শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: লেখক-প্রকাশক গ্রেপ্তার মৌলবাদীদের উৎসাহিত করবে। একুশের বইমেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা’র অভিযোগে ব-দ্বীপ প্রকাশন-এর কয়েকটি প্রকাশনা জব্দ এবং স্টল বন্ধ করে লেখক ও প্রকাশকদের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও নিন্দা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
বি
বৃতিতে বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মাণিক, লেখক হাসান আজিজুল হক বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ও গণমান্য ব্যক্তিরা স্বাক্ষর করেন। মঙ্গলবার সংগঠনটির এক বিবৃতিতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, পুলিশ ফেসবুক-এর অভিযোগের ভিত্তিতে একুশের বইমেলায় এই অভিযান চালিয়েছে, যা দেশের প্রচলিত আইন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের লংঘন।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হয়েছে কি হয়নি― বিষয়টি আদালতের বিচার্য বিষয় মন্তব্য করে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র শিবির কিংবা তাদের সমচরিত্রের মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনের এহেন দাবি বা ফতোয়া যদি পুলিশ বাস্তবায়ন করতে যায়― বাংলাদেশ মোল্লা উমরের আফগানিস্তান বা জিয়াউল হকের পাকিস্তানের মতো মৌলবাদী দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে, যে লক্ষ্যে ৭১-এর গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধী জামায়াতীরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে।
আপত্তিকর ও ক্ষতিকর বিষয়বস্তু থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে মন্তব্য করে বলা হয় মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনও বই বাজেয়াপ্ত বা লেখক-প্রকাশকের গ্রেফতার নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়, যা মুক্তচিন্তার প্রতিপক্ষ ওহাবিবাদী, মওদুদিবাদী মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করবে।
বাংলা একাডেমীর বইমেলার নিয়ম অনুযায়ী ব-দ্বীপ প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়া হলে, সেক্ষেত্রে জামায়াত-হেফাজতের অনুসারী মৌলবাদী কলমসন্ত্রাসীদের বই কিভাবে মেলায় বিক্রি হয় তার জবাব বইমেলার কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, বাংলা একাডেমীর বইমেলায় জামায়াত-হেফাজতের অনুসারী মৌলবাদী কলাম সন্ত্রাসীদের লেখা অবাধে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ও গণপরিবহনে আদালতে দণ্ডিত গণহত্যাকারী দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও তার অনুসারীদের সিডি বাজানো হচ্ছে।
বাজারে মাদ্রাসার বইয়ে বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রের চার মূলনীতির বিরুদ্ধে কুৎসামূলক লেখা লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হচ্ছে― পুলিশ কোথাও এসবের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এমন সংবাদ আমরা গণমাধ্যমে দেখিনি।
প্রথাবিরোধী খ্যাতিমান লেখক হুমায়ূন আজাদ ও গত বছর ডঃ অভিজিৎ রায়সহ ৫ জন প্রগতিবাদী লেখক ও প্রকাশককে হত্যার বিচার আজও হয়নি বলে ক্ষোভ জানিয়ে বলা হয়, বরং মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের হুমকি ও হামলার কারণে হুমায়ূন আজাদের পুত্র তরুণ ব্লগার অনন্য আজাদকে দেশত্যাগ করতে হয়েছে। বিচার ও শাস্তিহীনতা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে বলেও মন্তব্য করা হয়।