সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৩

শুক্রবার এলেই কাঁচাপণ্যে আগুন

শুক্রবার এলেই কাঁচাপণ্যে আগুন

নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার এলেই কাঁচাবাজারে আগুন লেগে যায়। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের চেয়ে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি নেন বিক্রেতারা। বাজারে ক্রেতাদের সমাগম বেশি দেখার পরই বিক্রেতারা চড়া দাম হাকিয়ে বসেন। স্বয়ং বিক্রেতারাই স্বীকার করলেন শুক্রবার এলে বাজারের পরিস্থিতি একটু বদলে যায়।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর মহাখালী, বনানীসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে কাঁচাপণ্য ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনই সব তথ্য মিললো। সেই সঙ্গে গত সাতদিনের কাঁচাপণ্যের দাম পর্যালোচনা করে মিল পাওয়া গেলো তাদের কথার।

বনানী থেকে মহাখালী কাঁচাবাজারে বাজার করছিলেন চাকরিজীবী মনিরুল হক। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার ছুটির পর কিছুদিন কাঁচাপণ্যের দাম একটু বেশিই ছিল। তখন বিক্রেতাদের অজুহাত ছিলো সরবরাহ ও ক্রেতার সংখ্যা কম। কিন্তু আজ তো সরবরাহ ও ক্রেতাদের সংখ্যাই দুইই অনেক ভালো। তারপরও গত কয়েকদিনের চেয়ে দাম বেশি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই দিন আগেও বেগুন কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। প্রতিপিস ফুল ও পাতাকপি বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। আজ দাম বেড়ে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মহাখালী কাঁচাবাজারে জুয়েল নামে এক ক্রেতা কাঁচাপণ্য বিক্রেতা রমিজুল ইসলামকে বলছিলেন, মামা ছাত্র একটু দাম কম রাখেন। উত্তরে দোকানি একটা হাসি দিয়ে বলে ওঠেন, শুক্রবার ছাড়া বাজারে আসবেন, একটু কম দামে পণ্য পাওয়া যাবে।

কয়েকজন বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে এর সত্যতাও পাওয়া গেলো। কাঁচাপণ্য বিক্রেতা আজগর আলী জানান, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের চেয়ে শুক্রবারে দাম একটু বেশিই হয়। এদিন সরবরাহ বেশি হয় ও ভালোমানের পণ্য নিয়ে আসার চেষ্টা করেন বিক্রেতারা। তাই একটু দাম বেশি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, মান ভেদে ম‍ূলা প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, শশা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পেঁয়াজ (দেশি) ৪০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, আলু (লাল) ৪০ ও (সাদা) ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সিম ও কাঁচামরিচের দাম প্রায় একই রকম আছে। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও সিম ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম হালিপ্রতি ২৮ থেকে ৩০ টাকা, হাঁসের ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আর কেজিপ্রতি গরুর মাংস ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, খাসি ৪৩০ থেকে ৪৭০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১২৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাছের বাজার দিনদিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি মাছের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, রুই (দেশি) এক থেকে দুই কেজি মাছ ২২০ থেকে ৩২০ টাকা, আমদানিকৃ দেড় থেকে তিন কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৮০ টাকায়।

এছাড়া এক থেকে দুই কেজি ওজনের কাতল ২১০ থেকে ৩০০ টাকা, পাংগাস ১২০ থেকে ১৭০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ ১৪০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ ৪০০ থেকে ৮০০ গ্রাম প্রতিপিস ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া চাল, মসলা ও তেলের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ক্রেতাদের আশা শীতকালীন সবজির বেশি সরবরাহ হলে হয়তো একটু দাম কমবে এসব নিত্য ভোগ্যপণ্যের।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026