শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৫

শ্রমিকেরা কেঁদে মরে, প্রধানমন্ত্রী ঈদ করে

শ্রমিকেরা কেঁদে মরে, প্রধানমন্ত্রী ঈদ করে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: শ্রমিকেরা কেঁদে মরে, প্রধানমন্ত্রী ঈদ করে- এ রকম বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে অনশনরত তোবা গ্রুপের পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় হোসেন মার্কেটে অবস্থিত কারখানার সামনের সড়ক অবরোধ করে কয়েক শ শ্রমিক বিক্ষোভ করেন।

অনশন চলাকালে আজও বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ নিয়ে ষষ্ঠ দিনে মোট ৯১ জন শ্রমিক অসুস্থ হলেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন। কারখানার সামনে স্লোগানমুখর বিক্ষোভরত শ্রমিকেরা। ছবি: ফোকাস বাংলা‘আমরা তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির’ ব্যানারে ওই বিক্ষোভ হয়। পূর্বঘোষিত এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচিকে সামনে রেখে সকাল থেকে পুলিশের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে।
কারখানার সামনে স্লোগানমুখর বিক্ষোভরত শ্রমিকেরা। ছবি: ফোকাস বাংলা
সহিংস বিক্ষোভ ঠেকাতে ওই সড়কে  দুটি জলকামান আগে থেকে মজুত করে রাখা হয়। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শ্রমিকেরা মিছিল করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। সে সময় শ্রমিকদের সঙ্গে কিছুটা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ হয়।

সমাবেশে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার যে আছে সেটা শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জের সময় টের পাই, ভূমিহীনদের উচ্ছেদের সময় টের পাই। কিন্তু শ্রমিকেরা না খেয়ে থাকলে টের পাই না। বেতন-বোনাস না পেয়ে তোবার শ্রমিকেরা যে অনশন করছেন তার দায় বিজিএমইএর যেমন আছে, তেমনি সরকারের আছে। তিনি বলেন, সরকার যখন শ্রমিকদের জন্য টাকা তুলে তা শ্রমিকদের দেয় না, তখন পোশাকমালিকেরাও শ্রমিকদের টাকা না দেওয়ার সাহস পান।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ারকে বিতাড়িত করে সরকার একে পরিত্যক্ত ঘোষণা করুক। এরপর সরকার এ দায়িত্ব নিয়ে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করুক। তিনি এ সময় বলেন, মালিক যদি পালিয়ে থাকে তাহলে বিজিএমইএ কী করল? বিজিএমইএ যদি কিছু না করে তাহলে সরকার কী করল?

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ বলেন, শ্রমিকদের জন্য শত শত কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো থেকে কেন তোবার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়া হচ্ছে না। তোবার শ্রমিকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চুপ কেন?
শ্রমিকদের মিছিল করতে বাধা দেয় পুলিশ। ছবি: ফোকাস বাংলা

শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক রাজেকুজ্জামান রতন তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেনের জামিন বাতিল করার দাবি জানান।তিন মাসের বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে ঈদের আগের দিন গত সোমবার থেকে হোসেন মার্কেটে অবস্থিত কারখানায় অনশন করছেন তোবা গ্রুপের পোশাকশ্রমিকেরা। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ তৈরি পোশাকশিল্প মালিক সমিতি (বিজিএমইএ) সাত দিনের মধ্যে আংশিক বেতন-ভাতা পরিশোধের যে আশ্বাস দিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন শ্রমিকেরা। হোসেন মার্কেট ভবনে তিনটি তলায় রয়েছে তোবা টেক্সটাইল, তায়েব ডিজাইন ও মিতা ডিজাইনের কারখানা। পাশের ফুজি ভবনে রয়েছে বুকশান ও তোবা ফ্যাশনস।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025