মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১

বেকিং অফ ২০১৫ বিজয়ী ব্রিটিশ বাঙ্গালী নাদিয়া হোসেইন

বেকিং অফ ২০১৫ বিজয়ী ব্রিটিশ বাঙ্গালী নাদিয়া হোসেইন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ব্রিটেনে বেকিং অফ ২০১৫ শিরোপা জয় করে একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশী বাঙ্গালীদের আরো উচুতে নিয়ে গেলেন্। যার নাম নাদিয়া হোসেইন। ব্রিটিশ বেক অফ প্রতিযোগিতার এটি ছিল ষষ্ঠ পর্ব।

রানারআপ হওয়া তমাল ও ইয়ানও বলেছেন নাদিয়ার পাওনা ছিল এই পুরস্কার। তিন সন্তানের মা লুটনের নাদিয়া হোসেইন সেটাই দেখিয়ে দিলেন। ব্রিটিশ কমেডিয়ান জো ব্র্যােন্ডর হাত থেকে সেরার পুরস্কার নেন নাদিয়া। কেক-পেস্ট্রি তৈরির এই প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে ক্ল্যাসিক ব্রিটিশ কেক বানাতে গিয়ে নাদিয়া বেছে নিয়েছিলেন বিয়ের কেক।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিয়েতে কেকের প্রচলন খুব কম। আমার স্বামী আবদাল হোসেইন ও তিন সন্তানের পছন্দ অনুযায়ী কেক বানিয়েছি। নাদিয়া বলেন, স্বভাব ও সহজাত ভঙ্গিতে আমি কখনো ভাবিনি আমি পারবো, আমিই হবো- কিন্তু আমি এখন পেরেছি।

নাদিয়ার শিরোপা জয় ছিলো অনেকটাই নির্ধারিত- তার অগাধ পারফর্মেন্স আর একাগ্রতা ও যোগ্যতা দিয়েই তিনি সেটা ছিনিয়ে নিয়েছেন। দরকার ছিলো মাত্র আনুষ্ঠানিকতার। আর সেই আনুষ্ঠানিকিতায় সেটাই কৃতিত্বের সাথে প্রমাণ করেছেন। লূটনের বাসিন্দা কিন্তু লিডসের অ্যাকসেন্ট নাদিয়া ১২ বছর বয়স থেকে বেকিং করছেন, যা বুধবারে সেটা কনফিডেন্টের সাথে বিশ্ব পরিমন্ডলে প্রকাশিত হয়েছে।

চূড়ান্ত পর্বের বিচারক ছিলেন ব্রিটিশ বেকের দুই জনপ্রিয় মুখ পল হলিউড ও ম্যারি ব্যারি। দুজনই বলেছেন, নাদিয়া শুরু থেকেই নিজের একাগ্রতা, পরিশ্রম আর কাজের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে নিজের উজ্জ্বলতার স্বাক্ষর রেখেই চলেছিলেন প্রতিযোগিতার সুরু থেকেই।

শখের বশে কেক-পেস্ট্রি তৈরি করেন—এমন প্রতিযোগীদের নিয়েই এ আয়োজন। ধাপে ধাপে বাছাই শেষে ১২ জনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ১০ সপ্তাহের এই প্রতিযোগিতা। এরপর তিনজন প্রতিযোগী উত্তীর্ণ হন চূড়ান্ত পর্বে। সেই তিনজনকে নিয়েই গতকালের এই আসরে সেরা হলেন প্রথম কোনো ব্রিটিশ বাংলাদেশী। ব্রিটেনে এখন আজকের প্রজন্মের মাধ্যমে বিশেষ করে বাঙালির অর্জন অনেক। নাদিয়া তাদের খাতায় নতুন উজ্জ্বল নাম- জয়তু নাদিয়া, স্যালুট তোমাকে বাঙালির অজস্র অজুত বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়।

নাদিয়া বলেন আমি টেন্টের মধ্যে ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি বেকার নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু বেরিয়েছি জায়ান্ট বেকিং নিয়ে। টুইটের মাধ্যমে নাদিয়া বলেন, জনগনের ভালোবাসায় আমি অভিভুত। নাদিয়ার বেকিং এর পেছনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পর্যন্ত সাপোর্ট করেন। কনজারভেটিভ কনফারেন্সে দুদিন আগেই ক্যামেরন তার সমর্থন প্রকাশ্যেই বলেন। তিন সন্তানের মা নাদিয়া এখন শুধু একজন প্রাউড মাদারই নন, ব্রিটিশ নারীদের এইডলও।

নাদিয়া আরো বলেন, আমি স্কার্ফ পড়ি এবং মুসলিম। শুরুতেই অনেকেই আমাকে নিয়ে সংশয় ছিলেন, আমিও একটু দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু আমি পেরেছি, যেমন একজন সাধারণ ব্রিটিশ যেমন পারেন, আমিও একজন ব্রিটিশ হিসেবে সেভাবেই পেরেছি। সকলকে আমার অকৃত্রিম ভালবাসা ও ধন্যবাদ।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026