মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৮

সাংবাদিকদের ক্ষমতা দেখানো আর নিজ এলাকায় দূর্নীতি-অপকর্মের কারণে ভরাডুবি হয়েছে সাবেক মেয়র পাপলুর

সাংবাদিকদের ক্ষমতা দেখানো আর নিজ এলাকায় দূর্নীতি-অপকর্মের কারণে ভরাডুবি হয়েছে সাবেক মেয়র পাপলুর

নিউজ ডেস্ক: গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু ২০০২ সালে দেশের প্রথম কনিষ্ট পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে জয়লাভ করেন। তৎকালীন সময়ে সুদর্শন তরুন প্রার্থী হিসেবে মিডিয়ার নজরে পাপলু ছিলেন আকর্ষনীয় ব্যাক্তিত্ব। এর পর মিডিয়ার বদৌলতে পাপলু হয়ে যান গোলাপগঞ্জ পৌরসভার এক হিরো এমনকি নজরে আসেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের।

সেই পাপলু অর্থের লোভে সবকিছু ভূলে এমন বেপোরোয়া হয়ে যান ফলে মিডিয়াই থাকে হিরো থেকে ভিলেনে পরিণত করেছে। যে মিডিয়ার কারনে পাপলু ভিডিও দোকানদার থেকে দেশের আলোচিত ব্যাক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন, সেই মিডিয়াকর্মীরাই তার অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্নভানে হয়রানীর শিকার হয়েছেন।

২০১৫ সালের নির্বাচনে মিডিয়া কর্মীরা পাপলুকে চ্যালেঞ্জ করেছিলো। সেই চ্যালেঞ্জে সাংবাদিকদের কলমের শক্তির কাছে পাপলুর সুচনীয় পরাজয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আহাদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।

ফেসবুকের স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

গোলাপঞ্জের সাংবাদিক সমাজের কলমের শক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত জাকারিয়া আহমদ পাপলুর নৈতিক পরাজয় হয়েছে। সাংবাদিকরা পাপলুর অন্যায় অপকর্মের বিরূদ্ধে যেভাবে কলম ধরেছিলেন, তাদের কলম যে সত্যের পক্ষে ছিল তা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে। তিনি শুরু থেকেই নানা অনিয়ম আর দূর্নীতি করে আসছিলেন, আর যারা তার অপকর্মের চিত্র সমাজের সামনে তুলে ধরতেন তাদেরকেই তিনি নিজের ভাষায় গালি দিয়ে বলতেন ‘হলুদ সাংবাদিক’।

লন্ডন প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো টাকায় নির্মিত গোলাপগঞ্জের কদমতলীর খান কমপ্লেক্স থেকে টেক্স আদায়ের নামে মাস্তানদের দিয়ে মালামাল লুটপাট করতে চেয়েছিলেন। সাংবাদিকরা সেদিন সোচ্চার ছিলেন বলে খান কমপ্লেক্সের পরিচালক ফখরুল ইসলামের কাছে তারা ক্ষমা চাইতে হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে গোলাপগঞ্জের, কারণ খান কমপ্লেক্সের মালিক পক্ষ কয়েক কোটি টাকা গোলাপগঞ্জে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল। সবগুলো টাকা মেয়র পাপলু ও তার লেলিয়ে দেওয়া মাস্তান বাহিনীর কারণে লন্ডনে তারা ফেরত নিতে বাধ্য হন।

এক মেয়রের লোভের কারণে গোলাপগঞ্জের মানুষ বড় ধরনের বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হলো। গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঘোষগাঁও গ্রামের অধিবাসী বিধান চন্দ্র দাশ রনকেলী ১ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ২০০৪ সালে প্রতিষ্টানটি দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজ হাতে রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব রফিক উদ্দিনের হাতে সম্মান স্বরূপ পদক তুলে দেন। ঐ বিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আগমন করলে সেখানে কথা বলার সুযোগ না দেয়ায় অনুষ্ঠানের পরিচালক বিধান চন্দ্রকে শার্টের কলারে ধরে মঞ্চ থেকে নামিয়ে মেয়র পাপলু মারধর করেন। সেদিন এই অন্যায়ের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল গোলাপগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ।

গোলাপগঞ্জ উত্তর বাজারের ঔষধের ব্যবসায়ী কবিরাজ প্রফুল্ল কুমার সরকার দীর্ঘ ২৫বছর ধরে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। মাত্র ৩ টি পরিবারের রাস্তার জন্য তার বাসার গেইটে তালা ঝুলিয়ে গভীর রাতে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে দেয়াল ভেঙ্গে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল। গোলাপগঞ্জ উত্তর বাজার থেকে স্বরসতী হয়ে কান্দিগাঁও খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তার যে করুণ দশা তা বর্ণনাতীত। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল করলেও মেয়র পাপলু এ ব্যাপারে অন্ধ ছিলেন।

এত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির প্রতি খেয়াল না দিয়ে মাত্র ৩ টি পরিবারের জন্য রাতের অন্ধকারে অন্যের বিল্ডিংয়ের দেয়াল ভেঙ্গে তালা মেরে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করার বিষয়টি সংবাদপত্রে প্রকাশ করলে মেয়র পাপলু সাংবাদিক সমাজের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মামলা করেন। পাপলুর আনীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণীত হলে তাতে তার নৈতিক পরাজয় ঘটে। সাংবাদিকদের কলমের শক্তির কাছে পাপলুর সন্ত্রাস বাহিনীর পরাজয় হলে কবিরাজ চাঁদশি প্রফুল্ল কুমার সরকার তার বিল্ডিংটি রক্ষা করতে সক্ষম হন।

গোলাপগঞ্জ বাজারের একটি বিল্ডিংয়ে ভাড়া নিয়ে জকিগঞ্জের এক যুবক বিভিন্ন ভাবে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি সাংবাদিক সমাজ জানতে পারলে ওখানকার যুবক ও যুবতীদেরকে তাড়িয়ে দেন। তাতে বাদ সাধেন জাকারিয়া আহমদ পাপলু। তিনি তাদেরকে নিজের নানার বাড়ির লোক বলে আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি মেয়র থাকতে কেউ তাদেরকে গোলাপগঞ্জ বাজার থেকে তাড়িয়ে দিতে পারবে না।

তখন সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল যুবকের বাড়ি জকিগঞ্জে চাকরি করে কানাইঘাটে, থাকেন গোলাপগঞ্জে এমনকি লোকটি অবিবাহিত আবার তার বাসায় অপরিচিত যুবক যুবতীদের আগমনের কারণ কি? এর কোন জবাব না দিয়ে মেয়র পাপলু তাদের পক্ষ নিয়ে গোলাপগঞ্জে তাদেরকে রাখতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। এমন রহস্যজনক বিষয় নিয়ে সাংবাদিক সমাজ গর্জে উঠলে মেয়র পাপলু তার ক্ষমতার দাপট দেখালেও শেষ পর্যন্ত তাদেরকে গোলাপগঞ্জে রাখতে পারেনি। ব্যর্থ হয়ে সাংবাদিক সমাজের বিরুদ্ধে পাপলুর ইন্দনে মামলা করা হলে মামলার বাদী এক পর্যায়ে ফেঁসে যান।

শেষ পর্যন্ত বাদী সাংবাদিক সমাজের কাছে ক্ষমা চেয়ে সত্য কথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, এখানকার সব অপকর্মের মূল হচ্ছেন জাকারিয়া আহমদ পাপলু। তার ইন্দনেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছেন।

গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের মূল যোগাযোগের পথ হচ্ছে আহমদ খান রোড। ঐ রোডের ড্রেনের ময়লা রাস্তার উপর উঠে কিভাবে নাগরিক জীবনে বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছিল তা সবার জানা। ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের নামে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করতো মেয়র পাপলু। এ বিষয়টি নিয়ে ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হলে মেয়র পাপলু বাধ্য হয়েছিল রাস্তার কাজ করতে। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলালুজ্জামান হেলাল সব সময় সোচ্চার ছিলেন।

এই প্রতিবাদী মানুষটাকে ঘায়েল করতে পৌর ভবন ভাংচুরের অভিযোগে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। পাপলু এতে হেলালুজ্জামানের চাকুরীজিবী ভাই ও একজন সাংবাদিকসহ অনেককেই আসামী করে।

ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি করলেও শেষ পর্যন্ত মাননীয় আদালত ঐ মামলা হতে সবাইকে নির্দোষ ঘোষনা করে খালাস দেন। এই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে সেদিন রুখে দাড়িয়ে ছিল গোলাপগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ। মেয়র পাপলু অন্যায়ভাবে মামলা করে প্রতিবাদী জনতাকে যে হয়রানী করছেন তা সাংবাদিক সমাজের লিখনী শক্তির মাধ্যমে প্রমানীত হয়েছিল। মামলাটি যে মিথ্যা ছিল তা আদালতেই প্রমান হয়েছে।

নিজ এলাকার রনকেলী নয়াগ্রামে পবিত্র রমজান মাসে ইফতার সামগ্রী বিতরণকে কেন্দ্র করে তারই ইন্দনে সংঘর্ষ হলে প্রতিপক্ষের ১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়েে সে শক্তি যুগিয়েছিল। সেখানেও নিরীহ মুসল্লীদের পক্ষ নিয়ে গর্জে উঠে সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিকদের লিখনী শক্তির কারণে ঐ ১০ জন গ্রামবাসী শেষ পর্যন্ত মামলা থেকে অব্যহতি পান। সব সময়ই সাংবাদিক সমাজ প্রমান করে দিয়েছে পাপলু একজন মিথ্যাবাদী ও মামলাবাজ। এমন কোন অপকর্ম নেই যা সে নিজের স্বার্থে করতে পারে না।

কিছুদিন পূর্বে তার স্ত্রীকে দিয়ে নাটক সাজিয়ে গোলাপগঞ্জের এক সাহসী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আমরা আশাবাদী তদন্তে মেয়র পাপলু কর্তৃক দায়েরকৃত এই অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণ হবে। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি মেয়র পাপলু কখনো নিজে বাদী হয়ে আবার কখনো তার চেলাচামুন্ডাদের দিয়ে সাংবাদিক ও প্রতিবাদী জনতার বিরুদ্ধে অনেক মামলা করিয়েছে। কোন মামলাতেই সে বা তার দুষ্ট চক্র জয়ী হতে পারেনি। প্রতিটি ক্ষেত্রে তার পরাজয় হয়েছে।

সাংবাদিক সমাজ পাপলুর অন্যায় অপকর্মের চিত্র তুলে ধরেছে বলে তাদেরকে নাজেহাল করতে সে সব সময়ই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অপচেষ্টা করেছে। কোন দিনই তার কোন চেষ্টা বা অপচেষ্টা সফল হয়নি। সাংবাদিক সমাজ মানুষের অধিকার প্রতিষ্টা, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়ীকতামুক্ত পৌরসভা গড়তে সুন্দরের স্বার্থে সর্বস্থরের জনগনের পক্ষে যেভাবে কলম ধরেছিল সেই কলমের কালিতে শক্তি যুগিয়ে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে একজন যোগ্য প্রার্থীকে পৌরবাসী বিজয়ী করেছেন।

আর এ পৌর নির্বাচনে সাংবাদিকদের কলমের শক্তির কাছে নৈতিক পরাজয় হয়েছে গোলাপগঞ্জের বহুল আলোচিত, ১৯৯৭, ১৯৯৮, ১৯৯৯ সালের গোলাপগঞ্জ থানার কালো তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী জাকারিয়া আহমদ পাপলুর মত এক গন-দুশমনের।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026