মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৩

ছেলের বিয়েতে কারাগারে ভূরিভোজ দেন তাহের

ছেলের বিয়েতে কারাগারে ভূরিভোজ দেন তাহের

নিউজ ডেস্ক: বিয়ের পর কারাগারে সাক্ষাৎ হয়েছে বর-কনের। ছিল ভোজের আয়োজন। পরে কনেকে নিয়ে যাওয়া হয় শ্বশুরবাড়ি। লক্ষ্মীপুরের জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় তাহেরপুত্র এইচএম বিপ্লবের বিয়ে নিয়ে চলছে তোলপাড়। জেলার বাসিন্দাদের মুখে মুখে যেমন চলছে আলোচনা, তেমনি কারাগার প্রশাসনেও চলছে নানা কথা। জেল কোড মেনে বিয়ের কথা বলা হলেও একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এমন সুযোগ পেতে পারেন কিনা তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

তবে বিয়ের বিষয় নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন বর-কনে উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন কথা বলছেন না তারা। গত শুক্রবার লক্ষ্মীপুরে চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা এডভোকেট নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এইচএম বিপ্লব কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থাতেই বিয়ে করেন। অবশ্য প্রেসিডেন্ট তার ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করলেও অন্য দু’টি হত্যা মামলায় দশ বছরের সাজা খাটছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাহেরপুত্রের বিয়ের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এ নিয়ে কারাগারের প্রশাসনে চলছে তোলপাড়।

গতকাল রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যয় পর্যন্ত কারা অভ্যন্তরে আসামি ও কয়েদিদের সঙ্গে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ ছিল পুরোপুরি বন্ধ। আগের মতো মোবাইল ফোনে বাইরে আলাপচারিতার ওপরে ছিল বেশ কড়াকড়ি। তবে একটি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে কারাগারে তাহের পুত্র এইচএম বিপ্লব ও লামচরী গ্রামের পণ্ডিতবাড়ির মৃত এডভোকেট আবুল খায়েরের মেয়ে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সানজিদা খায়েরের সঙ্গে কারাগারে মোবাইল ফোনে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এরপর রাতে কনের বাড়িতে বরপক্ষের শতাধিক আত্মীয়স্বজন ভোজে অংশ নেন। কনে সানজিদাকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১০টায় একটি নোয়া মাইক্রোবাসে করে নববধূ সানজিদাকে নিয়ে যাওয়া হয় জেলা কারাগারে। সেখানে আয়োজন করা হয় সানজিদা ও বিপ্লবের সাক্ষাতের। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নববধূ সানজিদাকে নিয়ে যাওয়া হয় তার শ্বশুরবাড়িতে। তবে অপর একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে বিপ্লবের পিতা লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র আবু তাহের কারাগারের জনৈক কর্মকর্তার বাসায় মাছ মাংস ও মোরগসহ অতিথি আপ্যায়নের সামগ্রী পাঠান। ওই কর্মকর্তার বাসায় রান্নার পর খাবার বিতরণ করা হয় কয়েদিসহ কারা কর্মকর্তাদের মাঝে। সেখানে কিছু অতিথিও ভোজে অংশ নেন।

কারা সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর কারাগারের ইতিহাসে এটাই প্রথম বিয়ে। সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পৌর মেয়র আবু তাহেরের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও কারা কর্র্তৃপক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে সব আয়োজন করা হয়। এজন্য আগে থেকে নেয়া হয়েছিল পরিকল্পনা। বিয়ের বিষয়টি আড়ালে রাখা হয়েছিল গণমাধ্যম থেকে। কনের বাড়িতে বিয়ের আয়োজনও ছিল ঘরোয়া। বিয়ের আগের দিন পর্যন্ত কারাগারে থাকা বিপ্লবের বিয়ের বিষয়টি কোন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। বিয়ের ঘটনা পরের দিন প্রকাশ হওয়ার পর দুই পরিবার ও কারা কর্তৃপক্ষ অনেকটা সতর্কতা অবলম্বন করে।

একই সঙ্গে এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের কর্মকর্তারা প্রশ্নের মুখে পড়েন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চায়। নিজ নিজ অবস্থান থেকে ব্যাখ্যা পাঠানো হলেও গোয়েন্দা তথ্য বলছে অন্য কথা। এদিকে বিপ্লবের বিয়ের খবর প্রকাশের পর গতকাল কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা হকারের কাছ থেকে একটি চক্র সবগুলো কিনে নিয়ে যায়। এতে অনেক পাঠক পত্রিকা হাতে পাননি। পরে অনেকেই অনলাইন সংস্করণ পড়তে এবং প্রিন্ট করে নিতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, তাহের পরিবারের হাতে ১৯৯৮ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর রাতে সাবেক পিপি ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট নুরুল ইসলাম খুন হন। ২০০২ সালের ৩০ জুলাই আবু তাহের, তাঁর স্ত্রী নাজমা, তিন ছেলেসহ ৩১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৩ সালের ৯ই ডিসেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় দেন। তাতে তাহেরের ছেলেসহ পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। বিপ্লব এই মামলার পর থেকে পলাতক ছিলেন। ২০১১ সালের এপ্রিলে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বিপ্লব। গত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ মওকুফ করেন। এছাড়া যুবদল কর্মী কামাল ও শিবির নেতা মহসিন হত্যা মামলায় বিপ্লবের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশের কিছু মওকুফ করে দেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026