নিউজ ডেস্ক: এক কোটি সিলেটবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে মহল বিশেষ ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। তাদের ইন্ধন ও প্ররোচনায় বার বার দেশের প্রথম এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
বর্তমানে প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনের মুখে ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আমিনূল হক ভূঁইয়াকে ছুটিতে পাঠানোর পর থেকে এই অচলাবস্থা চলছে। সিন্ডিকেট কোষাধ্যক্ষকে ভারপ্রাপ্ত ভিসির দায়িত্ব দিলেও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এখনো অনুমোদন না দেয়ায় ভিসিহীন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হচ্ছে না। আটকে আছে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট, অর্থ সংক্রান্ত যাবতীয় ফাইল, নিয়োগ, আপগ্রেডেশন প্রাপ্তদের বেতন, নতুন নিয়োগসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম।
বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, এক সময় ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর নাম থেকে ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর নাম মুছে দিতে চেয়ে ছিলো একটি অপশক্তি। সিলেটের মানুষের আন্দোলনে তারা সে সময় পরাজিত হয়। আর এই পরাজিত শক্তিই বার বার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তুলছে। কখনও ছাত্রদের দিয়ে আবার কখনও শিক্ষকদের দিয়ে। তারা প্রায় সকল ভিসিকে কৃত্রিম অজুহাত সৃষ্টি করে মেয়াদ পূরণের আগেই বিদায় করার চেষ্টা করেছে।
গত ১৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সৈয়দ বদিউজ্জামান ফারুক, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শরীফ মো: শরাফ উদ্দিনের সাথে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলমের কথা কাটাকাটি হয়।
আর এই ঘটনা পরবর্তিতে ভিসি বিরোধী আন্দোলনে রুপ নেয়। আন্দোলনকারীরা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি এবং আওয়ামী সমর্থিত বলে ঘোষণা দেন। এক পর্যায়ে গত ২০ এপ্রিল ৩৫ জন শিক্ষক প্রশাসিনক বিভিন্ন পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত ২৩ এপ্রিল জরুরী সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়। স্ত্রীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আমিনূল হক ভূঁইয়া ২ মাসের ছুটি চাইলে সিন্ডিকেট তা অনুমোদন করে।
এখন প্রশ্ন হলো অধ্যাপক ড. শরীফ মো: শরাফ উদ্দিনের সাথে অধ্যাপক ড. জহির বিন আলমের কথা কাটাকাটি কেন ভিসি বিরোধী আন্দোলনে রুপ নিলো?
আমরা শাবির বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিকসিলেটডটকমকে জানিয়েছেন, এখানে নাকি মুখ্য ভুমিকা পালন করেছেন বিশিষ্ট লেখক প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল । প্রফেসর ড. জাফর ইকবালের স্ত্রী প্রফেসর ড. ইয়াসমিন হকের সাথে ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আমিনূল হক ভূঁইয়ার নানা কারণে মতবিরোধ ছিলো। এ জন্য ড.জাফর ইকবালও অসন্তুষ্ট ছিলেন। আর সে জন্য তিনি শিক্ষকদের বিরোধকে ভিসি বিরোধী আন্দোলনে উস্কে দেন।নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি আর ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আমিনূল হক ভূঁইয়াকে আকারে ইঙ্গিতে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।
গত ১৩ এপ্রিল ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায় প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের স্ত্রী প্রফেসর ড. ইয়াসমিন হক ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আমিনূল হক ভূঁইয়াকে অযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ”শাবি ভিসির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তিনি এই ক্যাম্পাস চালানোর যোগ্যতা রাখেন না। বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে চালানোর জন্য একজন যোগ্য ভিসি প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।”
অন্য আরো একটি সুত্র জানায়, প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল চেয়েছিলেন ভিসি হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। অধ্যাপক ড. মো: আমিনূল হক ভূঁইয়া ভিসি হওয়ায় সে সুযোগ তার হাত ছাড়া হয়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পীকার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, শাবির সিনেট সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ কয়েস চৌধুরী প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের এই সব কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ১৬ মে শনিবার ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে সিলেটে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বার বার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দায়ী করা হয়। এছাড়া, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও জনবল নিয়োগ এবং শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও সিলেটবাসী বঞ্চনা ও বৈষম্যেও শিকার হবার পিছনে তাঁর হাত রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন পরিস্থিতির আরো অবনতি হবার আগে এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকারকে কার্যকর ভুমিকা নিতে হবে।