শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট গতকাল এক ঘোষণায় বলেছেন, যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত সিরিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাওয়া ১২ হাজার সিরীয় শরণার্থীর জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে তার দেশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ও ইরাকের দুঃস্থ ও অসহায় নারী, শিশু ও নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারসমূহকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেবে দেশটির সরকার।
অস্ট্রেলিয়া প্রতি বছর যে সংখ্যক শরণার্থীকে স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়ে থাকে, এ সংখ্যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। একই সঙ্গে কয়েকদিনের মধ্যে সিরিয়ায় কট্টরপন্থি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক আকারে বিমান অভিযান পরিচালিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সে লক্ষ্যে এরই মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অস্ট্রেলিয়া। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস।
অ্যাবট বলেন, অস্ট্রেলিয়া ১২ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে। সারা বিশ্ব থেকে বছরে ১৩ হাজার ৭৫০ জন শরণার্থী নেয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশটি। অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান মানবিক কর্মসূচির আওতায় শরণার্থীর এ সংখ্যা ঠিক রেখেই নতুন করে সিরীয় ও ইরাকি ১২ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে দেশটি।
এদিকে ২০১৮-১৯ সালে ১৩,৭৫০ জন থেকে বেড়ে ১৮,৭৫০ জনে দাঁড়াবে। গতকাল এক সংবাদ-সম্মেলনে অ্যাবট এক ঘোষণায় বলেন, সিরিয়া ও ইরাকে সহিংসতায় আক্রান্ত অতিরিক্ত ১২ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে অস্ট্রেলিয়া।
সিরিয়া ও ইরাক থেকে যাওয়া নারী, শিশু ও নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো, যাদের জর্ডান, লেবানন ও তুরস্কে সাময়িক আশ্রয় দেয়া হয়েছিল, তাদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচিত হবে। যারা সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন ও যাদের সর্বাধিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রয়োজন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
যতো দ্রুত সম্ভব পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় অস্ট্রেলিয়া। তবে স্থায়ী পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে শরণার্থীদের অতীত রেকর্ড যাচাই করা হবে। এদিকে গত রোববার টনি অ্যাবট যে অবস্থানে ছিলেন, সেখান থেকে তিনি পুরোপুরি সরে এসেছেন। তিনি বলেছিলেন, বিদ্যমান ১৩,৭৫০ জনের কোটার মধ্যেই সিরীয় শরণার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থী সঙ্কট মোকাবিলায় ৩ কোটি ১ লাখ ডলার অর্থ সহযোগিতার ঘোষণাও এসেছে অস্ট্রেলীয় সরকারের পক্ষ থেকে। অ্যাবট নিজেই সে ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া শরণার্থীদের জন্য সামান্য অর্থ সহযোগিতা বরাদ্দ করায়, ইউএন হাই কমিশন ফর রেফ্যুজিস (ইউএনএইচসিআর) সমালোচনা করেছিল। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তিরষ্কারের একদিন পরই এ ঘোষণা দিলো দেশটি।