শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলপূর্বক আটকাবস্থার শিকার। জাতিসংঘের একটি প্যানেলের এমন সিদ্ধান্তে তিন বছর পর আজ শুক্রবার তিনি লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস ছাড়তে পারেন। এ উপলক্ষে আজ লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছে উইকিলিকস।
এ
এফপির খবরে জানানো হয়, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ও তাঁর আইনজীবী জাতিসংঘ প্যানেলের ওই সিদ্ধান্তের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবেন। লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরের একটি স্থানে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছে উইকিলিকস।
অ্যাসাঞ্জ দূতাবাস ছেড়ে বেরিয়ে আসার সময় তাঁর সমর্থনে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বলপূর্বক আটক-সংক্রান্ত জাতিসংঘের প্যানেল আজ অ্যাসাঞ্জের বিষয়ে তাদের অনুসন্ধানের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যাসাঞ্জ ওই প্যানেলের কাছে সুইডেন ও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
এতে দাবি করা হয়, লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে তিনি অবৈধভাবে বলপূর্বক আটকের শিকার হয়ে আছেন। কারণ সেখান থেকে বের হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।
এর আগে টুইটারে গতকাল উইকিলিকসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে অ্যাসাঞ্জ বলেন, জাতিসংঘের প্যানেল যদি আমার বিরুদ্ধে রায় দেয়, তবে আমি দূতাবাস ছেড়ে চলে যাব। তখন ব্রিটিশ পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো আবেদনে অর্থবহ কোনো পরিবর্তনের আশা নেই।
অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘রায় যদি আমার পক্ষে আসে এবং এটি প্রমাণিত হয় যে, রাষ্ট্রপক্ষের কার্যক্রম অবৈধ। আমি প্রত্যাশা করব, আমার পাসপোর্ট আমাকে ফেরত দেওয়া হবে। এ ছাড়া আমাকে গ্রেপ্তার করার যেকোনো চেষ্টাও বন্ধ হবে।’
সুইডেনের সরকারি কৌঁসুলিরা বলেন, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগের ওপর তাঁদের তদন্তে ওই রায়ের কোনো প্রভাব পড়বে না। আর যুক্তরাজ্য বলেছে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যতক্ষণ ইউরোপীয় গ্রেপ্তার আদেশ বহাল থাকছে, ততক্ষণ তারা তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
২০১০ সালে কয়েক লাখ মার্কিন গোপন নথি ফাঁস করে সারা দুনিয়ায় হইচই ফেলে দেয় উইকিলিকস। এরপর ধর্ষণের অভিযোগে সুইডেনে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন।