রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪০

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের উড্ডয়ন অনুমতি বাতিল হচ্ছে

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের উড্ডয়ন অনুমতি বাতিল হচ্ছে

দীন ইসলাম: পাওনা পরিশোধ না করায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজের উড্ডয়ন অনুমতি (এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেশন) বাতিল করতে যাচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির উড়োজাহাজ জব্দের চিন্তাভাবনা চলছে। গত ১১ই সেপ্টেম্বর রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছে পাঠানো বেবিচকের পাওনা সংক্রান্ত চিঠিতে এমনটাই জানানো হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বেবিচকের সদস্য (অর্থ) মিজানুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বকেয়া পরিশোধের জন্য রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে দফায় দফায় চিঠি দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়টি তারা কানে তুলছে না। বকেয়া পরিশোধের পদক্ষেপ নিচ্ছে না তারা। তাই পাওনা আদায়ে রিজেন্টের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাওনা আদায়ে সর্বশেষ চিঠির বিপরীতে সাড়া পাওয়া না গেলে ব্যবস্থা নেবো।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, রিজেন্টের পাওনার বিষয়টি উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গত ১১ই সেপ্টেম্বর বেবিচকের আইন কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠান এর পরিচালক (অর্থ) মো. তৌহিদ হাসানাত খান। তাতে বলা হয়, বিভিন্ন বিমানবন্দর ব্যবহারের কারণে অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বাবদ রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছে বেবিচকের পাওনা ২২ কোটি ৪১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯৪ টাকা। দফায় দফায় চিঠি দেয়ার পরও তারা এ অর্থ পরিশোধ করছেন না। পাশাপাশি বিদেশে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অ্যারোনটিক্যাল চার্জ পরিশোধ করছে না প্রতিষ্ঠানটি।

এরই মধ্যে অ্যারো থাই কর্তৃপক্ষ বেবিচক চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে লিখিত অনুরোধ করেছে। এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের উড্ডয়ন অনুমতি বাতিলসহ এয়ারলাইনসটির মালিকানাধীন উড়োজাহাজ জব্দ করে বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য অ্যাডমিরাল্টি কোর্টে আবেদন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হল। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বিমানবন্দর ব্যবহারের ফলে অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ বাবদ রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বকেয়ার পরিমাণ ২৪ কোটি ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ২৮০ টাকা। এর মধ্যে বেবিচকের পাওনা ২২ কোটি ৪১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯৪ টাকা।

এছাড়া থাই সরকারের ট্রান্সপোর্ট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অ্যারোনটিক্যাল রেডিও অব থাইল্যান্ড লিমিটেড বা অ্যারো থাই কর্তৃপক্ষ পাবে ২ কোটি ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৬ টাকা। বকেয়া অর্থ পরিশোধে রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে কয়েক দফা চিঠি পাঠিয়েও তা আদায় করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে অর্থ আদায় না হওয়া পর্যন্ত উড্ডয়ন অনুমতি বাতিলসহ প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন উড়োজাহাজ জব্দের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেবিচক।

এর আগে গত ২১শে এপ্রিল বকেয়া আদায়ে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন বেবিচকের পরিচালক (অর্থ)। এরপর একই বিষয়ে ৩০শে এপ্রিল বেবিচকের পরিচালক (এটিএস/অ্যারো)- এর সভাপতিত্বে উভয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। ওই সভায় নেয়া সিদ্ধান্তে বলা হয়, ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ অ্যারো থাই কর্তৃপক্ষের পাওনা পরিশোধ করে প্রমাণসহ তা বেবিচককে জানাবে। পাশাপাশি ওই সময়ের মধ্যে বেবিচককেও পাওনা থেকে দুই কোটি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয় রিজেন্ট। পাশাপাশি বাকি অর্থ এক বছরের মধ্যে কিভাবে পরিশোধ করা হবে তার একটি পরিকল্পনা ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে জমা দেয়ার কথা ছিল এয়ারলাইনসটির।

ওই সভায় দেয়া প্রতিশ্রুতির কোনটাই বাস্তবায়ন না হওয়ায় ৪ঠা  সেপ্টেম্বর রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে আবারও চিঠি পাঠায় বেবিচক। চিঠিতে ১০ই  সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য বলা হয়। অন্যথা এয়ারলাইনসের উড্ডয়ন অনুমতি বাতিলসহ উড়োজাহাজ জব্দের কথা জানানো হয়। যদিও এখন পর্যন্ত বেবিচককে এ বিষয়ে কোন কিছু জানায়নি রিজেন্ট এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ। এমন অবস্থা চলতে থাকার সময়ে গত ১লা জুলাই অ্যারো থাই কর্তৃপক্ষ বেবিচকের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠিতে অর্থ আদায়ের সহযোগিতা চায়। একই সহযোগিতা চেয়ে ১৭ই এপ্রিল এবং গত বছরের ১৮ই ডিসেম্বরও বেবিচক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিলেন তারা।

ওদিকে চট্টগ্রাম ভিত্তিক হাবিব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট এয়ারওয়েজ (এইচজি এভিয়েশন লিমিটেড) ২০১০ সালের ১০ই নভেম্বর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। ২০১৩ সালের ১৫ই জুলাই ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রা করে এয়ারলাইনসটি। অভ্যন্তরীণ রুটে সফলভাবে দুই বছর ফ্লাইট পরিচালনা করলেও আন্তর্জাতিক পরিসরে গিয়ে বড় ধরনের সঙ্কটে পড়েছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। কোটি কোটি টাকা বকেয়া ফেলছেন তারা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026