সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ: বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮শ কোটি ডলার চুরি বা কম্পিউটার সুইফট কোড হ্যাক এর মাধ্যমে ম্যানিলার যে ব্যাংকের মাধ্যমে ট্রান্সফার হয়, সেখানকার সিনেট কমিটিতে শুনানীর সময় ব্যাংকটির অফিসিয়াল জানিয়েছেন, ৭৮০,০০০ বাংলাদেশী ও ফিলিপোনো নোটের মিক্স সম্বলিত ক্যাশ একজন চায়নিজ অরিজিন ক্যাশ পেমেন্ট নিয়েছেন। ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি, ফিলিপাইন্সের এন্টি করাপশনা সিনেট কমিটির হেড টিওফেস্টো
গু
ইঙ্গেনা রয়টার্সের কাছে জানিয়েছেন, ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের একটি ব্রাঞ্চ উইক্যানগ জু নামের এক চায়নিজ এথনিক অরিজিন লোক এর নামে এবং দুটি ক্যাসিনোর একাউন্টে এই টাকা জমা করা হয় বা ট্রান্সফার করা হয়। আর যখন ঐ ব্যক্তিকে ব্যাংকটি পেমেন্ট দেয়, তখন ব্যাংকটির সিসিটিভি কাজ করছিলোনা, ঠিক একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাক রুম, সুইফট কোড সিস্টেম রুমের সিসিটিভিও কাজ করেনি বলে রিপোর্ট করেছে রয়টার্স।
সিনেট কমিটির শুনানীতে আরো জানান হয়েছে, ৩০ মিলিয়ন ডলার এই জু এর একাউন্টে জমা করা হয়। এবং ২৯ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের ব্লুম্ব্যারি রিসোর্ট কর্পোরেশন- যারা ২০১৫ সালের ফোর্বসের জরিপ অনুযায়ী ফিলিপাইনের পঞ্চম বৃহত্তম ধনী রিসোর্ট কর্পোরেশন এর মালিক সোলারি- একতি ক্যাসিনো রিসোর্টের এই ব্যক্তির ডেড এন্ড একাউন্ট- যার মানে হলো কেবল মাত্র উইনিং একাউন্ট মানি উত্তোলন করা যাবে- এমন একাউন্টে জমা হয়।
এই ব্লুমব্যারি কর্পোরেশনের সেক্রেটারি সিলভ্যারিও ব্যানি টান সিনেট কমিটির শুনানীতে স্বীকার করেছেন, এই ২৯ মিলিয়ন ডলার তাদের ডেড এন্ড একাউন্টে জো এর নামে জমা হয়। আর ২১ মিলিয়ন ডলার জমা হয় নর্দার্ণ ফিলিপাইনের ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানিতে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই গেমিং কোম্পানীর অনেকগুল নম্বরের সব কটিতে যোগাযোগের চেস্টা করেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
আর ফিলিপাইনের এন্টি মানি লন্ডারিং কমিটি বলছে, ক্যাসিনোর ডেড এন্ড একাউন্টে তাদের কন্ট্রোল তথা আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে তারা এখন এফবিআইয়ের সহায়তা চাচ্ছে। এই হিসেবে বাংলাদেশের মানি ফেরত পাওয়া ভীষণ কষ্টকর এক উপাখ্যান এবং তা যদিও হয়, তথাপি অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে সেটা অনেক ডিফিকাল্ট- যদিও ঢাকা বলছে এই টাকা তারা ফেরত পাবে বলে আশা করছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্ণর নৈতিক দায় দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করেছেন।