নিউজ ডেস্ক: ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর সমুদ্র সম্পদ আহরণকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আর এর ফলেই সমুদ্র সম্পদ আহরণ নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রের সীমান্ত এলাকাতে আলাদাভাবে বিনিয়োগের পরিবর্তে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে একত্রে খনিজ সম্পদ আহরণের পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে সরকারের।
মঙ্গলবার ব্লু ইকোনমি অব বাংলাদেশ শীর্ষক এক গোল টেবিল আলোচনায় সরকারের পরিকল্পনার এমন ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। রাজধানীর মতিঝিলে বিনিয়োগ বোর্ডের কার্যালয়ে ‘স্টেট অব দ্যা ইকোনমি: ব্লু ইকোনমি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোল টেবিল আলোচনার আয়োজন করে বিনিয়োগ বোর্ড।
বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. এস এ সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড.তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক মুখ্য সচিব শেখ মো.ওয়াহিদুজ্জামান, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাট্রিজের সভাপতি (বিসিআই) এ কে আজাদ, বিনিয়োগ বোর্ডের সদস্য দিলিপ কুমার দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ব্লু ইকোনমির ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খোরশেদ আলম। ব্লু ইকোনোমির সম্ভাবনার কথায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত এবং মিয়ানমার থেকে সমুদ্র সীমা জয় করে আনা বাংলাদেশের অসামান্য অর্জন। সাগরকে পর্যটন এবং জাহাজ নির্মাণসহ অর্থকড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজে লাগানোর বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সমুদ্রের অর্থকড়ি ব্যবহারের জন্য একটি সমন্বিত কর্মকৌশল নেওয়া হয়েছে।
ভারত এবং মিয়ানামারের সঙ্গে পৃথক এবং বাংলাদেশ,চীন, ভারত ও মিয়ানামার (বিআইসিএম) সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। আঞ্চলিক অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানো হবে। এছাড়া সমুদ্রকে অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহারের জন্য উন্নত গবেষণার ব্যবস্থা করা হবে। তবে বিশাল এই সম্পদকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা বেসরকারি খাতকেই নিতে হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে সহজ শর্তে ঋণের কথা বলেন তিনি।
বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. এস এ সামাদ বলেন, সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারে নতুন বিনিয়োগ চায় বিনিয়োগ বোর্ড। প্রয়োজনে শুধু সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারে জন্যই আলাদা ব্যাংক হতে পারে। প্রণোদনা দিয়ে এখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে। সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, বেসরকারি খাত না এগোলে অর্থনীতি এগোবে না। তবে ১৪ শতাংশের বেশি হারে সুদের ঋণের বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারসহ অর্থনিতক উন্নয়নের স্বার্থে বিনিয়োগে সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে।