মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩

দেশের সবচেয়ে বড় দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন

দেশের সবচেয়ে বড় দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন

শফিক আহমেদ সাজীব: চট্টগ্রামে দেশের সবচেয়ে বড় দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করলো সিডিএ ৪৭ ফুট উঁচু এবং ৩৩ ফুট প্রস্থের বিশাল ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুর তিনটি ম্যুরাল। কুয়াইশ রাস্তার মুখে তিনদিক থেকে দেখা যায় এমন করে অনন্য সুন্দর তিনটি ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়েছে। ব্যয় করা হয়েছে এক কোটি টাকা।

আগামী ৩০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ম্যুরাল উদ্বোধন করবেন। একই সাথে উদ্বোধন হবে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ। দেশে বঙ্গবন্ধুর এত বড় ম্যুরাল আর কোথাও নেই। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষই প্রথম এই ধরনের একটি ম্যুরাল স্থাপন করলো। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেবি ইন্টারন্যাশনাল ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। এখন শেষ মুহূর্তের ধোঁয়ামোছার কাজ চলছে।

নগরীর অক্সিজেন থেকে কুয়াইশ সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে অনন্যা আবাসিক এলাকার ভিতর দিয়ে। ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৬০ ফুট প্রস্থ রাস্তাটি নির্মাণে সিডিএ খরচ করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

বিশাল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাটির নাম দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ। অক্সিজেন থেকে কুয়াইশ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউকে ঘিরে নির্মাণ করা হয় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। অক্সিজেন অংশে নির্মাণ করা হয় বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ম্যুরাল এবং কুয়াইশ অংশে নির্মাণ করা হয় পুরো শরীর। বঙ্গবন্ধুর তিনটি ছবি ব্যবহৃত হয়েছে তিনটি ম্যুরালে। প্রতিটি ছবির উচ্চতা ৪৭ ফুট এবং প্রস্থ ১১ ফুট। তিনটি ছবি মিলে ৪৭ ফুট বাই ৩৩ ফুটের ত্রিকোণ ক্যানভাস।

কাপ্তাই রাস্তার মাথা, অক্সিজেন এবং কুয়াইশ বুড়িশ্চরের দিক থেকে আসতে বঙ্গবন্ধুর বিশাল ম্যুরাল চোখে পড়ে। অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাটির নির্মাণ কাজ পরিচালনা করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জে বি ইন্টারন্যাশনাল।

জেবি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাবেদ হোসাইন বলেন, আমাদের কাজ শেষ। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।

সিডিএ চেয়ারম্যানের নিবিড় তত্ত্বাবধানে একেবারে নিখুঁতভাবে ম্যুরালটি নির্মিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে জাবেদ হোসাইন বলেন, চেয়ারম্যান স্যার বাড়ি থেকে আসা যাওয়ার পথে প্রায় প্রতিদিনই ম্যুরালের কাজে টুকিটাকি নির্দেশনা দিয়ে এটিকে মনের মতো করে গড়ে তুলেছেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর এত বড় ম্যুরাল দেশের আর কোথাও নেই। আমরা বিশাল একটি রাস্তা করেছি। বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ নামকরণ করেছি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর একটি ম্যুরাল না থাকলে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউকে বেমানান লাগছিল। তাই বঙ্গবন্ধুর একটি ম্যুরাল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করি।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন,প্রথমে ছোট আকৃতির ম্যুরাল করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে মনে হলো চট্টগ্রাম সবকিছুতেই এগিয়ে থাকে। তাই বঙ্গবন্ধুর বিশাল ম্যুরাল নির্মাণেও চট্টগ্রাম এগিয়ে থাকলো। এটিকে দেশের সবচেয়ে বড় ম্যুরাল বলে আখ্যায়িত করে আবদুস ছালাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের জন্য অকাতরে দিয়েছেন।

হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে চট্টগ্রামের উন্নয়নে। যে মহান নেতার জন্য আজকের বাংলাদেশ, সেই মহান নেতার স্মৃতি রক্ষার্থে চট্টগ্রাম পিছিয়ে থাকতে পারে না। তাই দেশের সবচেয়ে বড় ম্যুরালটি নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী এবং আর্কিটেক্টরা নিয়মিত মনিটরিং করে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ম্যুরালটি নির্মাণ করেছেন বলেও সিডিএ চেয়ারম্যান জানান।

 




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026