শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:২২

বৃটেন থেকে পাউন্ড পাচার করতেন বাংলাদেশি আইএস নেতা সাইফুল

বৃটেন থেকে পাউন্ড পাচার করতেন বাংলাদেশি আইএস নেতা সাইফুল

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মার্কিন হামলায় নিহত আইসিস বা ইসলামিক স্টেট (আইএস) নেতা সাইফুল হক সুজন ছিলেন একজন বাংলাদেশি। গতকাল বৃটেনের প্রভাবশালী ডেইলি মেইলের একটি প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

পুলিশ সন্দেহ করছে, তিনি বৃটেনে অবস্থান করেই হাজার হাজার পাউন্ড পাচার করেছেন আইএসের কাছে। শুধু এক ব্যবসায়ী সহযোগী আবদুস সামাদের মাধ্যমে বৃটেন থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা সিরিয়ায় আইসিস গোষ্ঠীর কাছে পাচার করেছেন। এতে বাংলাদেশে স্থানীয় এক আইএস নেতার মধ্যস্থতা নিয়েছেন তারা।

এছাড়া, বৃটিশ এক কিশোরীকে জিহাদি ব্রাইড বানাতেও তাকে অর্থ দিয়েছেন সুজনের এই ব্যবসায়ী সহযোগী। গত ১০ই ডিসেম্বর সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মারা যান সাইফুল হক সুজন। এর আগে সুজন অর্থ পাচারে বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন আইএসের জন্য। তা করতে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছেন বৃটেনকে। যখন সিরিয়ায় গিয়ে পুরোপুরিভাবে আইএসের হয়ে কাজ করেন তখন তিনি এ গোষ্ঠীর সাইবার অপারেশন দেখাশোনা করতেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা ই-মেইল হ্যাক করতেন।

সুজন যখন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সিরিয়ায় নিহত হন তখন বলা হয়েছিল, সুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন বৃটিশ নাগরিক। কিন্তু তিনি বৃটিশ নাগরিকত্ব পান নি। স্টুডেন্ট ভিসায় পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন সেখানে। ২০১৪ সালে তার ভিসা নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বৃটেন। এরপরেই তিনি বাংলাদেশ হয়ে চলে যান তুরস্কে, তারপর সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায়। সেখানে তিনি মারা যাওয়ার পর আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ সব কর্মকাণ্ডের খবর।

বলা হচ্ছে, সুজন সিরিয়ায় টাকা পাচার করার ক্ষেত্রে ঢাকায় তার পরিবারকে ব্যবহার করতেন। প্রথমে টাকা পাঠাতেন পরিবারের সদস্যদের কাছে। সেখান থেকে তা স্থানীয় আইএস নেতার মাধ্যমে চলে যেত সিরিয়ায় আইসিস বা আইএসের হাতে। বাংলাদেশের পুলিশ সন্দেহ করছে, সুজন ও তার পরিবার এভাবে হাজার হাজার পাউন্ড প্রথমে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আইএস নেতাদের কাছে হস্তান্তর করতেন। সেই অর্থ পরে পাচার করা হতো সিরিয়ায়।

ওদিকে যুক্তরাজ্যে সাউথ ওয়েলসের নিউপোর্টে সুজনের ২৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী সহযোগী আবদুস সামাদের বাড়ি গোয়েন্দারা ঘেরাও করে ১০ই ডিসেম্বর। উল্লেখ্য, সুজন ও তার স্ত্রী সায়মা আকতার যুক্তরাজ্যে ২০০৬ সালে ইব্যাকস নামে একটি আইটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরিচালক করা হয় সামাদকে। পরে ইব্যাকসের নাম পাল্টে নতুন নাম দেয়া হয় ইব্যাকসটেল। এই সামাদকে আটক করে ম্যানচেস্টারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা। কিভাবে ইব্যাকসটেল যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় অর্থ পাঠাতো তা জানতে চেয়েছেন তারা।

এছাড়া ১৫ বছর বয়সী একটি বৃটিশ কিশোরীকে আইএস নিয়ন্ত্রিত মধ্যপ্রাচ্যে নিতে তার বিমান ভাড়া বাবদ ইব্যাকসটেলের তহবিল থেকে ৫০০ পাউন্ড দিয়েছেন সামাদ। এ বিষয়েও গোয়েন্দারা জানতে চেয়েছে তার কাছে। ওই কিশোরীকে অর্থ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নেয়া হয়েছে ‘জিহাদি ব্রাইড’ বা জিহাদিদের পাত্রী হিসেবে যোগান দেয়ার জন্য। অর্থ পেয়ে ওই কিশোরী প্রথমে তুরস্কের ফ্লাইটে ওঠে।

এরপর একটি কোচে করে চলে যায় সিরিয়া সীমান্তে। গত মার্চে আবদুস সামাদকে জামিন দেয়া হয়। ওদিকে গত মাসে ঢাকায় বাংলাদেশি পুলিশ সুজনের পিতা আবুল হাসানাত (৭০) ও ভাই আহসানুল হক গালিব (১৫)কে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ আছে ইব্যাকসটেল থেকে আবুল হাসানাত ৩ লাখ ৩৩ হাজার পাউন্ড (প্রায় চার কোটি টাকা) পেয়েছেন। পুলিশ বিশ্বাস করছে এই অর্থ প্রথমে স্থানীয় একজন আইএস নেতার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই অর্থ সিরিয়ায় পাঠিয়ে দিয়েছে ওই আইএস নেতা। আবুল হাসানাত ও তার ছেলে আহসানুল হক গালিব জেলে রয়েছেন।

আদালতের ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী সাইফুল হক সুজন স্টুডেন্ট ভিসায় ২০০৩ সালে বৃটেনে চলে যান। সেখানে গিয়ে কার্ডিফে থিতু হন। পরে ২০০৫ সালে স্ত্রী সায়মা আকতারকে নিয়ে যান নিজের কাছে। সুজন সেখানে সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটিতে একটি কম্পিউটার কোর্স করতে থাকেন।

২০০৬ সালে এই দম্পতি ইব্যাকস নামে একটি আইটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। তারা কিভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তা যৌথভাবে তদন্ত করছে ওয়েলস এবং ম্যানচেস্টারের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা। এক পর্যায়ে সুজন ও সায়মার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারা ভিসা নবায়নের আবেদন করেন।

কিন্তু ২০১৪ সালের এপ্রিলে তাদের সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। ওই বছরই জুলাই মাসে তারা যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেন। বন্ধুদের বলে আসেন যে, তারা বাংলাদেশে ফিরে আসছেন। কিন্তু ঢাকা পৌঁছার এক মাসের মধ্যে ওই দম্পতি ও তাদের দুটি ছেলে ঢাকা ত্যাগ করেন। পরিবারের সদস্যদের বলেন যে, তারা যুক্তরাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন।

গোয়েন্দারা মনে করছেন ওই সময়েই তারা বিমানে করে তুরস্কে যান এবং সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়া পৌঁছেন। সেখানে জুনায়েদ হোসেন (২১) নামে এক বৃটিশ নাগরিক আগস্টে মারা যাওয়ার পর আইএসের সাইবার অপারেশনের দায়িত্ব পান সাইফুল হক সুজন।

ওদিকে সুজনের পরিবার বলছে, সুজনের স্ত্রী সায়মা আকতার এখনও সিরিয়ার রাকায় অবস্থান করছেন। এই রাকাকে সিরিয়ায় আইএসের রাজধানী হিসেবে ধরা হয়। তাহলে আবদুস সামাদকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ বলেছে, এটা ব্যাপক একটি সন্ত্রাসবিরোধী অনুসন্ধানের অংশ। এর বেশি মন্তব্য করতে পারবো না আমরা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026