বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০১:০২

জিসিসি নির্বাচন: কর ফাঁকির দায়ে মান্নানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নোটিশ

জিসিসি নির্বাচন: কর ফাঁকির দায়ে মান্নানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নোটিশ

এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থী ও ক্যাপিটাল প্রোপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক এম এ মান্নানেরে ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে বলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।  বকেয়া কর পরিশোধ না করায় এই সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। এনবিআর থেকে চিঠি পাঠিয়ে মান্নানেরে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের গুলশান শাখার ব্যাংক হিসাবটি জব্দের নোটিশ দেয়া হয় বলে জানা যায়।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মান্নানের ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এম এ মান্নান স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে যে আয়কর বিবরণী দাখিল করেন তাতে তিনি মোট আয় দেখিয়েছেন ৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তিনি কর বাবদে পরিশোধ করেছেন ৭০ হাজার ৪১৪ টাকা। আর জাতীয় রাজস্ব রোর্ডের দাবি ২৪ লাখ ৫৬ হাজার ৮০১ টাকা। এর মধ্যে ২০০৭-০৮ অর্থবছরের জন্য বকেয়া রয়েছে ২৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮১ টাকা। বাকি পাওনা ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য। এনবিআর তার এই তথ্য আস্থায় নিতে না পেরে আয় ও সম্পদের পরিমাণ যাচাইয়ের জন্য বিশেষ তদন্ত চালায়। অবশ্য মান্নানের দাবি, তিনি সঠিকভাবে কর পরিশোধ করলেও এনবিআর তার কাছে অতিরিক্ত কর দাবি করছে। এনবিআরের অনুসন্ধানে দেখা যায় ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে মান্নানের মোট আয়ের পরিমাণ ছিল ৯৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে করের পরিমাণ হয় ২২ লাখ ৪ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা।

এম এ মান্নান ২০০৭-০৮ অর্থবছরের সম্পদ বিবরণীতে যে সম্পদের তথ্য দিয়েছেন, তার মধ্যে ৩ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকার অপ্রদর্শিত আয় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এনবিআরের এ দাবির প্রেক্ষিতে আপিল করেন এম এ মান্নান। আপিলের পর হিসাব শেষে তার মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৬ লাখ ৮ হাজার টাকা। এর ভিত্তিতে তাকে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩৪ টাকা কর দিতে বলা হয়। কিন্তু মান্নান আবারো আপিল করেন। ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার সংশোধিত আয় দাঁড়ায় ৯৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৮ টাকা। যার বিপরীতে ২৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮১ টাকার কর দাবি করে এনবিআর, যার পুরোটাই বকেয়া রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী ঋণ খেলাপী ও বিল (পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন) খেলাপীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। আয়কর আইনেও কর খেলাপীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ রয়েছে। তবে গত ৯ জুন মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা মান্নানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। আগামী ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মান্নান এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত আজমত উল্লাহ খানসহ মোট ৬ জন মেয়র পড়ে লড়ছেন।

এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গাজীপুরে সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নিশ্চিত ভরাডুবি হবে তাই তারা বিএনপি প্রার্থীকে কোনভাবে নির্বাচন থেকে বাদ দেয়া যায় কিনা সেজন্য বিএনপি মেয়র প্রার্থী মান্নানকে নাজেহাল করছে। এতে তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী করে করেন।

 

সম্প্রতি এনবিআর থেকে চিঠি পাঠিয়ে ক্যাপিটাল প্রোপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের এই পরিচালকের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের গুলশান শাখার ব্যাংক হিসাবটি জব্দের নোটিস দেয়া হয়।

 

 

কিন্তু

 

মান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এনবিআরের এ দাবি অযৌক্তিক। আমি ইতোমধ্যে কর কমিশনারের কাছে আপিল করেছি।”

 

সরকারের দেয়া কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগে তিনি গাজীপুর ফ্যাশনস লিমিটেডের শেয়ার কিনেছেন ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার। এছাড়া গাজীপুর সদরে ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকার জমি এবং গাজীপুরের দক্ষিণ সালনায় ৪০৪ শতাংশ জমি কিনেছেন ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকায়।

 

আর বকেয়া কর আদায়ের জন্য এনবিআর ১৩ জুন মান্নানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে।

 


এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com