
আর তাই বিদিশাকে হাতের টেক্কা হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চালাচ্ছে জাতীয় পার্টির এই গ্রুপ। রওশন যে বিদিশাকে একেবারেই সহ্য করতে পারেন না তা বেশ ভালোভাবেই জানেন তারা। তাই তাদের উদ্দেশ্য বিদিশাকে এরশাদের কাছে ভিড়িয়ে রওশনের সঙ্গে চূড়ান্ত দ্বন্দ্ব তৈরি করা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির এক নেতা বাংলানিউজকে বলেন, বিদিশার কারণেই এরশাদের সঙ্গে রওশনের সম্পর্কের অবনতি হয়। এমনকি তাদের মুখ দেখা দেখিও বন্ধ থাকে দীর্ঘদিন। এই বিদিশার কারণেই এরশাদের বারিধারার বাসা (প্রেসিডেন্ট পার্ক) মুখো হতেন না রওশন। শুধু গত নির্বাচনের আগে এরশাদ বাসায় অবরুদ্ধ থাকার সময় বার দু’য়েক সেখানে গিয়েছিলেন। তাই পুরনো সেই ইস্যু ফের উস্কে দেওয়া খুব একটা কঠিন হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে এরশাদের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হলো- বিদিশার পক্ষের সন্তান এরিখ। এরিখের জন্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সব করতে পারেন। আর সেই দুর্বলতা কাজে লাগাতে চাইছে ওই গ্রুপটি। তারা এরশাদকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন, এরিখকে মানুষ করে তোলার জন্য মায়ের বিকল্প নেই। এরই মধ্যে এক অনুষ্ঠানে খোদ এরশাদের মুখেই এ কথাটা শোনা গেছে। তিনি এও বলেছেন, স্ত্রীর প্রয়োজন রয়েছে।
ওই বক্তব্যে স্পষ্ট করে কারো কথা না বললেও পুত্র এরিখের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এরশাদ। আর এতে স্বভাবতই এরিখের মা বিদিশার কথা এসে যায়।
দলীয় সূত্র বলছে, বর্তমান সময়ে এরশাদের পাশে সক্রিয় একজন নেতার সঙ্গে বিদিশার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। তার মাধ্যমেই এরশাদ-বিদিশার মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি এরশাদ ভারত সফরে গেলে একই সময়ে বিদিশাও ভারত সফর করেন। তখন তাদের মধ্যে সরাসরি কথা হয়েছে বলেও খবর চাউর আছে। আরও একটি কারণে এ বিষয়টি আলোচনায় এসেছে তা হচ্ছে- বিদিশা এতদিন এরিখকে দেখার জন্য প্রতি মঙ্গলবার আসতেন। নিচে বসে কিছু সময় কাটিয়ে চলে যেতেন। আর এখন বিদিশার আসা-যাওয়া অনেক বেড়ে গেছে। কোন কোন সপ্তাহে ৩ দিনও বিদিশার আগমনের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পার্কের স্টাফরা। এমনকি এরিখকে সঙ্গে করে নিয়েও যাচ্ছেন তিনি। এতে এরশাদ কোন আপত্তি তুলছেন না। তাই তাদের মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি প্রবল হচ্ছে।
২০০১ সালের দিকে বিদিশাকে বিয়ে করার কথা স্বীকার করেন এরশাদ। ২০০৬ সালে তাকে তালাকের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর সন্তান এরিখকে পেতে কোর্টে মামলা ঠুকে দেন বিদিশা। সেই মামলায় চূড়ান্তভাবে জয়ী হন এরশাদ। মামলায় বিদিশা মা হিসেবে সপ্তাহে একদিন এরিখের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পান।
বিদিশার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর একাধিক সভায় এরশাদ বলেন, আমি তাকে ধর্মমতে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর যখন দেখলাম সে ভালো নয়, তাকে তালাক দিলাম।