অন্যকিছু নিউজ ডেস্ক: নিলামে উঠেছিল গত শতাব্দীর তিন দশক মাতানো বিটলস ব্যান্ডের প্রধান জন লেননের এক গোছা চুল। প্রায় ৫০ বছর ধরে সংরক্ষণ করা হয় চার ইঞ্চি লম্বা এই চুলের গোছা। ধারণাই করা হচ্ছিল, দামের ক্ষেত্রে লাখ টাকা পেরিয়ে যাবে লেননের চুলের গোছা।
সে
ই ধারণাকে সত্যি প্রমাণিত করেই এটি বিক্রি হয়েছে শেষ পর্যন্ত রেকর্ড ৩৫ হাজার ডলারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এ খবর জানিয়েছে সিএনএন। খবরে বলা হয়, টেক্সাসের হেরিটেজ অকশনস নিলামে তোলে জন লেননের চুলের গোছা। এর আগে লেননের চুল নিলামে উঠলেও এত বড় চুলের গোছা নিলামে উঠেনি।
তাই এর চাহিদা ছিল লেনন ভক্ত ও স্মারক সংগ্রহকারীদের কাছে অত্যন্ত আকাক্সিক্ষত। শেষ পর্যন্ত এই নিলামে বাজিমাত করেছেন পল ফ্রেজার নামের এক বৃটিশ নাগরিক। আর তার জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৩৫ হাজার ডলার বা প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এটি লেননের চুলের বিক্রির হিসাবে রেকর্ডও। হেরিটেজ অকশনস জানিয়েছে, ফ্রেজার নিয়মিতই বিনোদন জগতের বিভিন্ন স্মারক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে থাকে।
নিলাম কোম্পানির সংগীত স্মারক বিভাগের পরিচালক গ্যারি শ্রুম বলেন, নিলামে ওঠা লেননের চুলের গোছার মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড়। এর রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হওয়ার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, পঞ্চাশ বছর পরেও জন লেনন ও বিটলসের প্রতি বিশ্বব্যাপী মানুষের ভালোবাসা এতটুকু কমেনি।’ লেননের এই চুলের গোছা কাটার ইতিহাসও রয়েছে।
১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় রিচার্ড লেস্টারের প্রযোজনা ও পরিচালনায় নির্মিত হাউ আই ওন দ্য ওয়ার নামের একটি ডার্ক কমেডি মুভি। কাল্পনিক বৃটিশ সেনাদের ওপর নির্মিত এই ছবিতে জন লেনন অভিনয় করেন মাস্কেটিয়ার গ্রিপউইড নামের একটি চরিত্রে। আর এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই কাটতে হয় লেননের চুল। ১৯৬৬ সালে এর শুটিংয়ের আগে হেয়ারড্রেসার ক্লস বারুক লেননের চুল কাটেন। বারুক এই ঘটনায় অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং স্থানীয় সংবাদপত্রকে বলে তিনি এর সংবাদও করান।
বারুক লেননের স্বাক্ষর করা একটি কল শিটও (চলচ্চিত্রে শুটিংয়ের শিডিউল সংক্রান্ত একটি ডকুমেন্ট) সংগ্রহ করেন। নিলামে লেননের চুলের গোছার সঙ্গে ছিল বারুকের সংগ্রহে থাকা কল শিট ও জন লেননের চুল কেটে নতুন গেটআপে হাজির হওয়া বিষয়ক সংবাদসহ দুইটি ঐতিহাসিক সংবাদপত্র।
উল্লেখ্য, জন লেনন ১৯৫৭ সাল থেকেই সংগীত জগতের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৬০ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘বিটলস’ ব্যান্ড, যা বিশ্বব্যাপী সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যান্ডের মধ্যে অন্যতম। জন লেনন নিজে গান গাইতেন, লিখতেন ও সুর করতেন। লেননের গানের অন্যতম প্রধান একটি দিক ছিল মানবিক আবেগ-অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। ১৯৮০ সালে মাত্র ৪০ বছর বয়সে আততায়ীর গুলিতে খুন হন লেনন।