শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ব্রাজিল থেকে পচা গম আমদানির স্মৃতি মুছতে না মুছতেই ফ্রান্স থেকে ২১ হাজার ৫০০ টন খাবার অনুপযোগী গম আমদানি করা হয়েছে। গত ১৮ই অক্টোবর খাদ্য অধিদপ্তর এমভি পিনটেল জাহাজে ফ্রান্স থেকে আনা এসব গম বাজেয়াপ্ত করেছে। পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পর এসব গমকে নিম্নমানের ও মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী বলে মত দিয়েছে তারা। বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মংলা বন্দরের গম খালাস তদারকি কমিটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে ঢাকার খাদ্য অধিদপ্তর। গতকাল আমদানি প্রতিষ্ঠান ইমপেক্স কনসালট্যান্টকে লিখিতভাবে এই গম মংলায় খালাস করা হবে না মর্মে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে পচা গমের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় খুলনার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী নজরুল ইসলামের ওপর ক্ষিপ্ত খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতনরা। মিডিয়াতে কথা বলার অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইমপেক্স কনসালট্যান্ট নামের প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চে ৫২ হাজার ৫০০ টন গম আমদানির কার্যাদেশ পায়। এর ভিত্তিতে ২৪শে মার্চ ঠিকাদারি কোম্পানির সঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের চুক্তি হয়। এরপর তড়িঘড়ি করে ফ্রান্স থেকে তারা গম নিয়ে আসে। এ বছরের ২১শে মে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৩০ হাজার ১৬৪ টনের প্রথম চালান দেশে আসে ও খালাস হয়। কিন্তু গত ১২ই অক্টোবর মংলা বন্দর দিয়ে চালানটি দেশে আসতেই বিপত্তি বেধে যায়। মংলা বন্দর গম খালাস তদারক কমিটি তা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। শেষ পর্যন্ত খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে তা খাবার অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মংলা বন্দর আমদানি গম খালাস তদারকি কমিটির সদস্য একরামুল হক জানান, তাদের কমিটির সিদ্ধান্ত খাদ্য অধিদপ্তরের নমুনা পরীক্ষার পরও বহাল রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই গম খালাস করা হবে না। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এমভি পিনটেল নামের সাইপ্রাসের পতাকাবাহী জাহাজটি ৫-৬ মাস আগে ফ্রান্স থেকে ৫২ হাজার ৫০০ টন গম নিয়ে বাংলাদেশে আসে।
কিন্তু তখনই গম পরীক্ষায় নিম্নমানের হওয়ায় জাহাজ থেকে গম খালাস হয়নি। তবে নানা কায়দাকানুনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আসা গম খালাস করা হয়। মংলা বন্দরে সুবিধা করতে না পারায় জাহাজটি বহির্নোঙ্গরে গিয়ে অবস্থান নেয়। ব্রাজিলের পচা গম নিয়ে তুমুল হইচই এবং উচ্চ আদালতের রিটের কারণে মংলা বন্দর দিয়ে আসা গম খালাস করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমপ্রতি দুই বিদেশী খুন হওয়ার পর চট্টগ্রামে অবস্থানরত খাদ্য অধিদপ্তরের বিদেশী বিশেষজ্ঞ ছুটি নিয়ে দেশে ফিরে যায়। এই সুযোগে ঢাকার আমদানিকারক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইমপেক্স কনসালট্যান্ট লিমিটেড প্রভাব বিস্তার আর অবৈধ সুবিধা দিয়ে পিনটেল জাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দরে পুনরায় ভিড়িয়ে ৩১ হাজার ৫শ’ টন গম খালাস করে।
পরে জাহাজটির বাকি ২১ হাজার টন গম নিয়ে ১২ই অক্টোবর মংলা বন্দরে প্রবেশ করে। ১৩ই অক্টোবর মংলা বন্দরে আমদানি গম খালাস তদারকি কমিটির ৮ সদস্য জাহাজটির গম পরীক্ষা করে এবং নমুনা সংগ্রহ করে। এই কমিটি আমদানিকৃত গম নিম্নমানের ও পচা বলে অভিমত দিলেও ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে গমের নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সর্বশেষ সেই নমুনা পরীক্ষা করে গমের মান নিম্ন এবং মানুষের খাবার অনুপযোগী বলে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে।