আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ছোটবেলার বন্ধু হতিন কিয়াও সুখে-দুঃখে সব সময় সু চির পাশে থেকেছেন। একসময় সু চির গাড়িও চালিয়েছেন। বিপদের সময় এবারও এই বন্ধুকেই মনোনীত করেছেন সু চি। মিয়ানমারের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে কিয়াও লড়বেন সু চির দল ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) হয়ে।
এএফপির খবরে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার এনএলডি প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হিসেবে হতিন কিয়াওয়ের নাম ঘোষণা করেছে। ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর প্রবর্তিত সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, স্বামী-সন্তান বিদেশি নাগরিক হওয়ায় এনএলডি প্রধান সু চি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারবেন না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন সু চি। বন্ধু ও কাছের মানুষ হতিন কিয়াও প্রেসিডেন্ট হলে তাঁর মাধ্যমেই সু চি দেশ শাসন করতে পারবেন বলে মনে করছেন বিজ্ঞজনেরা।
হতিন কিয়াও বিখ্যাত কবি ও এনএলডির প্রবীণ নেতা মিন থু উউনের ছেলে। মিয়ানমারে গণতন্ত্রের আন্দোলনের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সু চির পাশে সব সময় থেকেছেন কিয়াও। কিয়াওয়ের স্ত্রী সু সু এলউইন এনএলডির সাংসদ। এলউইনের বাবা একসময় দলের মুখপাত্র ছিলেন। স্বল্পভাষী কিয়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সত্তর ও আশির দশকে তিনি শিল্প ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন।
মিয়ানমারের পার্লামেন্টের দুই কক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটি হবে। দুই কক্ষেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এনএলডির। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে পার্লামেন্টে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এনএলডি। তবে মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের এক-চর্তুথাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে।