছেন না তারা।
তবে জামায়াত গুছিয়ে মাঠে নামে। তাদের গোপনীয়তাও কঠোর। বিভিন্ন সাংকেতিক ভাষা ও কোড ব্যবহার করে নিজেদের যোগাযোগ বজায় রাখে অনেক সময়। তাই তাদের তৎপরতাগুলো মোকাবেলা কঠিন হয়ে যায়, মত আওয়ামী লীগ নেতাদের।
বিএনপির সবচে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী এই দলটির নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এ যাবৎ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলনে বেশি ঝামেলা পাকিয়েছে জামায়াত-শিবির।
সিনিয়র নেতারা বলেন, জামায়াত-শিবিরের চোরাগোপ্তা হামলা জানমালের বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়। আগে থেকে কিছু জানা যায় না বলেই এসব হামলা ঠেকাতেও পারেন নি আওয়ামী নেতাকর্মীরা।
নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বাংলানিউজকে বলেন, জামায়াত-শিবিরের চোরাগোপ্তা হামলা নিয়ে সমস্যা হয়। বিএনপির আন্দোলনের ধারা আমরা বুঝি বলে মোকাবেলা সহজ হয়।
চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন, বিএনপি নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো মিটিয়ে নিলেই ভালো করবে। জামায়াত-শিবির সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও যেহেতু যথেষ্ট সুসংহত, সেহেতু আন্দোলনে তারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বিএনপির তৎপরতা সম্পর্কে আমরা আগেই জানতে পারি। তাই সহিংসতা ঠেকানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু জামায়াত-শিবির চোরাগোপ্তা হামলা চালায়। ঘটনা ঘটে যায়, তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছাই আমরা। ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়েই যায়।
ফরিদ বলেন, বিএনপি নিজেদের অন্তর্দন্দ্ব নিয়ে ব্যস্ত। তারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে দলের কার্যালয়ে থাকে, নিজেদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তবে আমরা তাদের মোকাবেলা করতে রাস্তায় ছিলাম ও থাকবো।
আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, চট্টগ্রামের কিছু স্থান ‘বিএনপির ঘাঁটি’ বলে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন তেমন পরিস্থিতি নেই। কোথাও তাদের নিরঙ্কুশ অবস্থা নেই বর্তমানে।
উদাহরণ হিসেবে যুবনেতা ফরিদ বাকুলিয়ার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, এখানে বিএনপি-জামায়াতের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। এখন তেমন নেই।
চট্টগ্রামে বিএনপির দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নাই। নিজেদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে এসব নিয়ে। সবচে বেশি অসন্তোষ ছাত্রদল কমিটি নিয়ে। নোমান ও মীর নাছিরের গ্রুপ ভিন্ন। তারা আলাদা কর্মসূচী দেন।
এই নেতা বলেন, জামায়াত আন্দোলনে বিএনপিকে সঙ্গ দিয়েছে। কিন্তু জামায়াতের বিপদে বিএনপি পাশে থাকেনি। তাই কিছুটা দূরত্ব তৈরী হয়েছে তাদের। এদিক দিয়েও বিএনপি দুর্বল হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা বাংলানিউজকে বলেন, মামলার হাজিরা দেওয়া নিয়ে বিএনপি নেতারা ব্যস্ত। তাদের এখন আন্দোলনের সময় হয়নি। দল গোছানো প্রয়োজন আগে। তাহলে হয়তো আরও বছরখানেক পর আন্দোলনের কথা বলার অবস্থা হবে।
আওয়ামী লীগের এসব নেতার দাবি, চট্টগ্রামে বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীই যথেষ্ট। তবু তারা জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে সতর্ক থাকবেন।