শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে একটি ঔষধের পরীক্ষামূলক ব্যাবহার করার পর এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় একজন কোমায় চলে গেছেন এবং পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘটনাটিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক গিলেস এডেন আশঙ্কা করছেন যে, হাসপাতালে থাকা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন স্থায়ীভাবে হারাতে পারেন তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। এই চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালে থাকা পাঁচজনের মধ্যে চারজনই নানা মাত্রায় নিওরোলোজিকেল বা স্নায়োবিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।
আর তিনজনের অবস্থা এমনই গুরুতর যে, তারা হয়তো প্রতিবন্ধী হয়ে যাবার আশঙ্কা আছে এবং সব ধরণের চেষ্টা বা সর্ব্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেবার পরও তাদের পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ব্যাথানাশক এই ঔষধের মূল উপাদান গাঁজা বলে যে তথ্য বেরিয়েছে, সেটিকে নাকচ করে দিয়েছে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। একইসাথে এই ঘটনার সব বিষয় তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মারিসল টোরেইন।
তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা নজিরবিহীন এবং এই ঘটনা উন্মোচনের জন্য যে তদন্ত হবে তা সর্বোচ্চ সতর্কতার দাবী রাখে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রেনে শহরে যাওয়ার কথা রয়েছে।ঔষধটির পরিক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলেন, যে কোনো ঔষধের পরীক্ষামূলক ব্যাবহারের ক্ষেত্রে তিনটি ধাপ রয়েছে। এই ঔষধটির পরীক্ষার প্রথম ধাপেই গুরুতর অসুস্থ হওয়ার এই ঘটনা ঘটলো। আরো পাঁচজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে তিনজনের প্রতিবন্ধী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস। এবং তদন্তকারিরা ল্যাবরেটরিটির স্বেচ্ছাসেবকদের ডেকে পাঠিয়েছে। আক্রান্ত ঐই পাঁচজনকে নিয়েই চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। কারণ এই ঔষধের যে পার্শপ্রতিক্রিয়া হয়েছে, তার কোনো প্রতিষেধক নেই বলেই বলা হচ্ছে।
বেদনানাশক নতুন এই ঔষধটি তৈরি করেছিল পর্তুগিজের একটি প্রতিষ্ঠান। রেন শহরে ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি গবেষণাগারে ঔষধটি পরিক্ষামূলকভাবে ৯০ জনের ওপর ব্যবহার করা হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় একজনের মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়েছে এবং তিনি কোমায় চলে গেছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।