বাংলাদেশের মহান বিজয়ের মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রায় ২৬টি দেশে একযোগে বিজয় ব্যাজ এর কর্মসূচী চালু হয়েছে।
বিশ্বে সর্বপ্রথম বিজয় দিবস ও মুক্তিযোদ্ধা স্মরণে পুরো ডিসেম্বর মাস দলমত নির্বিশেষে বিজয় ব্যাজ বুকে লাগিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করার আহ্বান জানিয়ে ২০০২ সালে কানাডার টরেন্টো শহরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কানাডা প্রবাসী লেখক ও সংগঠক বেলায়েত হোসেন চৌধুরী (রিপন) মহান বিজয় ব্যাজ চাল করেন।ধীরে ধীরে তার স্বপ্ন ও বিজয় ব্যাজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে গেছে।
বিজয় ব্যাজের মত প্রতীকী কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে ভিনদেশী যারা এখনো বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে অপরিচিত তাদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস-চেতনা-অর্জনগুলো সহজেই তুলে ধরার অবকাশ রয়েছে।বিজয় ব্যাজ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরার একটি সুযোগ।
এদিকে গত ১লা ডিসেম্বর কমিউনিটির সর্বস্থরের মানুষের অংশগ্রহণে বার্মিংহামে উদ্বোধন করা হয়েছে বিজয় ব্যাজ কর্মসূচী। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একে অপরকে বিজয় ব্যাজ পরিয়ে দেবার মাধ্যমে বিজয় ব্যাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করেন বার্মিংহামের প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ মাল্টিপারপাস সেন্টারের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নাসির আহমদ।
বিজয় ব্যাজকে সকল বাঙালীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের বাঙালীদের কাছে বাংলাদেশ এবং মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে বার্মিংহামের বাংলাদেশ মাল্টিপারপাস সেন্টারে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন কলামিষ্স্ট শেবুল চৌধুরী।অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল ইসলাম মাহতাব। বিজয় ব্যাজ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন বিবিসি বাংলা রেডিওর ও মাসিক মিলোনিয়াম সম্পাদক মাহবুব হোসেন।
বার্মিংহামের কমিউনিটি ব্যক্তিত্বদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন আলহাজ্ব ফয়জুর রহমান চৌধুরী এমবিই,আব্দুর রশীদ, নুরুল ইসলাম বেলাল, মাহবুব আলম চৌধুরী মাখন, তফজ্জুল হোসেন চৌধুরী, আলহাজ্ব মোস্তফা চৌধুরী যুবরাজ, আলহাজ্ব আব্দুল মালিক পারেভজ, মআ কাদির ও ডঃ দেলোয়ার, সাংবাদিক নাসির আহমেদ শ্যামল, শাহ রুকন আহমদ, সাইফুল আলম, সিতার আহমেদ, হিরণ মিয়া, আলহাজ্ব ফিরোজ খান, মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম,হোসেন আহমদ, আলী আহমদ, মোঃ ফখরউদ্দীন, কবি তামান্না জায়গীরদার, ফারজানা বেগম, চ্যানেল এস প্রতিনিধি রিয়াদ আহাদ,এটিএন বাংলা ইউকের প্রতিনিধি জয়নাল ইসলাম,বাংলা কাগজ বার্মিংহাম প্রতিনিধি রাজু আহমদ, মাসুম চৌধুরী ও মোঃ তুহিন চৌধুরী,মাহমুদ আলী, আলী হোসেন প্রমূখ।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট ইউ‘কে-এর পক্ষ থেকে বিজয় ব্যাজের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করা হয়। এছাড়া বিজয় ব্যাজের ব্যাপ্তিতায় বৃটেনের বিভিন্ন শহরে গিয়ে কমিউনিটির সকলকে এর সাথে সংশ্লিষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
সভায় বক্তারা বিজয় ব্যাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে দেবার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন ২০০২ সাল থেকে চালু হওয়া এ কর্মসূচীর অন্যতম সাফল্য হলো যে ভিনদেশীদের এ ব্যাজ পরিয়ে দেবার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মুক্তিযেুদ্ধের চেতনা তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যেতে আরো ব্যাপকভাবে এ কর্মসূচী পালনে তৎপর হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বক্তারা উল্লেখ করেন।
– ইমেইল প্রেরিত সংবাদ