সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৬:৫৪

বিএনপি সরলে সংঘাত আরও বাড়বে

বিএনপি সরলে সংঘাত আরও বাড়বে

নিউজ ডেস্ক: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন থেকে বিএনপি সরে গেলে দলীয় অন্তঃকোন্দল ও সহিংসতা আরও বাড়বে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতাদের মতে, মাঝপথে সরে গেলে বিএনপির রাজনীতি শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে মাঠ একেবারে ফাঁকা হয়ে গেলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীদের লড়াই তীব্র হবে। এতে অন্তঃকোন্দলের সঙ্গে বাড়তে পারে হানাহানিও।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দলীয় ভিত্তিতে প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে। এতে কিছুটা অস্থিরতা আছে। তবে যেসব ঘটনা ঘটছে, এগুলো না থাকাই ভালো।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হানাহানি নিয়ে আওয়ামী লীগের দুজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, তিনজন সম্পাদকমণ্ডলী এবং দুজন সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলছেন, মাঝপথে বিএনপি সরে গেলে দলটির রাজনীতি বলে আর কিছু থাকবে না, কিংবা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে অথবা দলটির নেতা-কর্মীরা আরও গর্তের মধ্যে ঢুকে যাবেন।

তবে আওয়ামী লীগেরও ক্ষতি হবে। যখন মাঠে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকে না, তখন নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে সহিংসতা ঘরে ঘরে চলে যাবে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। তাঁরা মনে করেন, নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বিএনপি নেবে না।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, আমরা আশা করি, নির্বাচনের মাঝ থেকে বিএনপি সরে যাবে না। সরে গেলেও অন্য প্রতীক নিয়ে তাদের দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন। মাঠ ফাঁকা থাকবে না।’ আর সহিংসতা রোধে কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থীদের সংযত হতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

সারা দেশের ৪ হাজার ২৭৫টি ইউপিতে মোট ছয় ধাপে ভোট গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে ২২ ও ৩১ মার্চ। দুই দফায় ১ হাজার ৩৫৬টি ইউপির নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি জিতেছে ১০৮টিতে, বাকিগুলোতে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন। এই বিরাট সাফল্যেও স্বস্তি দিচ্ছে না দলটিকে। কারণ, নির্বাচনের আগে ও পরে নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই সরকারি দলের। ফলে দলটির নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের একজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আধিপত্যের লড়াই হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। সরকার ভেবেছিল, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। উপরন্তু বিদ্রোহীদের সঙ্গে দল-সমর্থিত প্রার্থীদের সংঘাত বাড়ছে। তাঁর মতে, বিদ্রোহীদের দমাতে সঠিক পদ্ধতি এখনো তাঁর দল নেয়নি। তা ছাড়া ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সংঘাত নিরসনে নির্বাচন কমিশন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এরই মধ্যে বিএনপি যদি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘাত কোনোভাবেই কমানো সম্ভব হবে না।

ইউপি নির্বাচনে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদও। তিনি গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে নির্বাচনী সংস্কৃতির পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে মাঠ থেকে বিরোধিতা কমতে শুরু করেছে। এটা থামারও কোনো লক্ষণ দেখছি না। যেহেতু মাঠে বিরোধী দল নেই, তাই এখন আর আদর্শের লড়াই হচ্ছে না, হচ্ছে আধিপত্যের লড়াই। বিএনপি সরে গেলে এই আধিপত্যের লড়াই আরও বাড়বে বলে তাঁর ধারণা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026