শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৪

যে কারনে মাহফুজ আনাম ক্ষমা চাইছেন তাঁর প্রতিবাদেই সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জন্ম

যে কারনে মাহফুজ আনাম ক্ষমা চাইছেন তাঁর প্রতিবাদেই সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জন্ম

১/১১ খ্যাত জরুরী সরকারের আমলে সম্পাদকদের দালালি নিয়ে এখন অনেক আলোচনা সমালোচনা চলছে। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর সরবরাহ করা সংবাদ ছাপা নিয়েও কথা উঠছে। এজন্য ইংরেজী দৈনিক ডেইলি ষ্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম ক্ষমাও চেয়েছেন। একটি বেরসকারি টেলিভিশনের টকশোতে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তবে এ ক্ষমা চেয়েছেন তিনি শুধু ডিজিএফআই-এর সরবরাহ করা সংবাদ প্রকাশের নিমিত্তে। ১/১১-এর জরুরী সরকারের দালালি এবং দম্ভোক্তির প্রসঙ্গে কিছুই বলেননি।

মানুষের চরিত্র হননের পর ঠেলায় পড়ে ক্ষমা চাওয়াই তাদের অভ্যাস। তিনি শুধু পত্রিকায় দু-চারটি খবর ছাপছেন তা কিন্তু নয়। জরুরী আইনের সরকারের এক নাম্বারের চাটুকার ছিলেন। ছোট একটি ঘটনাই এ দালালি প্রমানের জন্য যথেষ্ট। জরুরী আইন জারি হয়েছিল ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী। এর মাত্র ৪দিন পর ১৫ জানুয়ারীর ঘটনা। সেদিন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে জরুরী আইনের সরকারের তথ্য উপদেস্টার মত বিনিময় সভা ছিল।

সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সভার সঞ্চালক ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, জরুরী আইনের সরকারকে সব করমের সহযোগিতা দেয়ার জন্য তিনি অন্য সম্পাদকদের অনুরোধ জানান। এসভায় একজন সাংবাদিক জরুরী আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রসঙ্গ উঠিয়েছিলেন। তখন তাঁকে ধমকের সূরে মাহফুজ আনাম বলেছিলেন-‘হু আর ইউ টু স্পিক এগেনিস্ট দ্যা ইমার্জেন্সি। উই হ্যাভ ব্রট ইমার্জেন্সি’। একথাটির বাংলা তরজমা হচ্ছে-জরুরী অবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলার আপনি কে? আমরাই জরুরী অবস্থা এনেছি।

সভাটি শেষ হওয়ার পর বাইরে অপেক্ষমান রিপোর্টারদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেছিলেন ‘এ সরকার হচ্ছে আমাদের আন্দোলনের ফসল, আমরাই এ সরকার এনেছি’। সেদিনের বেসরকারি টেলিভিশন গুলোর সংবাদের দিকে দৃষ্টি দিলে মাহফুজ আনামের দম্ভোক্তি এখনো শোনা যাবে। গায়েবী সোর্স থেকে রাজনীতিকদের চরিত্র হননের ফিরিস্তি প্রকাশের জন্য শুধু তিনি ক্ষমা চাইলেন। কিন্তু দম্ভোক্তির কথা হয়ত: তিনি ভুলেই গেছেন!

তবে আমার মত মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টার যারা সেদিন সংবাদটি কাভার করেছিলেন, এবং যারা টেলিভিশন চ্যানেল গুলোতে সংবাদটি দেখেছেন বা পত্রিকায় পাঠ করেছেন তারা ভুলে যাওয়ার কথা নয়। আমার এ লেখা যারা পাঠ করবেন চাইলে ২০০৭ সালের ১৬ জানুয়ারীর পত্রিকা গুলো দেখে নিতে পারেন। মাহফুজ আনামরা সেদিন কি বলেছিলেন, এবং দালালি কতটা করেছিলেন।

সে সময় দু/একটি ছাড়া সকল গণমাধ্যমই এই গায়েবী ফিরিস্থি প্রকাশ করেছে। মাহফুজ আনামের শুভাকাঙ্খিরা বলতে চাইছেন তখন চাপে পড়ে অনেকেই এরকম সংবাদ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সকল গণমাধ্যমের সম্পাদকরা কিন্তু দম্ভোক্তি করে বলেননি ‘আমরাই এ সরকার এনেছি, আমাদের আন্দোলনের ফসল এ সরকার’।

যেমনটা বলতেন মাহফুজ আনাম। আমরা হয়ত: ভুলে যাইনি জরুরী সরকারের ক্ষেত্র তৈরি করতে মাহফুজ আনামদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার কথা। চার দলীয় জোট সরকারের আমালে চ্যানেল আই, প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের উদ্যোগে দেশে বিভিন্ন জেলায় সৎ ও যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে নানা অনুষ্ঠান করা হতো। এসব অনুষ্ঠানে রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে এক রকম কৌশলী অপপ্রাচার চালানো হয়েছিল। এসব ছিল ক্ষেত্র প্রস্তুুতের কৌশলী প্রচারণা। এসব সভায় রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেই নানা প্রচারণা চালানো হতো।

কিন্তু মাহফুজ আনামদের বিপরীত সৎ সাংবাদিকতা বা অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদের একটা ধারা কিন্তু ছিল। এই জরুরী আইনের সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তখন হাতে গোনা দু-একজন প্রতিবাদ করতেন এবং লিখতেন। এর মধ্যে টেলিভিশন টকশোতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে কথা বলতেন নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীর, সাবেক সচিব আসাফ উদ দৌলা। আর গণমাধ্যমে লিখতেন মাহমুদুর রহমান এবং ফরহাদ মজহার। জরুরী আইনের সরকারের অন্যায়, অবিচার এবং অসাংবিধানিক কাজের প্রতিবাদ করতে গিয়েই লেখক মাহমুদুর রহমানের জন্ম।

এর আগে লেখক মাহমুদুর রহমানের জন্ম হয়নি। মাহফুজ আনামরা যখন জরুরী আইনের সরকারের অন্যায় কাজের দালালী ও সাফাই গাইছেন, মাহমুদুর রহমান তখন অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। এর আগে মাহমুদুর রহমানকে কেউ লেখক হিসাবে চিনতেন না। তিনি লিখতেনও না। তিনি হাতে কলম নেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য। মাহফুজ আনামদের মত দালালি এবং ঠেলায় পড়ে ক্ষমা চাওয়ার জন্য নয়।

পরবর্তিতে তিনি দৈনিক আমার দেশ কিনে নিয়ে পেশাদার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। মাহফুজ আনামরা মাথা বিক্রি করে সম্পাদক হয়েছেন। মাহমুদুর রহমান কারো কাছে মাথা বিক্রি করে নয়। মাহমুদুর রহমান সম্পাদক হয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের তাগিদে।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়েই তাঁর লেখক সত্ত্বার জন্ম হয়েছিল। যাকে তিনি পরবর্তিতে পেশাদারিত্বে রুপ দিয়েছেন। মাত্র ৫ বছরের লেখক-সম্পাদকের জীবনে মাহমুদুর রহমান অতিক্রম করেছেন সকল সম্পাদককে। খ্যাতির চুড়ায় পৌছেছেন তিনি। এজন্যই অন্য সম্পাদকরা তাঁর প্রতি ইর্ষাহ্নিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁর উপর যে নির্যাতন নিপীড়ন নেমে এসেছে সেটার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলছেন না। আশ্চার্য্যজনক হলেও সত্য কেউ কেউ মাহমুদুর রহমানের উপর নির্যাতনের পক্ষে বরং সাফাই গেয়ে লিখেছেন।

মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে আজ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিচ্ছে ছাত্র লীগ, যুবলীগ। মানহানির মামলাও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে এ মামলা দেয়া শুরু হয় আওয়ামী আমলের ভোর থেকে। ২০০৯ সালের নভেম্বরে সরকারের প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি প্রথম তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করে। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় একটি সংবাদ ছাপা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল-‘ভারতীয় কব্জায় বিটিআরসি’। এ মামলার একজন আসামি আমি নিজেও। কারন সংবাদটি আমার লেখা। এর বিরুদ্ধেই বিটিআরসির মানহানির মামলা।

এর কিছুদনি পরই প্রধানমন্ত্রী পুত্রের ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ নিয়ে আরেকটি সংবাদ প্রকাশ করে আমার দেশ। তখন আওয়ামী নেতারা জেলায় জেলায় মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এক দিনের ব্যবধানে মোট ২৫টি মামলা দায়ের করা হয়। অবশেষে সরকারের উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহি চৌধুরীও একটি মামলা করেন। কারন ঘুষ গ্রহনের অভিযোগে যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং তৌফিক-ই এলাহি জড়িত ছিলেন।

কিন্তু সেই মামলা ২০১৩ সালের জুন মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেই খারিজ হয়ে গেছে। এতে কি প্রমান হয় না মাহমুদুর রহমান সত্য লিখেছিলেন! কিন্তু মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে যখন ছাত্রলীগ, যুবলীগের মামলার দায়েরের হিড়িক তখন মাহফুজ আনামরা নীরব উস্কানি দিয়েছেন। কারন তাদের চরিত্রই হচ্ছে দালালী করা, ঠেলায় পড়ে ক্ষমা চাওয়া। ন্যায়, সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পক্ষে দাড়ালে কারো বিরুদ্ধে অন্যায়ের সাহস করতে পারত না কোন সরকার।

মাহমুদুর রহমান শুধু সত্য প্রকাশ করেননি। সত্য প্রকাশের করে ক্ষমা না চাওয়ায় দন্ড ভোগ করেছেন। ২০১০ সালে এপ্রিল মাসে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির দলীয় আনুগত্যের আদেশ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। শিরোনাম ছিল-চেম্বার মানেই সরকার পক্ষে স্টে।

সুপ্রিমকোর্ট আদালত অবমাননার অভিযোগে রুল জারি করে। এই রুলের জবাব দিতে তাঁকে কারাগার থেকে হাজির করা হয়। ব্যারিষ্টার রফিক উল হক থেকে শুরু করে সিনিয়র আইনজীবীরা ঘিরে ধরলেন। তাঁকে বোঝানোর চেস্টা হয়, সুপ্রিমকোর্টের রেওয়াজ হচ্ছে ক্ষমতা চাওয়া। কারো বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠলে ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে এই কোর্টের রেওয়াজ। তিনি মানলেন না।

তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আমার সাংবাদিক যা লিখেছেন এবং আমি যা প্রকাশ করেছি সব সত্য। সত্য লেখা এবং প্রকাশের জন্য ক্ষমা চাইবো না। বিচার শুরু হল। আদালতের সামনে তথ্য প্রমান উপস্থাপন করা করা হল। কিন্তু সেদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৬ জন বিচারপতির গঠিত বেঞ্চ বলেন ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স। কই মাহফুজ আনাম সাহেবরা তো এ নিয়ে টু শব্দটি পর্যন্ত করলেন না।

কারন তাদের শরীর তখন হিংসার ছাদরে ঢাকা। বরং কেউ কেউ বলার চেস্টা করেছেন মাহমুদুর রহমান ক্ষমা না চেয়ে অপরাধ করেছেন। কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট ‘ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স’ বলে নিজেরা ডিফেন্স নিলেন। মাহমুদুর রহমানকে ৬ মাসের কারাদন্ড অনাদায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হল। জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদন্ড। একই সঙ্গে সংবাদটির লেখক হিসাবে আমাকে (অলিউল্লাহ নোমান) এক মাসের কারাদন্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হল। অনাদায়ে আরো ৭ দিনের দন্ড। আমরা কেউ জরিমানা দিলাম না। অন্যায় রায়ের জরিমানা দেয়া থেকে আমরা বিরত থাকলাম। আমরা দুইজনই এজন্য অতিরিক্ত কারাদন্ড ভোগ করেছি। কিন্তু মাহফুজ আনামরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব ছিলেন। মাহফুজ আনামরা যদি সেদিন সত্যের পক্ষে দাড়াতেন তাহলে সম্পাদক, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কেউ অন্যায় ভাবে কিছু করতে সহস করত না।

মাহমুদুর রহমান এখনো অন্যায় জুলুমের শিকার। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর দৈনিক আমার দেশ স্কাইপ স্ক্যান্ডাল প্রকাশ করল। এই স্কাইপ স্ক্যান্ডালের নায়ক নিজামুল হক নাসিম ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ কলেন। অথচ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তখন রাষ্ট্রদ্রোহ এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দেয়া হয়। দৈনিক আমার দেশ বন্ধ করে দেয়া হয়।

অথচ প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীর টেলি কথোপকথন একই কায়দায় প্রকাশ হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের এক বিচারপতির সাথে প্রধান বিচারপতির টেলিসংলাপ প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিট মিডিয়া তা প্রকাশ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। কোন পত্রিকা এবং টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধও করা হয়নি। আমরা চাইনা কারো বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশের দায়ে মামলা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হউক। কিন্তু মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কেন এত জুলুম!

২ সপ্তাহ গত হয়ে গেছে মাহমুদুর রহমান সকল মামলায় জামিন পেয়েছেন। মামলায় জামিন হওয়ার পর বেলবন্ড কারাগারে পৌছালে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হচ্ছে কতৃপক্ষের আইনি দায়িত্ব। সকল মামলায় জামিন হলে অন্য মামলায় পিডব্লিউ থাকলে প্রত্যাহার আদেশ দেওয়া ম্যাজিষ্ট্রের আইনি দায়িত্ব।

কিন্তু মাহমুদুর রহমানের পূর্ব জামিন পাওয়া একটি মামলায় পিডব্লিউ প্রত্যাহার করছে না ম্যাজিস্ট্রে। আইনের সম্পুর্ণ বিপরীতে গিয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। পিডব্লিউ প্রত্যাহার আবেদনের আদেশ দিচ্ছে না ২সপ্তাহ গত হয়েছে।

এতে কি একজন সম্পাদক চরম অবিচার, জুলুমের শিকার হচ্ছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে এ অন্যায়, জুলুম, অবিচার কি অসত্য কিছু প্রকাশের দায়ে। নাকি মাহফুজ আনামদের মত গায়েবী সোর্স থেকে কারো চরিত্র হননের অভিযোগে। মাহমুদুর রহমান অসত্য বা গায়েবী সোর্স থেকে প্রাপ্ত চরিত্র হননের ফিরিস্তি প্রকাশ করেননি।

লেখক: অলিউল্লাহ নোমান, দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026