সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৮

পৌরসভা নির্বাচনে নারীদের প্রতীক চুলা-চুড়ি-পুতুল-ফ্রক-চকলেট

পৌরসভা নির্বাচনে নারীদের প্রতীক চুলা-চুড়ি-পুতুল-ফ্রক-চকলেট

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: এবারের পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী প্রতীক রাখা হয়েছে গ্যাসের চুলা, কাঁচি, চকলেট, চুড়ি, পুতুল, ফ্রক, ভ্যানিটি ব্যাগ, মৌমাছি, আঙুর ও হারমোনিয়াম।

ইসির একজন উপসচিব বলেন, সিটি নির্বাচনের পর প্রতীক নিয়ে সমালোচনা হওয়ার কারণে এবার কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশনের বৈঠকেও এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনগুলোতে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে ওই কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেন।

নারী কাউন্সিলরদের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বরাদ্দ দেওয়া নির্বাচনী প্রতীকের সমালোচনা করেছেন নারী প্রার্থীরা। তাঁরা বলেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত নারীরা তাঁদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। অথচ নির্বাচনের প্রতীক দেখলে মনে হবে নারীরা কেবল রান্নাঘরে কাজ করেন আর বাচ্চা লালন-পালন করেন। কয়েকজন নারী প্রার্থী বলেছেন, এ ধরনের প্রতীকের কারণে অনেকেই নারীদের ছোট করে দেখার সুযোগ পান।

টাঙ্গাইল সদর পৌরসভা নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ফাহমিদা আহমেদ বলেন, এক সময় নারীদের জন্য প্রতীক কলস, পানপাতা। এসব ছিল। মানুষের ধ্যানধারণা হয়েছে এই ধরনের প্রতীকই নারীদের দিতে হবে। কিন্তু এখন পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতীক দেওয়া গেলে ভালো হয়। তাঁর মতে, এবার প্রতীকে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

বাগেরহাটের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী শারমীন নাহার বললেন, নারীদের জন্য কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন। এ ধরনের প্রতীক দেওয়া হলে ভালো হতো। তিনি বলেন, লটারির মাধ্যমে নারী ও সাধারণ ওয়ার্ডের প্রতীক বরাদ্দ দিলে ভালো হতো। তাহলে নারী বা পুরুষের জন্য আলাদা ভাবনা স্থান পেত না। সমঅধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পেত। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষ হয়েছে। এখন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দুই হাজার ৬৬৮ জন।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, এই ধরনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া নারী অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও উসকানিমূলক। এর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তিনি ভাবছেন বলে জানালেন। সালমা আলী আরো বললেন, এমন সব প্রতীক নারী কাউন্সিলরদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত অবমাননাকর। এই প্রতীকগুলো কেন নারীর জন্য প্রযোজ্য হবে? মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলরদেরও দেওয়া যেতে পারে। নারীদের রান্নাঘরের কাজ, সন্তান লালন-পালন করার মতো বিষয়গুলো মাথায় রেখে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া ঠিক না। কেননা, নারীরা আরও অনেক বড় বড় কাজ করেন।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকার দুটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও নারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া প্রতীক নিয়ে সমালোচনায় পড়তে হয় ইসিকে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সে সময় কমিশন প্রতীক দেওয়ার ব্যাপারে ভবিষ্যতে বিবেচনা করার কথা বলেছিল।

 




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026