মফিজুর রহমান শিপন: টানা অবরোধে উৎপাদিত সবজি জেলার বাইরে নিয়মিতভাবে পাঠাতে না পারায় জমি থেকে তুলতে পারছেন না চাষিরা। এতে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে শীতকালীন সবজি। আর পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন তারা।
ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা সবজি চাষ করে পড়েছেন বিপাকে। সবুজের দৃষ্টিনন্দন সমারোহে ব্যাপক ফলন হলেও শান্তি নেই কৃষকের মনে। জমির ফসল তোলার সুযোগ হচ্ছে না তাদের। এ অবস্থায় কী করা উচিত তাও বুঝতে পারছেন না তারা। দেশের এ অবস্থা কখন শেষ হবে তা জানেন না। এ যেন এমন এক সমস্যা যার কোনো সমাধান কেউ দিতে পারে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার তিন হাজার ৬৬৮ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। এর বড় অংশই আবাদ হয় সদরপুর উপজেলার শৈলডুবি, মধুখালীর মেকচামি এলাকায়। এর মধ্যে ব্যাপক আকারে সবজি আবাদ করায় সদরপুরের শৈলডুবি স্থানীয়দের কাছে সবজি গ্রাম হিসেবেই পরিচিত।
কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোটের অবরোধ আর হরতালে এ সবজি গ্রামের সহস্রাধিক কৃষক এখন আবাদ করা সবজি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। লাগাতার অবরোধ আর এর মধ্যে দফায় দফায় হরতালের কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজির পাইকারি ক্রেতারা আসতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন শৈলডুবির সবজি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান।
হারিস মোল্লা নামের সবজিচাষি বলেন, বাইরে থেকে পাইকারি ক্রেতারা আসতে না পারায় পড়ে গেছে সবজির মূল্য। এতে অনেকেই যথাযথ দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় আমার মতো অনেকেই জমি থেকে সবজি তুলছেন না। ফলে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে সবজি। একই গ্রামের হারুন মাতুব্বর তার ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করেছেন।
তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে কুয়াশার কারণে এমনিতেই আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছিলেন। এরপর ক্ষেতে ঠিকঠাক ফলন শুরু হলেও অবরোধ আর হরতাল সর্বস্বান্ত করে ফেলেছে। পাইকাররা না আসায় সবজি পানির দরে বেচতে হচ্ছে। এভাবে তো আর চলতে পারছি না।
এদিকে কুমড়া, লাউ, শিম উৎপাদনে সুখ্যাতি রয়েছে মধুখালীর মেকচারি ইউনিয়নের। ট্রাক ঠিকমতো না চলার কারণে মেকচারির চাষিরাও তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান সাব্বিরউদ্দিন সাব্বির।
তিনি বলেন, এই ইউনিয়নটি কৃষি নির্ভর হওয়ায় বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে চাষিদের। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারি কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়ে সারা দেশে লাগাতার অবরোধ ডাকার পর প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। অবরোধের এই ২৪ দিনে নাশকতা ও সহিংসতায় অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যানবাহনে দেওয়া আগুন ও পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়েছে বহু মানুষ।