বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৬

ঐতিহ্যবাহী লাকড়ি ভাঙ্গা উৎসব অনুষ্ঠিত

ঐতিহ্যবাহী লাকড়ি ভাঙ্গা উৎসব অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক: শনিবার সকাল থেকে মানুষের স্রোত হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার অভিমূখে। কারো পরণে লাল জামা, কারো মাথায় লালপট্টি। একহাতে লাল ঝান্ডা আর অন্যহাতে লম্বা দা। খন্ড খন্ড জনস্রোত দুপুরে পরিণত হয় জনসমূদ্রে।

জোহরের নামাজের পর দরগা প্রাঙ্গনে বেজে ওঠে নাকাড়া (বিশেষ ধ্বনি)। সাথে সাথে সমস্বরে উচ্চরিত হয় শাহজালাল বাবা কী- জয়। এরপর উপস্থিত হাজার হাজার শাহজালালপ্রেমী লাইন ধরে হাঁটা শুরু করেন শহরতলীর লাক্কাতুড়া বাগানের দিকে। উদ্দেশ্য তাদের ওই বাগানের নির্দিষ্ট টিলা থেকে কাঠ সংগ্রহ করে হযরত শাহজালাল (রহ.)’র দরগায় নিয়ে আসা।

প্রতিবছর শাওয়াল মাসের ২৬ তারিখ শাহজালাল ভক্তরা উৎসবের মাধ্যমে লাক্কাতুড়া বাগান অভিমূখে কাঠ সংগ্রহ করতে যান। প্রায় ৭০০ বছর ধরে সিলেটে উদযাপিত হয়ে আসছে এই উৎসব। স্থানীয়ভাবে এই উৎসবের নাম ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব। অনেকে এই দিনকে সিলেটে ইসলামের বিজয় দিবস হিসেবেও পালন করেন।

শনিবার জোহরের নামাজের পর হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগায় গিয়ে দেখা যায়, লাকড়ি তোড়ার (কাঠ সংগ্রহের) জন্য বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু ছুটছেন লাক্কাতুড়া অভিমুখে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত আশেকানের মুখে উচ্চরিত হচ্ছে ৩৬০ আউলিয়া কী-জয়, লালে লাল বাবা-শাহজালাল, নারায়ে তকবির-আল্লাহু আকবার ধ্বনি। ভক্তদের হাতে নাঙা তরবারি ও দা থাকলেও তাদের শোভাযাত্রা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। প্রথা অনুযায়ী ভক্তরা লাক্কাতুড়া বাগানের নির্দিষ্ট টিলায় গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে আছরের পর ফিরে আসেন দরগায়। সংগৃহিত এই কাঠ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হবে হযরত শাহাজালাল (রহ.) এর ওরসের শিরণীতে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ৭০০ বছর আগে ২৬ শাওয়ালের এই দিনে ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া নিয়ে সিলেটে পদার্পণ করেন। ওইদিনই তিনি জালিম রাজা গৌড়গোবিন্দকে পরাজিত করে সিলেট বিজয় করেন। তাই এদিনটিকে অনেকেই সিলেটে ইসলামের বিজয় দিবস হিসেবেও পালন করেন।

জানা যায়, সিলেট বিজয়ের পর হযরত শাহজালাল (রহ.) তার সঙ্গীয় আউলিয়াদের ইসলাম প্রচারের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করেন। তারা প্রতিবছর সিলেট বিজয়ের এই দিনে শাহজালাল (রহ.) এর কাছে ফিরে আসতেন এবং ধর্মপ্রচার নিয়ে আলোচনা করতেন। তাই সিলেট বিজয় দিবসটি শাহজালাল (রহ.)’র জীবদ্দশা থেকেই পালিত হয়ে আসছে।

লাকড়ি তোড়া উৎসব প্রসঙ্গে ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, একবার সিলেট বিজয় দিবসের কয়েক দিন আগে এক কাঠুরে আসেন হযরত শাহজালাল (রহ.) এর কাছে। কাঠুরে ফরিয়াদ জানান- তার ঘরে বিবাহযোগ্য ৫ মেয়ে রয়েছে। সে কাঠুরে ও নিচু জাতের হওয়ায় কেউই তার মেয়েদের বিয়ে করতে চাইছে না। এ কথা শুনে শাহজালাল কাঠুরেকে সিলেট বিজয় দিবসে দরগায় আসার কথা বলেন।

পরবর্তী সিলেট বিজয় দিবসে সঙ্গীয় আউলিয়া, ভক্ত ও আশেকানরা আসলে শাহজালাল (রহ.) সবাইকে নিয়ে লাক্কাতুড়া বাগানে গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করেন। ফিরে  এসে তিনি উপস্থিত ভক্তদের কাছে জানতে চান তারা আজ কি কাজ করেছে। উত্তরে সবাই বলেন তারা আজ কাঠুরিয়ার কাজ করেছে। এরপর শাহজালাল সবাইকে কাঠুরের দুঃখের কথা বললে উপস্থিত অনেক ভক্ত কাঠুরের মেয়েদের বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেখান থেকে কাঠুরে তার মেয়েদের জন্য বর পছন্দ করেন। এ ঘটনার পর থেকে সাম্য ও শ্রেণী বৈষম্য বিরোধী দিবস হিসেবেও দিনটি পালন করেন ভক্তরা




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025