রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৩

বরাম হাওরে আজ কেনো এতো জল

বরাম হাওরে আজ কেনো এতো জল

বরাম হাওরে আজ কেনো এতো জল

শাকুর মজিদ |

border=0২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শাহ আবদুল করিম সিলেটের এক ক্লিনিকে মারা যান। সিলেট শহরের ঈদগাহ মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা শেষে পরদিন ভোরবেলা তাঁর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় দিরাই।

সেখানে পৌরসভা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বড় একটা নৌকা নিয়ে বরাম হাওর পার হয়ে তাঁর নিজগ্রাম উজানধলের মসজিদের মাঠে নেয়া হয়। ভরা বর্ষায় থৈ থৈ করছে চারদিক ।

একবার ঈদের নামাজের পর সালিশী করে নিজগ্রামের মসজিদ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিলো তাঁকে। দীর্ঘদিন তিনি উকার গাওতে তাঁর এক ওস্তাদের বাড়িতে থেকে সঙ্গীত সাধনা করেন। এবার তাঁর লাশ নিয়ে আসা
হয় নিজগ্রামের মসজিতে। হাজার হাজার মানুষ নৌকা নিয়ে এসেছেন জানাজা পরতে।

অবশেষে দুই দফায় জানাজা পড়ান মসজিদের ঈমাম। এ ঘটনাটির কাব্যিক উপস্থাপনা এসেছে শাকুর মজিদের লেখা মঞ্চ নাটক মহাজনের নাও-তে।

 

বরাম হাওরে আজ কেনো এতো জল ?
হঠাৎ তো নামে নাই উত্তরের ঢল !
একী শুধু বর্ষার?
কে জানে কাহার অশ্রু মিশে একাকার।

লাশের মিছিল নিয়া দুপুরের পর
ধল মসজিদ ঘাটে ভিড়ায় বহর
শত শত নাও লোক হাজারে হাজার
ইমাম সাহেব দেখে করে চিৎকার –

:”ভাইসব, বলি আপনাদের
অপেক্ষা করতে হবে কিছু সময়ের
বর্ষায় মাঠঘাট ভরে একাকার
সবাইকে ধরবে না নামাজে কাতার
একবারে উঠানেতে পড়া নয় সোজা
দুইবারে হবে তার নামাজে জানাজা।”

:ষাইট বছর আগে,
এ মসজিদে পড়তে এসে ঈদের নামাজ
বের করে দিয়েছিলো ইমাম সমাজ
গাঁও ছেড়েছিল বটে, ছাড়েনি সাধন
বিশ্বাস করে যাহা জীবন মরণ
জীবনের ফল পায় শেষ পাড়ে এসে
ঘাটে তার ভিড়ে নাও সব বাঁধা শেষে

এই নদী এই জল বরাম হাওড়
দেখে শুনে রাখে তারে তিরান্নব্বই বছর।
এই হাওড়ের পানি, নাও, মাঝি, জনে জন
কত শত দিন তারে করেছে লালন।
এ জলের রূপ রসে জেগেছিল হুঁশ
এ জলে করিম হয় ভাটির পুরুষ।

বরাম হাওড়ে আজ শেষ যাওয়া তার
সুজন কান্ডারী আজ নিজেই সোয়ার।
বাউল আবদুল করিম তবে বুঝিয়া নায়ের ভাও
সারা জীবন বাইয়া গেলেন মহাজনের নাও




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026