মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১

পার্টি কনফারেন্সে ব্রিটেনে এসাইলাম ও অভিভাসন নীতিতে আরো কঠোর পরিবর্তন আনার কথা জানালেন থেরেসা মে

পার্টি কনফারেন্সে ব্রিটেনে এসাইলাম ও অভিভাসন নীতিতে আরো কঠোর পরিবর্তন আনার কথা জানালেন থেরেসা মে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: এসাইলাম সংস্কার ও অভিভাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারী থেরেসা মে। থেরেসা মে কনজারভেটিভ পার্টির কনফারেন্সে এসাইলাম সিকারদের জন্য নতুন কঠিন এক পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

কনজারভেটিভ পার্টির কনফারেন্সে থেরেসা মে বলেছেন, অতি মাত্রায় ইমিগ্রেশন ভাল সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলা অসম্ভব। তিনি মঙ্গলবার কনজারবেটিভ পার্টির কনফারেন্সে বলেন, ব্রিটেনে বর্তমান নেট মাইগ্রেশন লেভেল সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এখন আর মাইক্রেশনের দরকার নেই। এতে করে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। থেরেসা মে’র বক্তব্যের সাথে এক মত পোষন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরুন। ব্রিটেনে বর্তমানে নেট মাইগ্রেশন সর্বোচ্চ পর্যায়ের রয়েছে। এ বছরের মার্চ পর্যন্ত ৩৩০,০০০ মাইগ্র্যান্ট এদেশে এসেছে।

 তিনি বলেন, যারা যুদ্ধ ও দুর্গত অঞ্চল থেকে বেচে থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয় লাভ হিসেবে ব্রিটেনে আসছে তাদের এসাইলাম গ্রহণ আর যারা স্রেফ ব্রিটেনে প্রবেশের জন্য নিজের দেশের অবস্থা ভালো থাকা সত্যেও এদেশে এসে এসাইলাম চাচ্ছেন, তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান- এই দেয়া এবং প্রত্যাখ্যান নীতিতে কঠিণ নীতিমালার কথা ঘোষণা করেন। থেরেসা মের এই ঘোষণাকে রিফিউজি কাউন্সিল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হিমশীতল হিসেবে অভিহিত করেছে।

থেরেসা মে বলেন, ২৫,০০০ এসাইলাম আবেদন পেয়েছেন ব্রিটেনে, সরকার কিন্তু তার নেট মাইগ্রেশন টার্গেট ১০০,০০০ নীচে রাখতে বদ্ধ পরিকর। থেরেসা মে তার বক্তব্যে বলেন, আমি জানি এটা খুবই কঠিণ নেট মাইগ্রেশন লক্ষ্য মাত্রা রাখা, তার মানে এই নয় আমরা আশা ছেড়ে দেবো।আমাদের ম্যানিফেস্টোতে রয়েছে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোল রাখার, হার্ড পরিশ্রম করার এবং অবশ্যই ব্রিটেন ফার্স্ট।

তবে ব্রিটেনের বিজনেস গ্রুপ থেরেসা মে’র বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, তার বক্তব্য চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন।  রিফিউজি কাউন্সিলের চীফ এক্সিকিউটিভ মাওরিস রেন বলেন, থেরেসা মের বক্তব্য ও পরিকল্পনা আধুনিক পৃথিবীর সাথে বেমানান।

থেরেসা মে বলেন, আমি রিফিউজিদের আশ্রয় দেয়ার অফার দিচ্ছি, যারা দুর্গত ও যুদ্ধবিধবস্ত কান্ট্রি সমূহ থেকে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ব্রিটেনে এসাইলাম দেবো তাদেরই, আর যারা স্রেফ ব্রিটেন প্রবেশের জন্য আসবেন, তারা নিজেরা কাজের জন্য এনাফ উপযুক্ত, নিজ দেশের অবস্থা ভালো, তাদেরকে আমরা ফেরত পাঠাবো। মে বলেন, যারা টোরি পার্টিকে ন্যাস্টি পার্টি বলেন, তাদের প্রতি আহবান জানান আগে নিজেদের নাম রেজিস্ট্রি করুন রিফিউজি ও এসাইলাম সিকার্সদের স্থান দেয়ার জন্যে।

এদিকে রিফিউজি কাউন্সিল থেরেসা মের এমন কঠিণ পরিকল্পণায় সমালোচনা করে বলছে মে আন্তর্জাতিক রীতি নীতিকে আঘাত করছেন, যেখানে মানুষ বিপদগ্রস্থ হয়ে আশ্রয় লাভের আশায় আসছে।

হোম সেক্রেটারী স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে তার পরিকল্পনার সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, অনেক স্টুডেন্ট আছে যারা তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে যায়নি। তিনি বলেন, আমি ইউনিভার্সিটি লবিস্টদের পরোয়া করিনা। আইন সবখানে প্রয়োগ করা হবে।

তিনি এসাইলাম প্রার্থীদের জন্য নতুন পদ্ধতিসহ যারা অন্যান্য নিরাপদ দেশ থেকে ব্রিটেনে চিকিৎসার জন্য আসেন তাদের জন্য কঠোর নীতির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান আগামী বছর প্রথমবারের মত বার্ষিক এসাইলাম কৌশল প্রকাশ করা হবে। এছাড়া রেজিস্ট্রার্ড সংগঠন বা ব্যক্তি রিফিউজি সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে পারবে।

এদিকে থেরেসা মে এসময় বলেন, ইমিগ্র্যান্টদের দক্ষতার ফাঁকগুলি পূরন করতে হবে। এখানে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা দক্ষ ইলেট্রিশিয়ানদের আসতে পারবে তিনি মতদেন। তিনি বলেন, গত এক দশকের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি নেট ইমিগ্রেশন দেশের অর্থনীতিতে কতটুকু প্রভাব পেলেছে। সেখানে কোন জাতীয় স্বার্থ ছিলনা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026