সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ: এক সময় পরিবেশ, পরিস্থিতি এবং আদর্শ ও রাজনৈতিক ইস্যুতে একে অন্যের বৈরি ছিলো যারা, তারা আজকে সময়ের প্রয়োজনে, বৈশ্বিক রাজনীতি, কূটনীতি আর পরাশক্তির বিপরীতে নতুন জোট গড়ে নিজেদের শক্তিমত্তা ও অবস্থান জানান দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে দরকষাকষি, কিংবা কূটনৈতিক ও সমর নীতিতে তুলনামূলক ভাবে একটা ভালো অবস্থানে অথবা নিজেদের অস্তিত্বের প্রয়োজনে হউক আর পশ্চিমা শক্তির বিপরীতে একাট্রা হউক- যেভাবেই দেখা হউক না কেন, ইরান, ইরাক, সিরিয়া আর রাশিয়া এই চার দেশ একত্রিতভাবে কট্রর সন্ত্রাসী, জঙ্গি আইএস ( সাবেকী নাম আইএসএল, আইএসআইএস )এর বিরুদ্ধে জয়েন্ট ইনফরমেশন সেন্টার খোলার জন্য ঐক্যমত্যে পৌছেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্বস্থ কূটনৈতিক এক সূত্রে অবগত হওয়া গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, সেই জয়েন্ট ইনফরমেশন সেন্টারটি হবে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে। এই ইনফরমেশন সেন্টারটির প্রাথমিক কাজ যদিও বলা হচ্ছে আইএস এর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়া- কিন্তু টার্গেট গোল হলো মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে সার্বিক তথ্য সমন্বয়, সংগ্রহ, এনালাইসিস, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ ইত্যাদি। শনিবার এই ইনফরমেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার কথা রাশিয়া টুডেও নিউজ করেছে ডিপ্লোম্যাটিক সূত্রের বরাতে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে এই সেন্টার পরিচালিত হবে একজন অফিসারের তত্বাবধানে। এবং এই অফিসার নির্বাচিত হবেন রোটেশন ভিত্তিতে প্রতি তিন মাসের জন্য। ইরাক শুরুতেই তিন মাসের জন্য এর প্রধান হিসেবে কাজ করবে বলে চারটি দেশই সম্মত হয়েছে।
ইরান, রাশিয়া, সিরিয়া, ইরাক মিলিতভাবে অত্র অঞ্চলে আইএস এর বিরুদ্ধে কম্ব্যাট অপারেশন বা আইএস এর কম্ব্যাট অপারেশন মোকাবেলা করবে, জঙ্গি বিরোধী ভুমিকা পালন করবে- আইএস দমনের লক্ষ্য হিসেবে সামনে রেখেই এই সেন্টার থেকে সকল ইনফরমেশন সরবরাহ করা হবে বলে সূত্র উল্লেখ করেছে।
এদিকে রয়টার্সের এক সংবাদে এই সংবাদের সত্যতাই প্রতিফলিত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকী সামরিক বাহিনী আইএসের বিরুদ্ধে লড়তে এই জয়েন্ট সেন্টারের ব্যাপারে রয়টার্সের কাছে শনিবার এগ্রিম্যান্টের সত্যতা স্বীকার করেছেন । রাশিয়া এ ব্যাপারে বেশী কনসার্ন কারণ রাশিয়ার ভেতর থেকে সন্ত্রাসীরা এসে আইএস এর সাথে মিলিত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে বলে রাশিয়াও মনে করছে।
অডিও শুনতে ক্লিক করুন: https://soundcloud.com/rttv/russia-syria
অথচ শুক্রবারে নিউ ইয়র্কে ইরাকের ফরেন মিনিস্টার ইবরাহিম জাফরি রাশিয়ার মিলিট্যারি এডভাইজার কর্তৃক বাগদাদ কোন সহযোগিতা নিচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন। একই ধারাবাহিকতায় ইউএস ফক্স টিভি শুক্রবার রাতে রিপোর্ট করেছে, এই চারদেশ কোঅর্ডিনেশন সেল গঠনের ব্যাপারে কাজ করছে।কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিউজ এজেন্সিকে অস্বীকার করেছেন এমন সংবাদের ব্যাপারে। তিনি বরং বলেছেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে রাশিয়াকে নিয়ে ইতোমধ্যে এমন অনেক সংবাদই প্রকাশিত হয়েছে, যা সত্য নয়।
অথচ বিশ্বের নানা মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে রাশিয়া সিরিয়ায় সামরিক সহায়তা বাড়িয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে আইএস এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বৃদ্ধি করা যায়।পশ্চিমা মাধ্যম পুতিনকে বাশার আল আসাদকে পতনের হাত থেকে রক্ষার নিয়ামক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমে আরো খবর বেরিয়েছে রাশিয়া সিরিয়ার লাটাকিয়ায় সামরিক বেইস গড়ে তুলছে, ট্যাংক ও যুদ্ধ প্লেন পাঠিয়েছে।কিন্তু মস্কো এই সব সংবাদের বিরোধীতা করেই আসছে বরাবর এবং তারা বলছে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতেই রাশিয়া সিরিয়ায় যুদ্ধাস্র সরবরাহ করছে শুধু মাত্র। রাশিয়ার ফরেন মিনিস্ট্রির মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রাশিয়া কখনো সিরিয়াকে সামরিক ও মিলিটারি টেকনিক্যাল কোন সহযোগিতা গড়ে তুলছেনা, বরং রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে যুদ্ধের অস্র সরবরাহ করছে।
এদিকে সিরিয়াও মনে করছে, রাশিয়ার সামরিক কৌশল আইএস এর বিরুদ্ধে ইউএস-নেতৃত্বে এন্টি আইএস কোয়ালিশন এর চাইতে বেশী কার্যকর হবে।একই কথার সুরেই সিরিয়ার ফরেন মিনিস্টার ওয়ালিদ মাওলেম রাশিয়া টুডেকে বলেছেন, রাশিয়া কাজ করছে সিরিয়ার সাথে করা ফ্রেম ওয়ার্কের ভিত্তিতে, সিরিয়ার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোকে সামরিক সাহায্য প্রদান করছে। আমরা কোন কিছুই লুকাইনি- আন্ডার দ্য টেবিলের মধ্যে করিনি, আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতা পারস্পারিক সহযোগিতা শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
খবরে বলা হচ্ছে, রাশিয়া এন্টি টেরোরিষ্টের জন্য আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন গঠণে বা যোগদানের ইচ্ছা পোষণ করেনা বরং আইএস দমনে সিরিয়ান আর্মির কম্ব্যাট অপারেশনে সহযোগিতা দিতে চায়।
এই যখন অবস্থা, তখন বুঝাই যায় সিরিয়া ও বাশার আল আসাদ ইস্যুতে এবার পশ্চিমাদের সাথে নতুন করে ডিপ্লোম্যাটিক খেলায় রাশিয়া, ইরান, সিরিয়া ইরাক এক ভালো বার্গেনিং পয়েন্টে অবস্থান করছে। কেননা সঙ্গী হিসেবে এবার তাদের সাথে ইরান ও ইরাক। অন্যদিকে দীর্ঘ কূটনৈতিক বিরতির পর নিউক্লিয়ার ইস্যুতে ইরানের সাথে ছয়জাতির যে চুক্তি হয়েছে, তাতে পশ্চিমাদের সাথে ইরানের নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠছে। এই অবস্থায় আইএস দমনে রাশিয়ার নতুন অবস্থান, আর সেই অবস্থানে পালে ইরানের হাওয়া দান- মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে নতুন রাজনীতি ও মেরুকরন হলেও হয়ে যেতে পারে। তবে এখনি কোন সমীকরন টানা ঠিক হবেনা। আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, ইটালি সমন্বয়ে এন্টি আইএস আর এন্টি বাশার জোট শেষ পর্যন্ত রাশিয়াকে নিয়ে কোনদিকে মোড় নেয়- সেটা দেখার জন্য আরো কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে। ততোক্ষন পর্যন্ত শরণার্থীদের স্রোতের জোয়ারও বেড়ে যাবে সন্দেহ নাই।
পূণঃশ্চঃ সর্বশেষ, ফ্রান্স এয়ার স্ট্রাইক শুরু করেছে আইএস এর উপর। ব্রিটেন শীগ্রই এয়ার স্ট্রাইকে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ইরান, ইরাক, সিরিয়া, রাশিয়ার ইন্টেলিজেন্স গ্যাদারিং জোট- কিভাবে কাজ করবে- সেটাই মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। কিছুক্ষন আগে সিবিএস এর সাথে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, হুবহু এখানে তা তুলে ধরা হলো:
The only way to settle the Syrian conflict is to support the existing legitimate government in its fight against terrorism, Russian President Vladimir Putin told CBS’s ‘60 Minutes,’ adding he wants to see a united effort to fight the threat in the region(Putin).