আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মিশরের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ মুরসিকে গতকাল ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের বাইরে নিহত ১০ বিক্ষোভকারীকে হত্যায় উষ্কানি দেয়ার অভিযোগে মুরসিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
একই দণ্ড দেয়া হয়েছে মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের আরও ১২ সদস্যকে। এদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র ব্যক্তিত্ব মোহামেদ এল-বালেতাগি ও এসাম এল-এরিয়ান। বিচারক আহমেদ সাবরি ইউসুফ যখন আদালতের রায় পড়ে শোনান তখন লোহার খাঁচাসদৃশ কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন মুরসি। আদালতের রায় ঘোষণা কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। মুরসির আইনজীবীরা জানিয়েছেন তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি ও আল-জাজিরা।
মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে হত্যার অভিযোগ থেকে খালাস দেয় আদালত। অন্যথায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতো। গতকাল রায় ঘোষণার আগ দিয়ে মুরসির মৃত্যুদণ্ডাদেশ হতে পারে বলে জল্পনাকল্পনা চলছিল। আদালতের কাঠগড়ায় বিচারের মুখোমুখি ব্রাদারহুড সদস্যরা চার অঙ্গুলি উঁচিয়ে আল্লাহু আকবর স্লোগান দিতে থাকেন। সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক এই প্রেসিডেন্ট তিনটি মামলায় গুরুতর একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি।
এর মধ্যে বিদেশী রাষ্ট্রে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ সালের শেষের দিকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুরসির সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দানা বেঁধে ওঠে। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তিনি একটি ডিক্রি জারি করলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়ে। এসব প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে মৃত্যু হয় একাধিক বিক্ষোভকারীর। সরকারপক্ষের কৌঁসুলিরা যুক্তি প্রদর্শন করেছেন যে, মুরসি ও ব্রাদারহুডের অন্যান্য নেতারা এর জন্য দায়ী। মুরসিসহ অভিযুক্ত প্রত্যেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০১৩ সালের মাঝামাঝি মুরসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর হতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে ৩রা জুলাই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি মুরসিকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতা নেয়ার পরপরই তিনি মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে গুঁড়িয়ে দিতে সম্ভাব্য সব রকম পদক্ষেপ নেন। শুরু হয় ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন-গ্রেপ্তার অভিযান।
মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয় শত শত ব্রাদারহুড নেতাকর্মী-সমর্থককে। সিসির বক্তব্য হলো, ব্রাদারহুড একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অংশ যা আরব ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বিদ্যমান হুমকি। মিশরের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সব থেকে শক্তিশালী অঙ্গ হলো দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা বাহিনী এবং সেনাবাহিনী। সব থেকে বড় আরব রাষ্ট্র মিশরে এখন তাদেরই একচ্ছত্র আধিপত্য।
মিশরীয় সাংবাদিক ইয়াহিয়া ঘানেম আল-জাজিরাকে বলেন, মিশরের সরকার এ বার্তা পাঠাচ্ছে যে, তারা কোন বিরোধিতা সহ্য করবে না। পুরো বিষয়টি শুরু থেকেই রাজনৈতিকভাবে হিসাবনিকাশ করা হয়েছে। মিশরের নাগরিক আর সারা বিশ্বকে এটা এ বার্তা দেয় যে, বেসামরিক শাসনের কোন ভবিষ্যৎ এখানে নেই।