
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিলিব্যান্ডের বর্তমান ইমিগ্র্যাশন টাফ এই নীতি ব্লেয়ার যুগের ইমিগ্র্যাশন পলিসি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। কেননা, মিলিব্যান্ড আজকে স্বীকার করেছেন, বিগত ২০০৪ সালে যখন প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হয়, অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দরজা যখন উন্মুক্ত করে দেয়া হয়- তখন লেবারের ইমিগ্র্যাশন নীতি ছিলো ভুল বলে নিজেই স্বীকার করেছেন। আজকে এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, তিনি চান দীর্ঘমেয়াদী ট্রানজিশনাল প্রসেস- যারা আগামীতে বা অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপীয় যে সব নতুন দেশ যোগ দিবে।
এড মিলিব্যান্ড পরিষ্কার ভাবে বলেছেন, আমাদেরকে বুঝতে হবে এটা একটি রিয়েল ইস্যু এবং এ সম্পর্কে আমাদেরকে প্রকৃত অবস্থা জানতে ও বুঝতে হবে এবং অবশ্যই সেটা নিয়ে এখনি কাজ করতে হবে যথাযথভাবে।
বর্তমান কোয়ালিশন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন অবশ্য ইমিগ্রেশন কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছেন এবং তিনি বলেছেন ঠিক এভাবে “মেইক সিউর ইটস ফেয়ার”।
কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ইতোমধ্যে ইউকে প্রায় তিন গুণের চাইতে বেশী ইমিগ্র্যান্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে গ্রহণ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছর প্রায় ২.৪ মিলিয়ন রেসিডেন্ট পারমিট ইস্যু করেছে, সেখানে ৩০.০৭% লোক ব্রিটেনে এসেছেন থাকার জন্য, বা বেনিফিটের সুবিধা নেয়ার জন্য।
ইউরোস্ট্যাট কমিশনের স্ট্যাটিস্টিক দাবী করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে ৭২৪,০০০ লোক ব্রিটেনে থাকার জন্য এসেছেন। এই হিসেবের মধ্যে থেকে গত বছর ১৫% আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। টোরি পার্টি ১০০,০০০ নেট মাইগ্রেশন নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতি ব্যর্থ হয়েছে বিশেষত ইতালি ও স্পেন থেকে লোক ব্রিটেনে গণহারে আসার ফলে। সর্বশেষ তথ্য মতে গত ১২ মাসে মার্চ মাস পর্যন্ত ২৪৩,০০০ ইমিগ্র্যান্ট ব্রিটেনে এসেছেন থাকার জন্য, যেখানে পূর্ববর্তী বছর এই সংখ্যা ছিলো ১৭৫,০০০ ।
লেবার দলনেতা মিলিব্যান্ড এখন চাচ্ছেন নতুন বিল আনতে, যাতে রিক্রুটিং এজেন্সির নিয়োগ সহ সার্বিক ইমিগ্র্যান্ট তিনি কমাতে চান, এবং রিক্রুটিং এজেন্সি যারা শুধু বাইরে থেকে ওয়ার্কার রিক্রুট করতে চান, তাদের বাতিল সহ ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে। তিনি আরো চান, পাবলিক সেক্টর সহ সকল ক্ষেত্রে ইমিগ্র্যান্ট নিয়োগ ন্যূনতম পক্ষে স্ট্যান্ডার্ড ইংলিশ বাধ্যতামূলক করতে চান।
মিলিব্যান্ড টোরি পার্টির ইমিগ্র্যাশন নীতির সমালোচনা করেই ক্ষান্ত হননি, একই সাথে তিনি ইউকিপের নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমি একটি সহজ ম্যাসেজ ভোটারদের দিতে চাই আর তাহলো আমরা ইমিগ্রেশন নীতি পরিবর্তন করতে চাই, কেননা আমাদের ৩ মিলিয়ন জব তথা এনএইচএসের ক্ষতি সাধন করতে পারিনা। আমাদের প্রথম এবং চাওয়া এনএইচএস রক্ষা, স্বাভাবিক স্ট্যান্ডার্ড এনএইচএস জব, সার্ভিস চালু রাখা।
মিলিব্যান্ডের ইমিগ্র্যাশন নিয়ে এমন টাফ নীতি কনজারভেটিভ পার্টির মুখপাত্র বলেন, এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক মিলিব্যান্ড বিগত পার্টি কনফারেন্সে দেয়া বক্তব্য ভুলে গেছেন। তিনি ইমিগ্র্যাশন কমাবেন কিনা এ নিয়ে কণ বক্তব্য দেননি এবং আজকে ইমিগ্র্যাশন কমিয়ে আনার জন্য তিনি কোন কমিটম্যান্ট করেননি।
ইমিগ্র্যাশন এক্সপার্টরা বলছেন, মিলিব্যান্ড ইমিগ্র্যাশন নিয়ে নয়া এক নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন, যা ব্যাপক আলোচনার দাবী রাখে।