শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর প্রদেশের দাদ্রির বিসাদা গ্রামে গরু হত্যার গুজব ছড়িয়ে এক মুসলিমকে হত্যার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনঃস্থাপন করতে অন্যরকম উদ্যোগ নিয়েছে সেখানকার কিছু হিন্দু পরিবার।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্য মিলে এক মুসলিম পরিবারের দুই বোনের বিয়ের খরচ বহন ও অন্যান্য দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ খবর দিয়েছে দ্য হিন্দুস্তান টাইমস।
রেশাম ও জাইতুন নামে ওই দুই বোনের বিয়ে অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে আজ। ৫০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আখলাককে হত্যার পর বর্তমানে সেখানে বেশ সংবেদনশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গরু জবাই করার ভূয়া গুজব ছড়িয়ে আখলাককে হত্যা ও তার ছেলেকে গুরুতরভাবে আহত করার পর রেশাম ও জাইতুনের পরিবারের শঙ্কা ছিল, বরপক্ষ হয়তো ভয়ে বিয়েতে আসবে না।
ওই মেয়েদের পিতা মোহাম্মদ হাকিম বলেন, পাশের পাওয়ালি ও সাদুল্লাপুর গ্রামের বরপক্ষ এ গ্রামে আসবে। আমাদের গ্রামের প্রত্যেক জায়গা থেকে মানুষ এসে সাহায্য করছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করি যাতে, বিয়ে ঠিকঠাকভাবে শেষ হয়।
তিনি অবশ্য এ-ও বলেন যে, ইখলাককে যে রাতে হত্যা করা হয়, সে রাতেই খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কায় আমার দুই মেয়েকে গ্রাম থেকে দূরে পাঠিয়ে দিই। তারা এখন গাজিয়াবাদে আমার বোনের বাড়িতে রয়েছে। বিয়ের দিনই তারা ফিরবে।
গ্রামবাসীরা বলছেন, বিয়ের জন্য সব কিছুরই আয়োজন করেছেন তারা। বিয়ের পুরো খরচ গ্রামবাসীরাই বহন করবে। সবাই স্বেচ্ছায় এ উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। গ্রামের হেডম্যান সঞ্জয় রানা বলেন, আমরা সব কিছুর ভার নিচ্ছি। ১২০০ মানুষের জন্য খাবার জোগাড় করেছি আমরা। রেশাম ও জাইতুন আমাদের মেয়ের মতো। আমরা মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে আগের মতোই রয়েছি। আমাদের জন্য কিছুই পাল্টায়নি।
স্থানীয় জ্যেষ্ঠ বাসিন্দা এইচকে শর্মা বলেন, আমরা পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছি যাতে তারা সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের বিয়েবাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রাখে। কারণ, তাদের উপস্থিতি হয়তো অতিথিদের অস্বস্তিতে ফেলবে। এর আগে বরপক্ষ পুলিশের উপস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণে বিসাদা গ্রামে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
কিন্তু গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায় বরপক্ষে বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে রাজি করান নির্ধারিত দিনেই বিয়ের অনুষ্ঠান স¤পন্ন করতে। জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার সঞ্জয় সিং বলেন, গ্রামবাসীদের দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। পুলিশ সদস্যদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে দূরে মোতায়েন রাখা হবে। আমরা আশা করছি, এ বিয়ে উভয় সম্প্রদায়কে আরও কাছে আনবে।