মোনাজজির হোসেন: লন্ডনে চুরি ও প্রতারনা (সপ লিফটিং) আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ব্রিটিশ বাংলাদেশী সাংবাদিক আনাস পাশাকে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এইচটি ইমামকে খুশি করতে একটি সুট কিনতে গিয়ে এমন অপরাধে গ্রেপ্তার হন।
লন্ডন পুলিশ জানায়, ব্লু ওয়াটার সপিং মলের হাউজ অফ ফ্রেইজার স্টোরে প্রায় ২৯৯ পাউন্ডের একটি সুটের মূল্য ট্যাগ পরিবর্তন করে তাতে ৮৯ পাউন্ড বসিয়ে এর পেমেন্ট প্রতারনার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ক্রেতা নোয়াখালীর প্রসেন্জিত জানান, সাংবাদিক আনাস পাশাকে হাতে নাতে আটক করে সপ কতৃর্পক্ষ। এ সময় তার সাথে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। ঘটনার পরপরই পুলিশী জেরায় পড়তে হয় এইচ টি ইমামকেও। পরে সন্মান বাঁচাতে আনাস পাশাকে চিনিনা জানিয়ে তিনি দ্রুত কেটে পরেন
ঐ সপে চাকরী করেন বাংলাদেশর তরুন সানাউল্লাহ তিনি জানান, এই প্রাইজ ট্যাগটি ছিল মহিলাদের অন্তর্বাসের। তাই সহজেই ধরা পরে যায় আনাস পাশার চিটিং। সপের দায়িত্বশীল অফিসার এডাম লিয়ার্স জানান, প্রথমে সুটের দাম কম দেখায় তাদের সন্দেহ হয়। তারা প্রতারক আনাসকে কিছু না জানিয়ে কম্পিউটারে সপের প্রডাক্ট প্রাইজ সফটয়ারের সাথে সুটের কোড মিলিয়ে চেক করতেই সঠিক ট্যাগিং ও মুল্য দেখতে পান। পরে নাম্বারের সাথে মিলিয়ে দেখা যায় ওটার আসল মূল্য ছিলো ২৯৯ পাউন্ড। তখন আনাস পাশাকে কন্ট্রোল রুমে নিয়ে যায় সিকিউরিটির সদস্যরা।
তারা সিসি টিভির ফুটেজ চেক করে দেখতে পায় আনাস পাশা কিভাবে প্রাইজ ট্যাগ বদলান। স্টোরের ম্যানাজার তখন পুলিশকে বিষয়টি ইনফর্ম করেন। প্রায় ৩০ মিনিট পর স্থানীয় নর্থফ্লিট পুলিশ থেকে এসে আনাস পাশাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তিতে তার জবানবন্দী রেকর্ড করে রাত ১১টায় আগামী বুধবার স্থানীয় মাজেস্ট্রেট কোর্টে হাজির হবার শর্তে জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়।
আনাস পাশার এমন প্রতারনার খবরটি বাঙ্গালী কমিউনিটতে ছড়িয়ে পড়লে এনিয়ে বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। আনাস পুলিশকে জানান এই গিফট টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের জন্য তার পছন্দে কেনা হয়, তবে তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তিনি এই প্রতরনার আশ্রয় নেন।
উল্লেখ্য এর আগেও আওয়ামী মদদপুষ্ট এই সাংবাদিক একটি মোবাইল সপে গিয়ে আইফোন 5s চুরির অপরাধে জরিমানাসহ ৩০ দিন জেল খাটেন।