নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সিলেটের সাংবাদিকরা। এই দাবিতে সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে এক সমাবেশ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিও ঘোষণা করেন তারা। এছাড়া সিলেটে তার সব অনুষ্ঠান বর্জনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবাদিকরা।
গত শনিবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সাংবাদিকদের খবিশ ও রাবিশ বলে গালাগালির পাশাপাশি সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের হুমকি দিয়ে সমালোচনার মুখে দুঃখ প্রকাশ করেন সৈয়দ মহসিন আলী। সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে সিলেটবাসীর জন্য ক্ষতিকর আখ্যায়িত করে সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ডাহা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে নিজেকে মিথ্যাবাদী হিসেবে প্রমাণ করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। সাংবাদিক নেতারা দুঃখ প্রকাশ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দেয়া বিবৃতিরও কঠোর সমালোচনা করেন।
সমাবেশ থেকে সিলেটের সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে মহসিন আলীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। না হলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। মন্ত্রীর অপসারণ দাবিতে সাংবাদিকদের তিন দিনের কর্মসূচির অংশ হিসাবে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে মঙ্গলবার থেকে এক ইঞ্চি দুই কলাম জায়গা খালি রাখা এবং মঙ্গলবার থেকে তিন দিন এক ঘণ্টা করে কলমবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান আহমেদ নূর, সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আজিজুল হক মানিক, দৈনিক সিলেট সংলাপ সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান, বাংলা টিভির ব্যুরো প্রধান আব্দুল মালিক জাকা, সময় টিভির ব্যুরো প্রধান ইকরামুল কবির, দৈনিক কাজিরবাজারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ সুজাত আলী, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর বার্তা সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর, দৈনিক জালালাবাদের নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল কাদের তাপাদার, আরটিভির সিলেট প্রতিনিধি কামকামুর রাজ্জাক রুনু, যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রশিদ রেনু, নয়া দিগন্তের আফতাব উদ্দিন, দেশ টিভির ব্যুরো প্রধান বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, আলোকিত বাংলাদেশের ব্যুরো প্রধান ফারুক আহমদ, বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান শাহাব উদ্দিন শিহাব, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ইকবাল মাহমুদ প্রমুখ।