শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৩

পনেরো দিনের মধ্যে মেয়র জটিলতার অবসান

পনেরো দিনের মধ্যে মেয়র জটিলতার অবসান

নিউজ ডেস্ক: সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ভারপ্রাপ্ত মেয়র পদ নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটছে শিগগিরই। বৃহস্পতিবার সিসিক’র প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান লোদীর আইনজীবী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী।

দুপুরে সিলেট নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী তথ্য দেন, সিসিক’র প্যানেল মেয়র-১ রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং প্যানেল মেয়র-২ সালেহ আহমদ চৌধুরীর দায়েরকৃত দুটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে ১৫ দিনের মধ্যে নির্ধারিত হবে কে হচ্ছেন সিসিক’র ভারপ্রাপ্ত মেয়র।

তিনি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং-১১৯২৫/২০১৪ এবং প্যানেল মেয়র-২ সালেহ আহমদ চৌধুরীর দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং-৩৬৫/২০১৫ একত্রে শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৫ সালের ৬ই মে যে রায় প্রদান করেন, সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি গত ২২শে ফেব্রুয়ারি আমরা হাতে পেয়েছি।

অ্যাডভোকেট মোস্তাক বলেন, বিচারপতি নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম কর্তৃক দেয়া রায়ে গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পয়েন্ট রয়েছে। রায়ের কপির ১৫নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য লোদীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে প্যানেল মেয়র লোদী যেহেতু কখনো মেয়রের দায়িত্ব পালন করেননি, সেহেতু তার ক্ষমতা অপব্যবহারের সুযোগই ছিল না।

অধিকন্তু, কাউন্সিলর হিসেবেও ক্ষমতা অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নেই। রায়ের ১৬নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- লোদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়নি এবং কারণ দর্শানোর নোটিশও জারি করা হয়নি। তিনি বলেন, প্রদত্ত রায়ের ১৬নং পৃষ্ঠায় আরো বলা হয়েছে- কয়েস লোদীর প্যানেল মেয়র পদবি ব্যবহারে আইনে কোনো বাধা নেই। অধিকন্তু, প্যানেল মেয়র পদবি আইনেরই সৃষ্টি। রায়ের ১৯নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- প্যানেল মেয়র কয়েস লোদীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান আইনের ১৪ ধারা অনুসরণ করা হয়নি।

লোদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাক আরও বলেন, যে রেজুলেশনে কয়েস লোদীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়, সেই রেজুলেশন বিদ্যমান আইনের ধারা অনুযায়ী অনুমোদন করা হয়নি। কিন্তু ২০১৪ সালের ১০ই জুন গৃহীত রেজুলেশনটি ওই বছরের ১৮ই ডিসেম্বর অনুমোদন করা হয়। রিট চলাকালে এই অনুমোদনকে ভর্ৎসনা করে এটিকে আইনের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন আদালত।

অ্যাডভোকেট মোস্তাক বলেন, প্রদত্ত রায়ের ২১ ও ২২ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে- বিদ্যমান আইনের ২০ ও ২১ নং ধারা অনুসারে প্যানেল মেয়র-১ অনিচ্ছা প্রকাশ না করলে প্যানেল মেয়র-২ ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং, সিসিক’র মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ২০১৪ সালের ২৯শে ডিসেম্বর যে আদেশবলে প্যানেল মেয়র-২ কে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেন তা আইনানুগ নয়।

আদালত বিভিন্ন বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করে বিষয়টির উপর ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং এর পূর্ব পর্যন্ত সিসিক’র প্রধান নির্বাহীকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের আদেশ দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রারম্ভিব বক্তব্য রাখেন সিসিক’র প্যানেল মেয়র-১ রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026