সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮

ওমরাহ এজেন্ট হতে ২০ লাখ রিয়াল ব্যাংক গ্যারান্টি

ওমরাহ এজেন্ট হতে ২০ লাখ রিয়াল ব্যাংক গ্যারান্টি

২০ লাখ রিয়াল ব্যাংক গ্যারান্টিতে ওমরাহ এজেন্ট

নিউজ ডেস্ক:  কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সৌদি আরবে বসে ওমরাহ হজ পরিচালনা করতে চায়, তাহলে সৌদি সরকারের নতুন আইন অনুযায়ী এখন থেকে সকল ওমরাহ এজেন্সিকে বিশ লাখ সৌদি রিয়াল ব্যাংক গ্যারান্টির চেক দিতে হবে।অতি সম্প্রতি ওমরার ব্যাপারে নেওয়া সৌদি সরকার এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

শুক্রবার বহুল প্রচারিত স্থানীয় দৈনিক আরব নিউজের একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ওমরাহ এজেন্সিগুলোকে তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ অনুযায়ী সর্বপ্রথম সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ব্যাংক নিশ্চয়তা সংক্রান্ত চেক সরবরাহ করতে হবে। একই  মেয়াদে তাদের ব্যাংক গ্যারান্টি থাকতে হবে।

ওমরাহ এজেন্সি হজ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে ওই তহবিল থেকে অর্থ কেটে নিতে সক্ষমতা থাকবে।

সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ব্যাংক গ্যারান্টি হজ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কখনও বাতিল করা যাবে না। এটা আপনা আপনি বাতিল হয়ে যাবে। কি ধরনের শর্ত সাপেক্ষে লাইসেন্স সরবরাহ করা হবে তার যাবতীয় নিয়ম-কানুন নির্ধারণে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং হজ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

যেসব বিষয় বিবেচনা করে লাইসেন্স দেওয়া হবে, তার মধ্যে থাকবে ওমরাহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক সচ্ছলতা, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা এবং ওমরাহ হজের ক্ষেত্রে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা। এবং বিশেষ করে ওমরাহ করতে আসা হজযাত্রীরা কতোটা বিলম্বে তাদের দেশে ফিরে গেছেন এবং এজেন্সিগুলো এর আগে এ কারণে কোনো নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছিলো কিনা।

সিদ্ধান্ত হয়েছে, যদি কোনো হজযাত্রীর দেশে ফিরে যেতে বিলম্ব ঘটে তাহলে সৌদি সরকার সংশ্লিষ্ট এজেন্সির অ্যাকাউন্ট থেকে পরিবহন খরচ কর্তন করে নেবে। কিংবা ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে অর্থ নিয়ে নেওয়া হবে।

নতুন রেগুলেশনের আওতায় একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এই কোম্পানি সৌদি আরবে প্রবেশ এবং প্রস্থান সংক্রান্ত হজযাত্রীদের সকল নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে, ওমরাহ কোম্পানিগুলোর উপর অর্পিত দায়িত্ব লাঘব করা।

এই প্রস্তাবিত কোম্পানিগুলোকে তাদের সেবার জন্য কিছু সার্ভিস ফি দেওয়া হবে। যা ওমরাহ এজেন্সিগুলোর কাছ থেকেই ফি হিসেবে সংগ্রহ করা হবে। এ প্রস্তাবিত কোম্পানির কার্যক্রম দেখ-ভাল করবে সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয়। এ কাজে তারা অন্যান্য মন্ত্রণালয়েরও সাহায্য নেবে। উপরন্তু যেসব কোম্পানি নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী তাদের হজযাত্রীকে দেশে ফেরাতে ব্যর্থ হবে, তারা পরে আর কখনও হোটেল বা কোনো অ্যাপার্টমেন্টের স্বয়ংক্রিয় বুকিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে না।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিশ্চিত করবে যেসব ওমরাহ পালনকারী ওমরাহ হজের ভিসা নিয়ে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবেন, তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবে। হজ মন্ত্রণালয় এটা নিশ্চিত করবে যে, সকল ওমরাহ এজেন্সি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিরাপত্তা পারমিট গ্রহণ করেছে। তারা এটাও নিশ্চিত করবে যে, সৌদি দূতাবাসগুলো থেকে জারি করা সকল ভিসা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রেরণ করবে।

নতুন রেগুলেশনের আওতায় ওমরাহ এজেন্সিগুলো হজযাত্রীর আগমনের নির্ধারিত সময়সূচি সর্বোচ্চ ৩০ দিন বৃদ্ধি করতে পারবে।

ভিসা প্রদানের আগে সৌদি সরকার এটা নিশ্চিত করবে যে, ওমরাহ এজেন্সিগুলো সকল প্রয়োজনীয় তথ্য,  যেমন- হজযাত্রীর বাসস্থান, তাদের থাকার রুম নম্বর এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত সব ধরনের রিজার্ভেশন তথ্য ওমরাহ ইলেক্ট্রনিক পোর্টালে সরবরাহ করবে। এই পোর্টাল সংশ্লিষ্ট হোটেল এবং অ্যাপার্টমেন্টের ইলেক্ট্রনিক রিজার্ভেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

এর আগে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব এসে অনেকে আর নির্দিষ্ট সময়ে স্বদেশে ফেরত যাননি। এজন্য বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের ওমরাহ এজেন্সিকে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের মাধ্যমে ওমরাহ ভিসায় লোক আনা নিষিদ্ধ করেছে সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026